চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ছাত্রদল নেতা থেকে নগরপিতা। মাঝে ৩৯ বছরের লম্বা রাজনৈতিক ক্যারিয়ার। কারাগারে থেকে অংশ নিয়েছিলেন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। রাজনৈতিক প্রতিকূল পরিবেশেই করেছিলেন দলের মনোনয়নে মেয়র পদে নির্বাচন। মেয়র নির্বাচিত হতে না পারলেও দলের নেতাকর্মীদের কাছে পেয়েছিলেন জনতার মেয়র খ্যাতি। হামলা-মামলা, জেল-হুলিয়া উপেক্ষা করেই রাজপথে ছিলেন একজন লড়াকু নেতা। দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর আইনি লড়াইয়ের পর ৩ নভেম্বর ২০২৪ ।চট্টগ্রামের মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
জন্ম এবং গ্রামের বাড়ি
১৯৬৬ সালের ২ জুন চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার হরলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শাহাদাত হোসেন ।
শাহাদাতের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার
৩৯ বছর আগে ছাত্রদল দিয়ে রাজনীতি শুরু শাহাদাত হোসেনের। ছাত্রদলের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাত হোসেন নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সাহসী ভূমিকা রাখেন । ১৯৮৬ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নকালে জড়িত হন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কর্মকাণ্ডে। ১৯৮৭ সালে কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক করা হয় তাঁকে। দুই বছরের মাথায় ১৯৮৯ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ছাত্র দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয় তাঁকে। শিক্ষাজীবন শেষ হবার পর ১৯৯১ সালে বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ড্যাব এর সঙ্গে। এরপরই তিনি নজরে আসেন তারেক রহমানের। দায়িত্ব পান সংগঠনের চট্টগ্রাম জেলা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতির। বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ) চট্টগ্রামের নির্বাচনে অংশ নিয়ে যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন। একই সময় নিজের এলাকায় বাকলিয়ায় শুরু করেন মূল দল বিএনপির রাজনীতি। ২০০১ সালে বাকলিয়া থানা বিএনপির সদস্য সচিব, ২০০৪ সালে সাধারণ সম্পাদক ও ২০০৭ সালে থানা বিএনপির সভাপতি হন তিনি। এসময় বাকলিয়া এলাকাকে বিএনপির শক্ত ঘাটি হিসেবে গড়ে তুলতে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন শাহাদাত। ওয়ান ইলেভেনের সময় যখন দলের অনেক নেতা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। কেউ দেশের বাইরে চলে যান আবার কেউ দেশের ভেতরে আত্মগোপনে চলে যান। এসময় কেন্দ্রীয় কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদকেরও দায়িত্ব পান তিনি। ২০০৯ সালে নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক করা হয় তাঁকে। আর সভাপতি হন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ২০১৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত আমির খসরুর সঙ্গে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নগর বিএনপিতে একজন জনপ্রিয় নেতা হিসেবে দলের কর্মী-সমর্থকদের কাছে নিজেকে গড়ে তুলেন তিনি। ২০১৬ সালের ৬ আগস্ট ডা. শাহাদাতকে নগর বিএনপির সভাপতি করা হয়। পরবর্তীতে আরও দুই দফা নগর বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শাহাদাত। সর্বশেষ গত ১৩ জুন ২০২৪ তাঁর নেতৃত্বাধীন নগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয় এবং পরবর্তীতে এরশাদ উল্লাহকে আহ্বায়ক ও নাজিমুর রহমানকে সদস্য সচিব করে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই মুহূর্তে দলের কোন পর্যায়ে দায়িত্বে না থাকলেও চট্টগ্রাম নগর বিএনপির রাজনীতিতে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন শাহাদাত।
মামলা ও কারাগার
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যেতে হয়েছে চিকিৎসক শাহাদাতকে। ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জায়গায় শতাধিক রাজনৈতিক মামলায় আসামী করা হয় তাঁকে। মাসের অধিকাংশ দিনই মামলা হাজিরা দিতে দৌড়াতে হয় আদালত পাড়ায়। কারাগারে বন্দী অবস্থাতেই একাদশ জাতীয়