চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য কাজে লাগিয়ে চট্টগ্রামকে আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা হবে। বাংলাদেশের রয়েছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত, সমুদ্রের গর্জন, পাহাড়, ঝরনা, লেকসহ অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ। এত বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও পর্যটন খাতের কাঙ্ক্ষিত বিকাশ এখনও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ পর্যটন শিল্পকে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে গড়ে তুললেও বাংলাদেশে এ খাতের সম্ভাবনাকে আরো পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।
জেলা প্রশাসক আজ চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, বর্তমান বিশ্বে একজন পর্যটক কোনো স্থানে যাওয়ার আগে ইন্টারনেট ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সেই স্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন। কিন্তু বাংলাদেশের অনেক পর্যটন স্থান এখনও বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপিত হয়নি। ফলে বিশ্বের মানুষের কাছে এসব স্থানের সম্ভাবনা ও সৌন্দর্য সেভাবে পৌঁছাচ্ছে না। তাই পর্যটন কেন্দ্রগুলোর আধুনিক ও আকর্ষণীয় ডিজিটাল উপস্থাপন নিশ্চিত করতে হবে।কারণ একজন পর্যটক তার সময় ও অর্থ ব্যয় করে কোনো স্থানে গেলে তিনি সেই ব্যয়ের যথাযথ অভিজ্ঞতা ও স্বাচ্ছন্দ্য প্রত্যাশা করেন। তার থাকার ব্যবস্থা, খাবারের মান, চলাচলের সুবিধা, বিনোদন, নিরাপত্তা এবং সার্বিক পরিবেশ।এই সবকিছু মিলিয়েই তার পর্যটন অভিজ্ঞতা তৈরি হয়। তাই পর্যটকদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা পর্যটন শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকের দায়িত্ব।
জেলা প্রশাসক আরো বলেন, পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিতে গতানুগতিক চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসে দীর্ঘমেয়াদি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। পর্যটকের স্বাচ্ছন্দ্যকে কেন্দ্র করে পর্যটন অবকাঠামো ও সেবার মান উন্নত করতে হবে। শুধু স্বল্পমেয়াদি লাভের চিন্তা করলে এ খাতকে কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীকে পর্যটন খাতের উন্নয়নে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে জেলা প্রশাসক বলেন, বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক তরুণকে পর্যটন শিল্পের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পৃক্ত করার বিশাল সুযোগ রয়েছে। পর্যটন খাতের বিকাশ শুধু সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন, পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, পরিবহন খাত, হোটেল-মোটেল, রেস্টুরেন্টসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়ে জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, বাংলাদেশে টুরিস্ট পুলিশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা থাকলেও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এসব সীমাবদ্ধতা ধীরে ধীরে অতিক্রম করতে হবে। একজন পর্যটক যেন নিরাপদে চলাফেরা করতে পারেন এবং পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটাতে পারেন—সেই পরিবেশও নিশ্চিত করতে হবে।
বক্তারা বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নিজেদের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে পর্যটন ও অন্যান্য খাতে উন্নতি করেছে। তাই আমাদেরও সীমাবদ্ধতাকে সামনে রেখে থেমে থাকলে চলবে না। প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট ভিশন, দৃঢ় ইচ্ছা এবং সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ। চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড়, সমুদ্র, লেক ও ঐতিহ্যকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগিয়ে এ অঞ্চলকে আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠার সুযোগ রয়েছে।
জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন,চট্টগ্রামের ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আধুনিক পর্যটন ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সমন্বয় করে আগামী দিনে পর্যটন শিল্পের কাঙ্ক্ষিত বিকাশ ঘটানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বিশ্ববাসীর কাছে চট্টগ্রামকে আরো পর্যটকবান্ধব ও আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
চট্টগ্রাম রিজিয়ন ট্যুরিস্ট পুলিশ সুপার উত্তম প্রসাদ পাঠক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন।
আলোচনা সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।