বঙ্গোপসাগরে ইঞ্জিন বিকল হয়ে তিন দিন ধরে ভাসমান থাকা একটি মাছ ধরার বোটসহ ১৬ জেলেকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। প্রচণ্ড ঢেউ ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও সফল উদ্ধার অভিযান শেষে জেলেদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসা হয়।
বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সমুদ্রে সুশাসন বজায় রাখতে নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার বঙ্গোপসাগরে টহলরত নৌবাহিনীর জাহাজ বানৌজা কপোতাক্ষ মোংলা ফেয়ারওয়ে বয়ের নিকট থেকে ভাসমান অবস্থায় থাকা মৎস্য বোট ‘এফবি আল আমিন’ এবং এর ১৬ জন জেলেকে উদ্ধার করে।
নৌবাহিনী জানায়, গত ২৩ আগস্ট রাতে টহলকালে বঙ্গোপসাগরে একটি মাছ ধরার বোটের ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভাসমান থাকার খবর পায় বানৌজা কপোতাক্ষ। খবর পেয়ে রাতের আঁধারেই উদ্ধার অভিযান শুরু করে নৌবাহিনী।
পরদিন সকালে প্রচণ্ড ঢেউ ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই মোংলা ফেয়ারওয়ের সন্নিকটে ভাসমান বোটটির সন্ধান পাওয়া যায়। পরে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়া ‘এফবি আল আমিন’ বোটসহ ১৬ জন জেলেকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারের পর নৌবাহিনীর সদস্যরা জেলেদের প্রয়োজনীয় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন।
উদ্ধার হওয়া জেলেদের সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট বাগেরহাটের শরণখোলা এলাকা থেকে ১৬ জন জেলে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে ‘এফবি আল আমিন’ নিয়ে বঙ্গোপসাগরে যান। সমুদ্রে যাওয়ার দুই দিন পর বোটটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এরপর টানা প্রায় তিন দিন উত্তাল সমুদ্রে ভাসতে থাকেন তারা।
পরে নৌবাহিনীর সদস্যরা প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই বোটটিকে টোয়িং করে সুন্দরবন সংলগ্ন হিরণ পয়েন্টে নিরাপদে নিয়ে আসেন। সেখানে বোটসহ ১৬ জেলেকে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সমুদ্রে বিপদগ্রস্ত জেলে ও নৌযানকে দ্রুত উদ্ধার করে নিরাপদে তীরে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌবাহিনী আবারও দায়িত্বশীলতা, পেশাদারিত্ব ও মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
বঙ্গোপসাগরে ইঞ্জিন বিকল বোটসহ ১৬ জেলেকে উদ্ধার করল নৌবাহিনী