আজ ২২ নভেম্বর চট্টগ্রামের সিংহপুরুষ, বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান,রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী এবং সংসদ সদস্য শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নবম মৃত্যু বার্ষিকী। তিনি সাকা চৌধুরী নামেও পরিচিত ছিলেন। তিনি একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ এবং জাতীয় সংসদের চট্টগ্রাম- ২, চট্টগ্রাম- ৬ এবং চট্টগ্রাম- ৭ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রী ছিলেন।

১৯৪৯ সালের ১৩ ই মার্চ তিনি চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার গহিরা গ্রামের সম্ভ্রান্ত একটি বনেদী পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পিকার মরহুম ফজলুল কাদের চৌধুরী এবং মাতা ছিলেন মরহুমা সৈয়দা সেলিমা কাদের চৌধুরী।

তিনি ঢাকার নটরডেম কলেজ এবং পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেন। তাঁর স্ত্রীর নাম ফরহাদ কাদের চৌধুরী। তাঁর তিন সন্তানরা হলেন ফয়জুল কাদের চৌধুরী, ফারজিন কাদের চৌধুরী এবং হুম্মাম কাদের চৌধুরী। 

 বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মরহুম সাইফুদ্দিন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম- ৬ আসনের প্রাক্তন সংসদ সদস্য জনাব গিয়াসুদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জনাব জামাল উদ্দিন কাদের চৌধুরী তাঁর ছোট ভাই। 

তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। বিগত ফ্যাসীবাদী স্বৈরাচারী সরকারের আক্রোশের শিকার হয়ে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০১৫ সালের ২২ নভেম্বর বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের দণ্ডাদেশ অনুযায়ী তাঁর ফাঁসি কার্যকর করা হয়। তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করায় ট্রাইবুনালের বিচার সংক্রান্ত বিষয়ে বাংলাদেশের আভ্যন্তরিণ এবং বৈদেশিক উৎস থেকে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছিলো। কিন্তু বিগত ফ্যাসীবাদী স্বৈরাচারী সরকারের লোলুপ হিংস্র থাবা থেকে তিনি বাঁচতে পারেননি। জীবন দিতে হলো তাঁকে ! শহীদ হলেন এই সিংহপরুষ !

তাঁর কথায় ছিলো না কোনো রাখ-ঢাক । সত্য প্রকাশে ছিলেন অকুতোভয় নির্ভিক সৈনিক । সংসদে সরকারের দোষ ত্রুটি নির্ভয়ে বলে ফেলতেন । কারো তোয়াক্কা-তোষামোদী করা ছিলো  তাঁর স্বভাব বিরুদ্ধ । অন্যায়, অত্যাচার, অপকর্মের বিরুদ্ধে ছিলেন সদা সোচ্চার । তিনি একজন সফল ব্যবসায়ীও ছিলেন । তিনি ঋণ খেলাপী ছিলেন না । তিনি লুটেরাও ছিলেন না । তিনি একজন মানব দরদী নেতা ছিলেন ।
আওয়ামী ফ্যাসিবাদি সরকার উনাকে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার জন্য বললে, উনি  ঘৃণাভরে তা প্রত্যাখ্যান  করেছিলেন।