আইনকানুন ও নির্ধারিত সিডিউলের তোয়াক্কা না করে মনগড়া প্রশাসনিক কার্যক্রম চালানো এবং সরকারি অর্পিত সম্পত্তি বেআইনিভাবে রেজিস্ট্রির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া ও কর্ণফুলী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সাব-রেজিস্ট্রার মেসবাহ উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে। সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি, সপ্তাহে কার্যদিবস কমিয়ে দেওয়া এবং ঘুষ-দুর্নীতির কারণে বর্তমানে দুই উপজেলার সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্ত পোহাতে হচ্ছে।
অর্পিত সম্পত্তি অবৈধ রেজিস্ট্রির অভিযোগ:
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পটিয়া থানাধীন দক্ষিণ ভূর্ষি মৌজার একটি মূল্যবান সম্পত্তি মূল মালিক মনীন্দ্র লাল গুহ ভারতে অবস্থান করায় বিএস জরিপে তা অনাবাসী ও অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের নামে তালিকাভুক্ত হয়। ২০১২ সালের গেজেটে এটি প্রত্যর্পণযোগ্য ‘ক’ তালিকাভুক্ত হলেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কেউ আইনি দাবি উপস্থাপন না করায় সম্পত্তিটি পুরোপুরি সরকারের মালিকানায় বহাল থাকে।
তবে আইনি বাধ্যবাধকতা উপেক্ষা করে সাব-রেজিস্ট্রার মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ যোগসাজশের মাধ্যমে গত ১৮ জুন ২০২৪ তারিখে দানপত্র দলিলের (দলিল নং-৫৪৯৬) মাধ্যমে সম্পত্তিটি রেজিস্ট্রি করে দেন। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্পিত সম্পত্তি এভাবে হস্তান্তর করা প্রচলিত ভূমি আইনের মারাত্মক লঙ্ঘন। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে পটিয়া দলিল লেখক সমিতির পক্ষ থেকে আইনি নোটিশও পাঠানো হয়েছে।
মনগড়া সূচিতে সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি:
সাপ্তাহিক প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী রবিবার, সোমবার ও মঙ্গলবার পটিয়া অফিসে এবং বুধবার ও বৃহস্পতিবার কর্ণফুলী অফিসে দলিল রেজিস্ট্রির কথা। কিন্তু সম্প্রতি সাব-রেজিস্ট্রার মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ নিজের ইচ্ছেমতো সূচি পরিবর্তন করেছেন।
বর্তমানে তিনি পটিয়ায় রবি ও সোমবার এবং কর্ণফুলীতে বুধ ও বৃহস্পতিবার রেজিস্ট্রি করছেন। মঙ্গলবার দাপ্তরিক কাজের অজুহাত দেখিয়ে রেজিস্ট্রি কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রাখা হচ্ছে। সপ্তাহের একটি পুরো দিন রেজিস্ট্রি বন্ধ থাকায় পটিয়া ও কর্ণফুলীর সাধারণ সেবাগ্রহীতা ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষেরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
অর্থ আদায় ও হয়রানির অভিযোগ:অফিসের নিয়মভঙ্গের পাশাপাশি সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি দলিল সম্পাদনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি ছাড়াও কৌশলে মোটা অঙ্কের বাড়তি টাকা আদায় করা হয়। কোনো দলিল লেখক বা সেবাগ্রহীতা ঘুষ দিতে অসম্মতি জানালে বিভিন্ন অজুহাতে দলিল ঝুলিয়ে রেখে হয়রানি করা হয়।
পটিয়া দলিল লেখক সমিতির নেতৃবৃন্দ বিষয়টি জেলা রেজিস্ট্রারকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করলেও এ বিষয়ে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে জানা গেছে। সমিতির সভাপতি সামশুদ্দোহা এই বিষয়ে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত প্রতিকার দাবি করেছেন।
অভিযুক্তের বক্তব্য:
এসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সাব-রেজিস্ট্রার মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ। তিনি দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অনিয়ম, ঘুষ গ্রহণ বা বেআইনি রেজিস্ট্রির অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ সত্য নয় এবং তিনি নিয়ম মেনেই দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করছেন।