আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেন্দ্র থেকে তৃণমুল পর্যন্ত দলের নেতাকর্মীদের ইফতার মাহফিল আয়োজন না করার নির্দেশ দিয়েছেন। এর মাঝে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনার নিদের্শকে সম্মান জানিয়ে অনেকে ইফতার মাহফিল থেকে সরে এসেছেন।এর মধ্যে বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন(বিএমএ) চট্টগ্রাম সাধারণ সম্পাদক ডা: ফয়সল ইকবাল  ফেইসবুক স্টাটার্স দিয়ে তাদের ইফতার মাহফিল ও চিকিৎসক  সমাবেশ স্থগিত করেছেন।

ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভায় ইফতারের আয়োজন। প্রায় দুই হাজার মানুষের জন্যে ইফতার ও মেজবানের আয়োজন করা হয়। আয়োজনে খরচ হয় অর্ধকোটি টাকা।

ইফতারের আয়োজনের মধ্যে দিয়ে দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনার নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করা হয়েছে বলে মনে করেন অনেকে  ।

একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নগর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ইফতার এড়িয়ে যেতে পারতেন।আমরা তো দলীয় সিদ্ধান্তে আলোচনা সভায় এসেছি। দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনার নির্দেশকে অমান্য করার দায় নগর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বহন করতে হবে।

আলোচনা সভায় ইফতারের উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন,নগর সভাপতি মাহতাব চৌধুরী,সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন, চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনের উপ-নির্বাচনে  চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের  মনোনয়ন পাওয়া সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ।মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন, এম. জহিরুল আলম দোভাষ, উপদেষ্টা শেখ মো. ইছহাক, শফিক আদনান, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী,প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুক, চন্দন ধর ও মশিউর রহমান চৌধুরী প্রমুখ।

২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ যৌথ উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু এভনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সামাবেশে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন , আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা কেন্দ্র থেকে তৃণমুল পর্যন্ত দলের নেতাকর্মীদের ইফতার মাহফিল আয়োজন না করার নির্দেশ দিয়েছেন।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, 'পবিত্র রমজান মাসে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনগুলো কোনো ইফতার মাহফিলের আয়োজন করবেন না। আমাদের নেত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। সেই টাকা দিয়ে দরিদ্র মানুষের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করবেন।'আমরা ইফতারের আয়োজন না করে পার্টির পক্ষ থেকে, যারা কষ্টে আছেন, যারা গরীর মানুষ তাদের হাতে খাবার তুলে দেব।'