চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা থানাধীন কোনার বাড়ি এলাকার মৃত বদিউল আলমের পাঁচছেলে দুই মেয়ে জামাই মাদক বেচাকেনা জড়িত থাকলে তাদের মধ্যে আবছার ও শাহিনুর এই দুই সহোদর ভাই  র্শীষ মাদক ব্যবসায়ী ।তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। শাহিনুরের বিরুদ্ধে সমুদ্র দখল করে অবৈধ  ফার বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।

এসব অবৈধ কাজে সহযোগিতা করছে পতেঙ্গা এলাকা ভিত্তিক কিছু অনলাইন সাংবাদিক।

গত ৮ই ফেব্রুয়ারী বুধবার রাতে নগরের পতেঙ্গা প্রজাপতি পার্ক এলাকায় ছুরিকাঘাতের ব্যবসায়ী  মোহাম্মদ রফিক খুন হন। অভিযোগ রয়েছে সমুদ্রে চোরা তেল ও মাদক ব্যবসায়ের আধিপাত্য বিস্তার নিয়ে পতিপক্ষের হাতে তিনি খুন হন।নিহত রফিকের বিরুদ্ধে  ধর্ষণের মামলা রয়েছে।উল্লেখ্য ১৫ই এপ্রিল ২০১৫ সালে  এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ রফিকসহ তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। ছোট ভাইকে বাচাঁতে বড় ভাই আবসার এই ধর্ষিতা মহিলাকে বিয়ে করে ।সালিস বৈঠক নিয়ে গাভি ইলিয়াসের সাথে দ্ধন্ধ শুরু হয় ।

 নিহত রফিকের ভাই  আবসারকে সবাই ‘বাবা আবছার’ পরিচয়েই এক নামে চেনে। পতেঙ্গার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের একজন সে। তার নামে রয়েছে একাধিক মাদক মামলা। সম্প্রতি মিয়ানমার থেকে স্পীডবোটযোগে পতেঙ্গায় আসা মাদকের চালানসহ র‍্যাবের হাতে দু’জন গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে আবারও উঠে এসেছে পুলিশের তালিকাভুক্ত এই শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর নাম। তবে এই কারবারে যুক্ত রয়েছেন আরও একজন। যার নাম সাইদুল রহমান সাকিব (৩০)।


গ্রেপ্তাররা জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, পলাতক দুই আসামি মো. নুরুল আবছার প্রকাশ আবছার ও সাইদুর রহমান সাকিবের সহায়তায় তারা দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমার থেকে সাগরপথে আমদানি নিষিদ্ধ বিয়ার চোরাচালানের মাধ্যমে অবৈধভাবে সংগ্রহপূর্বক বিক্রয়ের উদ্দেশে বহন করতেন।

এ ঘটনায় পতেঙ্গা থানায় মোট ৪ জনকে আসামি করে মাদক আইনে মামলা করেছে র‍্যাব। মামলায় মাদক চোরাচালানের মাধ্যমে অবৈধভাবে সংগ্রহপূর্বক বিক্রয়ের উদ্দেশে পরিবহন ও নিজেদের হেফাজতে রেখে ১৯৪৭ সনের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫-বি ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অভিযোগ আনা হয়েছে আসামিদের বিরুদ্ধে।


নুরুল আবছারের উত্থান
অনুসন্ধানে জানা যায়, পতেঙ্গা দক্ষিণ পাড়ার নুরুল আবছার ২০০০ সালের দিকে ছিলেন নৌকার মাঝি। নৌকা চালিয়েই করতেন জীবিকা নির্বাহ। কিন্তু তার ভাগ্য বদলে যায় নদীর ওপাড়ের ইয়াবা ব্যবসায়ী জাফরের সঙ্গে পরিচয় হওয়ার পর। নৌকা দিয়ে জাফরের ইয়াবা পরিবহন করতেন নুরুল আবছার। এক সময় জাহাজ থেকে বিদেশি মদ সংগ্রহ করে বিক্রিও শুরু করেন। আনোয়ারা, কর্ণফুলী এলাকা দিয়ে আবছার তার মাদক বেচাকেনা করতেন।
২০১৫ সালে র‍্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা যাওয়ার পর ইয়াবা ব্যবসায়ী জাফরের বিপুল ইয়াবা সাম্রাজ্য ধরে রেখেছিলেন নুরুল আবছার। তখন থেকেই ফুলে-ফেঁপে উঠেন। তার নাম রটে যায় ‘বাবা আবছার’ হিসেবেই।

টাকার বিনিময়ে পদ বাগিয়েও হন বহিষ্কার
মাদক ব্যবসা করেই রাতারাতি ফুলে-ফেঁপে ওঠা এই নুরুল আবছার পতেঙ্গা এলাকায় মাদকের গডফাদার হলেও বরাবরই ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। নিজেকে ‘শেল্টার’ দিতে তিনি টাকার বিনিময়ে বাগিয়ে আওয়ামী লীগের পদও। রাতারাতি হয়ে যান আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্য।

মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় ২০১৯ সালের ৩১ জানুয়ারি নুরুল আবছারকে আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্য পদ থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়।

এই ব্যাপারে অভিযুক্ত শাহিনুরের বক্তব্য নিতে ফোন করলে, তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে উতেজিত হয়ে লাইন কেটে দেন।

পতেঙ্গা থানার ওসি আবু জায়েদ মোহাম্মদ নাজমুন নুর জানান, আবসারকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যহত আছে ।