চট্টগ্রাম:
শ্রমিকদের কল্যাণ, আবাসন, সন্তানদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপদ ও শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম থেকেই কার্যকর উদ্যোগ শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রামের সার্বিক শ্রম পরিস্থিতি এবং কর্মক্ষেত্রে পেশাগত স্বাস্থ্য ও শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের আবাসন, তাদের সন্তানদের লেখাপড়া ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক বিষয়গুলো একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা কঠিন হলেও এক-দুটি উদ্যোগ দিয়ে কাজ শুরু করা সম্ভব। একটি সফল উদ্যোগ অন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও এলাকাগুলোকে একই ধরনের কার্যক্রম গ্রহণে উৎসাহিত করবে।
শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য শিল্পাঞ্চলের ভেতরে শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। আইন ও নীতিমালায় শ্রমিক কল্যাণে বিভিন্ন ব্যবস্থা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী।
শিল্পমালিক ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোকে নিজ নিজ শিল্প এলাকার পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্টদের শিল্পমালিকদের সঙ্গে দ্রুত আলোচনায় বসতে হবে। প্রয়োজনে সংসদ সদস্যরাও এ আলোচনায় অংশ নেবেন। দু-একটি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে কাজ শুরু করা গেলে ধীরে ধীরে অন্যরাও এগিয়ে আসবেন।
চট্টগ্রামে শ্রমিকদের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন শ্রমমন্ত্রী। বড় ধরনের স্থায়ী ভবন নির্মাণের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করে স্টিল স্ট্রাকচারভিত্তিক অবকাঠামোর মাধ্যমে দ্রুত সেবা চালুর পরামর্শ দেন তিনি।
তিনি জানান, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে শ্রমিক কল্যাণমূলক কার্যক্রমের জন্য জায়গা বরাদ্দের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। জায়গা পাওয়া গেলে স্টিল স্ট্রাকচারের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ প্রয়োজনীয় সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ সময় ঈদ উপলক্ষে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকার প্রশংসা করেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম থেকে শ্রমিক কল্যাণে দৃশ্যমান কার্যক্রম শুরু করা গেলে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে। উদ্দেশ্য পরিষ্কার রেখে সবাই একসঙ্গে কাজ করলে কাজ বাস্তবায়ন কঠিন হবে না।
মন্ত্রী আরও বলেন, মানুষকে অনেক আশা দেওয়া হয়েছে, মানুষের প্রত্যাশাও অনেক। এখন শুধু কথা নয়, বাস্তবে কাজ করে দেখাতে হবে। সময় দ্রুত চলে যাচ্ছে, তাই সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
চট্টগ্রাম থেকে শ্রমিক কল্যাণে দৃশ্যমান কার্যক্রম শুরু করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।
সভায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুর রহমান তালুকদার, জেলা শিল্প পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগমসহ সংশ্লিষ্টরা বক্তব্য দেন।
সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিল্পমালিক, শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে মন্ত্রী চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে প্রবাসী কর্মীদের লাগেজ পরিবহনের জন্য ট্রলি কার্যক্রমের উদ্বোধন এবং প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক পরিদর্শন করেন।