জ্বালানি সংকটে বন্ধ দেশের সব তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রেও উৎপাদন কমিয়ে দিয়ে সারাদেশে এলাকাভিত্তিক কমপক্ষে এক ঘণ্টা লোডশেডিং করছে বিদ্যুৎ বিভাগ। তারপরও প্রতিদিন এক থেকে দেড় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। এদিকে, গ্যাসের অভাবে চট্টগ্রামে ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড সার কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ঘাটতির কারণে গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে আবাসিকে পর্যায়েও। সরকার আশা করছে, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে বিদ্যুতের চাহিদা কমে আসবে এবং পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

 

 

সরকারের এমন আশাবাদের বিপরীতে বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমানে তেল-গ্যাসের সংকট উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। সামনের দিকে এই সংকট আরও বাড়বে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে নতুন সন্ধান পাওয়া গ্যাসক্ষেত্র থেকে দ্রুত গ্যাস উত্তোলন শুরু করতে হবে। পাশাপাশি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন শুরু করা গেলে কম সময়ের মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলবে।

 

দেশে দুইটি রাষ্ট্রায়াত্ত প্রতিষ্ঠান জ্বালানি সরবরাহ করে থাকে। এর মধ্যে গ্যাস সরবরাহ করে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা), তেল সরবরাহ করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রের সংখ্যা ২৮টি। আর গ্যাসের মজুত ২৯ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। এসব ক্ষেত্র থেকে থেকে গত এপ্রিল পর্যন্ত উত্তোলন করা হয়েছে ১৯ দশমিক ১১ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।

 

সূত্র মতে, গত ১৩ বছরে নতুন ১৭টি কূপে অনুসন্ধান চালানো হয়েছে। এর মধ্যে সাতটিতে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনযোগ্য গ্যাসের মজুত পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে যে গ্যাস আছে তা আগামী ৯-১০ বছরের মধ্যেই ফুরিয়ে যাবে। কেননা, বর্তমানে দেশের ২২টি গ্যাসক্ষেত্রে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণ ১০ লাখ কোটি ঘনফুট। আর গত এক দশকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও শিল্পায়নের পরিপ্রেক্ষিতে গ্যাসের চাহিদা বাড়তে বাড়তে বছরে এক লাখ কোটি ঘনফুটে পৌঁছেছে। সে তুলনায় গ্যাসের বড় কোনো মজুত আবিষ্কার না হওয়ায় নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা এরই মধ্যে লক্ষ্যণীয়ভাবে কমছে। যে কারণে জীবাশ্ম জ্বালানি উৎসটির ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং বেড়েছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এলএনজি’র আমদানি।