রেমিট্যান্স যোদ্ধা জহির উল্লাহর জীবনের সোনালী সময় গুলো প্রবাসে কাটালেন। দীর্ঘ ২৫ বছর প্রবাসে থেকে কষ্টার্জিত অর্থ জমিয়ে বানিয়েছেন পাঁচ তলা একটি বাড়ি । নিজের বাড়িতে যেতে পারেন না জহির উল্লাহ। জহির উল্লাহ বলেন শোকাবহ ১৫ আগস্ট পুরা জাতি শোকাহত এমন একটা দিনে আমি রেমিটেন্স যোদ্ধা, আওয়ামী লীগের কর্মী আমার বাড়িটি দখল করে নেন সাতকানিয়া পৌরসভা ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আরফাত ।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শিবলী মাহমুদ সকালের চট্টগ্রামকে বলেন, আমি তিন দিন থেকে ছুটিতে আছি, আমি যোগদান করার পর বিষয়টা দেখব।

সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ সকালের চট্টগ্রামকে বলেন, দখল হয়েছে কিনা জানিনা. তবে পারিবারিকভাবে ঝামেলা চলতেছে. অভিযোগের ভিত্তিতে আমি অফিসার পাঠিয়েছিলাম। আরফাত উল্লাহ বলেন এই বাড়ির মালিক উনি. জহির উল্লাহ বলেন এ বাড়ীর মালিক তিনি। দুই ভাই পাল্টাপাল্টি মামলাও করেছেন। আমি চেষ্টা করব আইনশৃঙ্খলার যাতে কোন অবনতি না হয়।

ভুক্তভোগী জহির উল্লাহ সকালের চট্টগ্রামকে বলেন, আমার মরহুম পিতা আবদুল গফুর চৌধুরী ৪ ভাই ও ৫ বোনের মধ্যে আমি পঞ্চম সন্তান। আমার ভাই-বোনদের মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল। আমি জীবিকার তাগিদে ১৯৯৫ সালে আরব আমিরাত গমন করি। তখন থেকে আমার আয়ের সমস্ত টাকা বৈধভাবে ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে পাঠিয়েছি।      জহির উল্লার মা মৃত আম্বিয়া বেগম ২০১৯ সালের ২০ জানুয়ারিতে ছেলেমেয়েদের কে কোন জায়গায় থাকবেন চিহ্নিত করে লিখিত দিয়ে গেছেন, সেই অনুযায়ী জহির উল্লাহ তার পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করেন এবং জহির উল্লাহ নিজে দেশে থেকে বিল্ডিং এর ফাইলিং এর কাজ করেন। পরে তার ছোট ভাই আরফাত উল্লাহকে বিদেশে যাওয়ার সময় কাজ বুঝিয়ে দেন এবং প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণ করে দেন । কাজের সমস্ত টাকা জহির উল্লাহ প্রবাস থেকে পাঠাতেন। 

জহিরউল্লাহ বলেন, বাড়ী নির্মানের পর বাড়ী বুঝিয়ে দিলেও টাকা-পয়সার হিসাবে প্রচুর গরমিল দেখা মিলে। এক পর্যায়ে হিসাব দিতে না পেরে নানা ধরণের তাল-বাহানা করতে থাকেন আরফাত।
১৫ আগষ্ট রাতে কাউন্সিলর আরফাত রাতের অন্ধকারে সন্ত্রাসী দলবল নিয়ে আমার পাঁচতলা ভবনটি দখল করে এবং আমার বসবাসের ফ্ল্যাটে থাকা ২ ভরি স্বর্ণালংকার ও আলমারিতে রক্ষিত নগদ টাকাসহ প্রায় তিন লক্ষ টাকার মালপত্র লুটপাট করে নিয়ে যায়।
এই বিষয়ে সাতকানিয়া পৌর কাউন্সিলর আরফাত উল্লাহ সকালের চট্টগ্রামকে বলেন. আমি কারো বিল্ডিং দখল করিনি আমার বিল্ডিংয়ে আমি আছি। ১৫ ই আগস্ট রাত্রি আপনি দলবল নিয়ে জহিরউল্লার বিল্ডিং দখল করেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি আপনার সাথে দেখা করব

সরেজমিনে উক্ত বিষয়ে এলাকার লোকজনের কাছে জানতে চাইলে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সাতকানিয়া পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডে নির্বাচনে জয়ী হয় আরফাত উল্লাহ। ক্ষমতা পাওয়ার পর থেকে আরফাতের আসল রূপ প্রকাশ হতে থাকে।যে ভাই জহির উল্লাহ তাদের পরিবার পরিজন চালিয়েছেন। নানাভাবে সে ভাই জহির উল্লার টাকা আত্মসাৎ ও বাড়ী দখলের পরিকল্পনা শুরু করে। এক পর্যায়ে সন্ত্রাসী লোকজন নিয়ে জহির উল্লাহ বাড়ী দখল করে নেয় ।

উল্লেখ্য, আরফাত উল্লাহর ভয়ে জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত, চট্টগ্রামে সাধারণ ডায়েরী করেছে জহির উল্লাহ। ( যার ডায়েরী নং ২২৫/২০২২ইং)। জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত, চট্টগ্রামের আমলী আদালতে সি.আর মামলাও করেছেন প্রবাসী জহির উল্লাহ। (যার মামলা নং- ৩৫১/২০২২ইং)। সাতকানিয়া অফিসার ইনচার্জ বরাবরে একটি এজাহারও দাখিল করেছেন জহির উল্লাহ । প্রবাস জীবনের কষ্টে অর্জিত টাকা বুঝে পাওয়ার জন্য সাতকানিয়া পৌর মেয়র বরাবরে ০৩-১০-২০২১ইং আবেদন করেও কোন প্রতিকার পাইনি বলে জানা যায়।
জহির উল্লাহ আরো বলেন, আরফাত উল্লাহ লোকমুখে প্রচার করে বেড়াচ্ছে আমার নামে মিথ্যা চাঁদাবাজীর মামলা দিয়েছে। তার বউকে দিয়ে নারী নির্যাতনসহ আরও মিথ্যা মামলা দিবে । যাতে করে আমি এলাকায় যাইতে না পারি এবং আমার পাচঁতলা বিল্ডিং দখলে রাখতে পারে।

আমি একজন রেমিটেন্স যোদ্ধা এবং দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এ মুহুর্ত্বে আমি ও আমার পরিবার চরম বেকায়দায় ও নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছি।