নগরের খুলশীতে একটি ভবন ভাড়া নিয়ে অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের ৬৩ নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।  অভিযানে তাদের কাছ থেকে ১৩৪টি মোবাইল ফোন, ৫৭টি ল্যাপটপ, একটি ট্যাবসহ অনলাইন প্রতারণায় ব্যবহৃত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে।

 
এর আগে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরের খুলশী থানাধীন কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কের একটি ভবনে এ অভিযান চালায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও খুলশী থানা পুলিশ।

অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ১৩৪টি পুরোনো ও ব্যবহৃত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন, ৫৭টি ল্যাপটপ, একটি অ্যাপল ট্যাব, একটি সিপিইউ, একটি স্যামসাং মনিটর, একটি কিবোর্ড, একটি মাউস, একটি প্রিন্টার, পাঁচটি পেনড্রাইভ ও চারটি সিমকার্ড।


এ ছাড়া তিনটি পাকিস্তানি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং একটি কম্বোডিয়ান এমপ্লয়মেন্ট কার্ডও উদ্ধার করা হয়েছে।
সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ  বলেন, গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশি প্রায় দেড় মাস আগে ভবনটি ভাড়া নেন।

এরপর থেকে সেখানে অবস্থান করে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করে অনলাইন প্রতারণা এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।
তিনি আরও বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের একটি দল খুলশী থানা পুলিশের সহায়তায় ভবনটিতে অভিযান চালায়।

অভিযানে বিদেশি নাগরিকদের আটক ও পরে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা প্রায় দেড় মাস আগে কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ওই ভবনটি ভাড়া নিয়ে প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে আসছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ভাড়া বাসায় অবস্থান করে অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করে প্রতারণা ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন।


খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুর রহিম  জানান, বাংলাদেশে তাদের সংঘবদ্ধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্নে পরিচালনার জন্য দেশীয় ও বিদেশি সহযোগী রয়েছে। তাদের সহযোগীদের মধ্যে আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পরস্পরের যোগসাজশে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সংঘবদ্ধভাবে আর্থিক প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ এবং আইনানুগ কর্তৃত্ববহির্ভূত ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে অপরাধ করে আসছিলেন। তবে তারা কী ধরনের অনলাইন প্রতারণা করতেন এবং এ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে দেশি-বিদেশি আর কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে খুলশী থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। 

গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে কক্সবাজার শহরের একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণার অভিযোগে ছয় বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের মধ্যে পাঁচজন চীনের ও একজন তাইওয়ানের নাগরিক ছিলেন। ওই সময় তাদের কাছ থেকে ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন, ৪০টি ল্যাপটপ ও বিভিন্ন যোগাযোগ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। কক্সবাজারের ওই অভিযানের পর পুলিশ জানিয়েছিল, চীন ও তাইওয়ানের কয়েকশ নাগরিক কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ এলাকার দুটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন।