চট্টগ্রামের পাঠানঠুলী রোডস্থ ডবলমুরিং থানা এলাকায় অবস্থিত আবাসিক হোটেল “ককসি” ঘিরে ভাড়াটিয়া ও মালিকপক্ষের মধ্যে বিরোধের ঘটনা ঘটেছে। হোটেলটি নিয়ে অস্থায়ী চুক্তি সম্পাদনের পরও চুক্তি অস্বীকার করে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও জোরপূর্বক উচ্ছেদের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে।
জানা যায়, উক্ত ভূমির মালিক সৈয়দা আক্তার হলেও মার্কেট ও হোটেল পরিচালনা করেন তার স্বামী এসএম নুরুল হুদা। চুক্তিপত্রে সৈয়দা আক্তার স্বাক্ষর করলেও, অভিযোগ রয়েছে যে কু-উদ্দেশ্যে এসএম নুরুল হুদা নামের বিন্যাস পরিবর্তন করে স্বাক্ষরে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে।


আরও অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবার নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) যোগদান করার পর মালিকপক্ষ নিয়মিত সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে এবং এর মাধ্যমে ভাড়াটিয়াকে হয়রানি করা হয়।


ভুক্তভোগীর দাবি, কয়েক মাসের মাসিক হোটেল ভাড়া, নিয়মিত বিদ্যুৎ ও ওয়াসা বিল পরিশোধ করা সত্ত্বেও অজ্ঞাত লোকজন এনে হোটেলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়া, ককসি মার্কেটের একাধিক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, মার্কেটের মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ভাড়াসংক্রান্ত ও সিআর মামলাসহ শতাধিক মামলা দায়ের হয়েছে।


সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নিয়ে বিস্তারিত
ভুক্তভোগী ভাড়াটিয়া ওসমান গনি গত ৪ অক্টোবর ২০২৫ সালে নুরুল হুদা তাহার দুই ছেলে, একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও অত্র এলাকার মুরুব্বীগণদের কে নিয়ে এসে হঠাৎ করে বিদ্যুৎ ও ওয়াসার সংযোগ কেটে দিয়ে আমাকে ডেকে আনেন উক্ত সময় আমি যখন সবার সামনে তাকে উদ্দেশ্য করে বলি যে হুদাকে জালিওত প্রমাণিত করতে পাঁচ মিনিট সময় লাগবে না যদি জ্বালিয়ত প্রমাণ করতে না পারি আমি আপনাদেরকে হোটেলের চাবি বুঝিয়ে দেব এর উত্তরে সকলের সামনে নুরুল হুদা আমার কথার জবাবের উত্তরে কিছু বলতে না পারলে বিচারকরা সাথে সাথে বিদ্যুৎ সংযোগ ও ওয়াসা সংযোগ লাগিয়ে চলে যাই এবং তারা যাওয়ার সময় আমাকে বলে এই ব্যাপারে একটা সাধারণ ডায়েরি করার জন্য আমি সাধারণ ডায়েরি করিলে তৎপরবর্তীতে ডবলমুরিং থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসআই জনাব মোঃ ফারুক অত্র হোটেল মার্কেট আশেপাশের লোকজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে জানেন যে উক্ত হোটেল বাদী পাঁচ বছরের চুক্তিতে মাসিক ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে ব্যবসা পরিচালনা করিয়া আসিতেছেন এতে জিডির প্রতিবেদন আদালতে পাঠিয়ে দিলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সমন ইসু্ হয়। বিবাদী এসএম নুরুল হুদা, এসএম জিয়াউল হুদা ইভান এবং এসএম আজমুল হুদা জিশান—যারা একই পরিবারের সদস্য— এতে নুরুল হুদা ক্ষিপ্ত হয়ে বাদী কে তাদের বিরুদ্ধে করা জিডি মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ১ নম্বর বিবাদী তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন থেকে কল করে হোটেল ব্যবসা চালাতে না দেওয়ার হুমকি দেন এবং মামলা তুলে নিতে বলেন। এ ঘটনায় বাদী ৫ এপ্রিল ২০২৬ সেদিন পূণরায় থানায় জিডি করেন ।


চুক্তি ও বিরোধের সূত্রপাত
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর একটি অস্থায়ী ভাড়ানামা চুক্তির মাধ্যমে হোটেলের ২য়, ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম তলা ভাড়া নেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী ১২ লক্ষ টাকা জামানত এবং মাসিক ৫০ হাজার টাকা ভাড়ায় ২০২৩ সালের শুরু থেকে ভাড়াটিয়া হোটেল পরিচালনা শুরু করেন।
তবে অভিযোগ রয়েছে, ১ নম্বর আসামী সরাসরি উপস্থিত না থাকলেও তার স্বাক্ষর নিয়ে চুক্তি সম্পন্ন করা হয়। পরবর্তীতে ২ ও ৩ নম্বর আসামীর প্ররোচনায় ১ নম্বর আসামী চুক্তি অস্বীকার করে হোটেল ছাড়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন।


হুমকি ও হামলার অভিযোগ
ভুক্তভোগীর দাবি, ২০২৪ সালের ২৯ মে হোটেল ব্যবসা বন্ধ করার হুমকি দেওয়া হলে তিনি বাধ্য হয়ে থানায় জিডি করেন। এরপর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে এবং আসামীরা উক্ত সময়ে অতর্কিতভাবে দলবল নিয়ে এসে হোটেল ব্যবসা করতে দিবে না মর্মে জানন মেরে ফেলার হুমকি-ধমকি দিয়ে যেত।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুন আসামীরা সন্ত্রাসীসদৃশ লোকজন নিয়ে হোটেলে এসে জোরপূর্বক উচ্ছেদের চেষ্টা করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এর প্রতিবাদে ভাড়াটিয়া আদালতে সিআর মামলা ১১৬২/২০২৪ দাখিল করেন আদালতে উক্ত মামলাটি বর্তমানে বিচারকার্যে চলমান রহিয়াছে।

পরবর্তীতে ১১ জুলাই ২০২৪ তারিখেও একই ধরনের ঘটনা ঘটে। এ সময় ভুক্তভোগীর চিৎকারে আশপাশের ব্যবসায়ীরা এগিয়ে এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।


সাম্প্রতিক ঘটনা
অভিযোগ রয়েছে, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সিআর মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও প্রতিবার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের পর মালিকপক্ষ নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে।এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৫ এপ্রিল বিকাল প্রায় ৪টা ৫৫ মিনিটে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে লোকজন নিয়ে এসে পানির ও বিদ্যুতের লাইন কেটে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় উক্ত সময় সৈয়দা আক্তার এর বড় ছেলে কামরুল হুদা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে এতে কামরুল হুদা পুলিশ কে জানাই মারামারির ঘটনা ঘটতে পারে কিন্তু পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দেখে কয়েকজন অজ্ঞাতনামা যুবক। মব সৃষ্টির চেষ্টার বিষয়টি দেখা গেছে সিসিটিভি ফুটেজে । 


পুলিশের বক্তব্য

এ এস আই রবিউল হোসেন বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে যাই  দুই পক্ষকে থানায় ডাকা হয়েছে।

প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা
ভুক্তভোগী ওসমান গনি এ ঘটনায় ন্যায়বিচারের স্বার্থে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।