চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) এস এম বশির উদ্দিনকে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি)-তে বদলির ৫১ দিন পর আবারও চমেক হাসপাতালের স্বপদে বহাল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ রুমীর স্বাক্ষরিত আদেশে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে গত ১৪ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক প্রজ্ঞাপনে বশির উদ্দিনকে চমেক হাসপাতাল থেকে বিআইটিআইডিতে একই পদে বদলি করা হয়। ওই প্রজ্ঞাপনের স্মারক নম্বর ২৭২৩/১(১৩)। তবে বদলি আদেশ জারির পর সেটি ঠেকাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে দেনদরবার ও তদবিরের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ রুমীর দপ্তরে বদলি বাতিলের জন্য তদবির করেন বশির উদ্দিন।

চমেক হাসপাতালের এই মেডিকেল টেকনোলজিস্ট বলেন, ‘এর কোনো প্রমাণ আছে কি? আমি তো কোনো জায়গায় দেনদরবার বা তদবির করিনি। না, না—এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি আপনার সঙ্গে বসে কথা বলে বিষয়টি স্পষ্ট করতে পারব। আমি যেহেতু একটি সংগঠনের সহ সভাপতি, সেহেতু সবার সঙ্গে একটা সম্পর্ক থাকবেই। তবে আমি কোনো রাজনৈতিক ইস্যুতে কারও কাছে যাইনি। ভালো কোনো স্টেশনে যাওয়ার জন্যও আমি কোনো ধরনের তদবির করার চেষ্টা করব না।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এস এম বশির উদ্দিন দীর্ঘদিন চমেক হাসপাতালের বঙ্গবন্ধু মেডিকেল টেকনোলজি পরিষদের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ওই সময় তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) চট্টগ্রামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. ফয়সল ইকবাল চৌধুরী ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসেবে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন।

তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতায় পরিবর্তন আসে বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন নেতাকর্মীর সঙ্গে তাকে সভা-সমাবেশে দেখা গেছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। এ নিয়ে চমেক হাসপাতালের সংশ্লিষ্টদের মধ্যেও আলোচনা রয়েছে।

এদিকে, একটি নিয়মিত প্রশাসনিক বদলি আদেশ জারির পর ৫১ দিনের মাথায় সংশ্লিষ্ট কর্মীকে আবারও আগের কর্মস্থলে বহাল করার ঘটনায় স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

 বদলি আদেশটি কী প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন করা হলো এবং এর পেছনে কোনো ধরনের তদবির বা প্রভাব কাজ করেছে কি না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

বদলি ঠেকাতে তদবিরের অভিযোগের বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ রুমীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমার দপ্তরে প্রতিদিনই অনেক লোক আসে, সেহেতু আমাকে খবর নিয়ে জানাতে হবে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বদলি আদেশের পর ৫১ দিন পেরিয়ে বশির উদ্দিনকে আবারও চমেক হাসপাতালে স্বপদে বহাল করার বিষয়টি এখন স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বদলি বাতিলের পেছনে প্রশাসনিক কারণ, নাকি কোনো ধরনের প্রভাব বা তদবির তা স্পষ্ট হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার।