নিজস্ব প্রতিবেদন: কথায় আছে, কারাগারে টাকা দিলে বাঘের চোখও মেলে! এটা শুধু কথার কথা নয়। আর ‘জেলখানার সম্বল কাঁথা বাটি কম্বল’—এখন একেবারেই সেকেলে। বরং কারাগারে টাকার বিনিময়ে মিলছে নিজের চাহিদামত সব কিছুই।
 কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া অনেক বন্দির সঙ্গে কথা বলেও এসব অনিয়মের বিষয়ে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগকে একেবারেই ভিত্তিহীন বলছে জেল কর্তৃপক্ষ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, জেল কোডের বাইরে গিয়ে নানা অনৈতিক কার্যক্রম চালাচ্ছে চট্টগ্রাম কেন্দ্রিয় কারাগার কর্তৃপক্ষ। টাকা হলেই কারাগারে বাসা বা আবাসিক হোটেলের মত পাওয়া যাচ্ছে সব সেবা। আর যাদের টাকা নেই তাদের কাছে কারাগার যথারীতি এক অন্ধকারের বদ্ধজীবন। বিত্তবান বন্দিরা যত বড় অপরাধীই হোক না কেন তাদের জন্য সব সুযোগ সুবিধা বরাদ্দ। অন্যদিকে টাকা যাদের নেই তাদের কপালে জোটে নানা নির্যাতন।
টাকা দিলে ‘বাঘের চোখ’, না দিলে ‘ইলিশ ফাইলে’
মুক্তি পাওয়া বন্দিরা জানান, কারাগারে প্রবেশের পরই সবাইকে ‘আমদানি’ নামক একটি সেলে বসানো হয়। এরপর রাইটার (সাজা প্রাপ্ত কয়েদি) এসে যারা টাকা দিতে সম্মত হয়, তাদের পছন্দমতো সেল বা ওয়ার্ডে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। টাকা দিতে সম্মত না হলে তাদের ‘ইলিশ ফাইলে’ (কাত করে ইলিশ মাছ রাখার মতো) রাখা হয়। বন্দিদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে এখানে আবাসিক হোটেলের মতোই সব সুবিধা দেওয়া হয়। এমনকি টাকা হলে পাওয়া যায় যে কোনো মাদকদ্রব্য, ব্যবহার্য নানা জিনিসপত্র তো বটেই।
কারাগারে টাকায় মেলে ঘরের সুবিধা এমনিতে নতুন-পুরনো বন্দিতে ঠাসা চট্টগ্রাম কারাগার। তিলধারণের জায়গা নেই। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বন্দি থাকায় আগে থেকেই অমানবিক দিনযাপন করছেন বন্দিরা। আর সেই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে বিত্তবান বন্দিরা কারাগারের মেডিকেল ওয়ার্ডে থাকার সুবিধা নিচ্ছেন। আবার সেলে বন্দি অনেক দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী সেখানে নিজ বাসার মত সব সুবিধা ভোগ করছেন। অন্যদিকে যারা টাকা দিতে পারছেন না তারা ‘ইলিশ ফাইলেই’ এ থাকছেন। প্রয়োজনীয় খাবার, গোসলের পানি ও খাবার পানিও পান না তারা।
মাদক ঢোকে অনায়াসে, বেশিরভাগ বন্দিই মাদকাসক্ত।
  এমনকি কারাগারে বসে সিগারেট খাওয়ার বৈধ সুযোগ থাকলেও সেখানে অনেকে ইয়াবা কিংবা গাঁজার মতো মাদকও গ্রহণ করছেন।
জানা গেছে, বন্দিরা আদালতে হাজিরা দিতে গেলেই অভিনব পদ্ধতিতে বাইরে থেকে গাঁজা-ইয়াবা নিয়ে আসছেন কারাগারের ভেতরে। চট্টগ্রাম কারাগারের বেশিরভাগ বন্দিই মাদকাসক্ত। কারাগারে মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িত থাকে সুবেদার, জমাদার ও কারারক্ষীরা। ভেতরে ভয়ংকর বন্দিদের মাধ্যমে মাদকদ্রব্য বিক্রি হয়।
 টাকা দিলে মনের সব খায়েশই পূরণ করা যাবে জেলখানায়। মানে আপনি যা যা চান তার সবই। এক্ষেত্রে প্রভাবশালী দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী হলে আরো কদর বেশি।