বেতন চাওয়ায় একুশে টেলিভিশন লিমিটেড (ইটিভি) কর্তৃক এক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিককে বেআইনি টার্মিনেশনের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (এমডি) শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) জারি করেছেন আদালত। একই সঙ্গে সাংবাদিককে চাকুরিচ্যুতির আদেশটির ওপর কেন অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে না, তা আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার আদালত শোকজের এই আদেশ প্রদান করেন।
চট্টগ্রামের দ্বিতীয় শ্রম আদালতের চেয়ারম্যান (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) বেগম জেবুননেছা এ আদেশ দেন। আদেশের অনুলিপি ইটিভির চেয়ারম্যান ও সিইও আবদুস সালাম, ভাইস চেয়ারম্যান ও এমডি তাসনুভা মাহবুব সালাম, নির্বাহী সম্পাদক হারুন অর রশিদ এবং প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের ম্যানেজার মো. আল-আমিনসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।
মামলার নথি ও আবেদন সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. হাসান ফেরদৌস দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে একুশে টেলিভিশনে সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তবে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে তার দীর্ঘ ২৩ মাসের (আগস্ট ২০২৪ থেকে জুন ২০২৬) বেতন-ভাতা বকেয়া রাখে। পাওনা আদায়ে তিনি কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই) এবং শ্রম আদালতে পৃথক মামলা দায়ের করেন।
আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে কর্তৃপক্ষ গত ২৯ জুন ২০২৬ তারিখের ভূতাপেক্ষ (ব্যাকডেটেড) তারিখ দেখিয়ে একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত টার্মিনেশন আদেশ জারি করে। বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬-এর ধারা লঙ্ঘন করে আদালতের অনুমতি ছাড়া এবং কোনো নোটিশ পে প্রদান ব্যতিরেকে এ আদেশ জারি করায় এটিকে বাতিল ও এর কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে শ্রম আদালতে নিষেধাজ্ঞার আবেদন জানান তিনি। আদালত বাদীর বক্তব্য ও কাগজপত্র পর্যালোচনা শেষে বিবাদীদের বিরুদ্ধে এ শোকজ আদেশ জারি করেন। এ মামলায় বাদীর পক্ষে মামলা পরিচালনা করছেন আইনজীবী সুখময় চক্রবর্তী এবং এডভোকেট শান্তা চক্রবর্তী ।