করদাতা সুরক্ষা আন্দোলনের নামে নগরভবনে বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা - নগরবাসীকে গৃহকর বিষয়ে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ ।

আজ দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে চট্টগ্রাম সচেতন নাগরিক সমাজের পক্ষে এই অভিযোগ করেন সংগঠনের আহবায়ক মো. ওসমান গনি আলমগীর।


তিনি লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন, গত ১৫ মার্চ বুধবার করদাতা সুরক্ষা পরিষদ নামে একটি সংগঠন আন্দোলনের নামে নগর ভবন ঘেরাও কর্মসূচি দিয়ে বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্ঠা করে। তাদের সেই কর্মসূচিতে জনগন তথা নাগরবাসীর কোন সম্পৃক্ততা ছিল না। তাদের কর্মসূচিতে সাধারণ জনগন সাড়া না দিয়ে চট্টগ্রাম সচেতন নাগরিক সমাজের পক্ষেই অবস্থান নেয়। আমরা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন তথা নগর ভবনের প্রবেশ মুখে তাদের সকল ধরনের নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ করার জন্য শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করি।

তিনি বলেন, করদাতা সুরক্ষা পরিষদ গত ১৬ মার্চ বৃহস্পতিবার একটি সংবাদ সম্মেলন করে তারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা নগর পিতা মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধঅ আলহাজ্ব মোঃ রেজাউল করিম চৌধুরীর অনুসারীদের হামলা বিষয়ক যে মন্তব্য করেছেন, তা চট্টগ্রামের স্বনামধন্য প্রকাশিত সংবাদপত্র গুলোর মাধ্যমে আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়। এতে আমরা মর্মাহত। তাদের এ বক্তব্য খুবই দুঃখজনক, তারা আমাদেরকে মেয়রের অনুসারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা কোন ভাবেই সঠিক নয়। তারা আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হওয়ায় আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচারের আশ্রয় নিয়েছেন। বিএনপি-জামায়াতের মদদে তারা সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার অপকৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন বলেই আমরা মনে করি।
  তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে আমরা সেদিন নগর ভবনের সামনে অবস্থান গ্রহন করি। এর আগে গত ১৪ মার্চ চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মানব বন্ধন কর্মসূচি পালন করি, ওই দিনই আমরা ঘোষনা দিয়েছিলাম নৈরাজ্য সৃষ্টি কারীদের সাধারণ নগরবাসীকে নিয়ে সোচ্চার প্রতিবাদ করব। এছাড়া আমাদেরও দায়িত্ব রয়েছে গৃহকর বিষয়ে জনগনকে সচেতন করা। আর যারা বিএনপি-জামায়াতের মদদপূষ্ট হয়ে গৃহকর বিষয়ে জনগনকে ভূল ব্যাখ্যা দিচ্ছেন, অপপ্রচার চালাচ্ছেন, মিথ্যাচার করছেন, বিভ্রান্ত করছেন, তাদের বিরুদ্ধে জনগনকে নিয়ে সোচ্চার প্রতিবাদ করব।


তিনি বলেন, নগর ভবন ঘেরাও কর্মসূচি দিয়ে মূলত তারাই একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। তার জন্য নিরাপত্তার স্বার্থে, জনগনের জান মাল রক্ষার্থে পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে, পাশাপাশি অযৌক্তিক আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির বিরুদ্ধে জনগনকে সচেতন করতে আমরা চট্টগ্রাম সচেতন নাগরিক সমাজ সেদিন শান্তিপূর্ণ ভাবে অবস্থান করি। মূলত তারা গৃহকরকে “অন্যায্য” গৃহকর হিসেবে প্রচার করে জনগনকে বিভ্রান্ত করার চেষ্ঠা করছে। এতে তারা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে বলে আমরা মনে করি, কারন সহনীয় পর্যায়ে গৃহকর নির্ধারণ করছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের রিভিউ বোর্ড। সেই গৃহকর পরিশোধ করে আমরাও চট্টগ্রাম শহরের উন্নয়নের অংশীদার হতে চাই। তাই আমরা অবগত রয়েছি মেয়রের আন্তরিক প্রচেষ্টায় বর্ধিত কর সহনীয় করা হচ্ছে। একারনে নগরীর বাসিন্দা যে কেউ কর সার্কেল থেকে ফ্রি আপিল ফরম গ্রহণ করতে পারছেন। আপিল কার্যক্রম শেষে গন আপিল শুনানিতে অংশ নিচ্ছেন এরপর তারা সহনীয় ও সামর্থের মধ্যে হাসিমুখে গৃহকর পরিশোধ করছেন এবং চট্টগ্রামের উন্নয়নে অংশীদার হচ্ছেন।

তিনি বলেন, যেসব সার্কেলে গন আপিল শুনানি হয়েছে, সেখানে শত শত মানুষ ভীড় করেন। এ সময় তারা গৃহকর সহনীয় পর্যায়ে হওয়ায় আনন্দের সাথে কর প্রদান করেন এবং হাতে ফুল নিয়ে বাড়ি ফিরে যান। আমরা মনে করি করদাতা সুরক্ষা পরিষদের হীন উদ্দেশ্য বিফলে যাবে। কারন তারা সংবাদ সম্মেলন করে যে সংগ্রাম কমিটি গঠনের ঘোষনা দিয়েছেন, জনগনকে গৃহকর নিয়ে বিভ্রান্ত করার মানসে। আমাদেরও দায়িত্ব রয়েছে সচেতন নাগরিক হিসেবে চট্টগ্রামের উন্নয়নের স্বার্থে নগরীর শান্তিপ্রিয় মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে ফ্রি আপিল ফরম ওয়ার্ডের নিজস্ব কর সার্কেল থেকে সংগ্রহ করে, আপিল শুনানিতে অংশগ্রহন করে, নির্ধারিত কর পরিশোধ করে চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়নের ধারাকে বেগবান করা। প্রয়োজনে চট্টগ্রাম সচেতন নাগরিক সমাজ প্রতিটি ওয়ার্ডে গৃহকর বিষয়ে ঐ কুচক্রীমহলের রোষানলে না পড়ার জন্য জনগনকে অনুরোধ জানাবে এবং গৃহকর সহনীয় পর্যায়ে হওয়ার সুযোগ গ্রহন করে নিজেদের গৃহকর পরিশোধ করে, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিষ্কার, পরিচ্ছন্ন, আলোকায়ন, রাস্তা, নালা ও বিবিধ উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে নিজেদের গর্বিত অংশীদার হওয়ার জন্য জনগনকে আবেদন জানাবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন-সদস্য সচিব ইলিয়াছ উদ্দিদন, যুগ্ম আহবায়ক নুরুল আলম, মো. হোসেন, মো. রফিকুল ইসলাম, ইয়াসির আরাফাত কচি, সদস্য মো. হারুন, খোরশেদ আলম মানিক, আবদুল হালিম মিতু, আরিফুল ইসলাম, হাসান আলী, মো. শাহাদাত হোসেন প্রমুখ।