চার বছর আট মাস ১৫ দিন পর চট্টগ্রামের জনসভায় ভাষণ দিবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৪ ডিসেম্বর নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠের এই জনসভায় লাখো মানুষের সমাবেশ ঘটবে বলে আশা করছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। প্রধানমন্ত্রীর জেলা সফরের মাধ্যমে সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হবে। সেই সঙ্গে সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা চলমান রাখার অংশ হিসেবে ৭ ডিসেম্বর কক্সবাজারে জনসভায়ও যোগ দিবেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে ২০১৮ সালের ২১ মার্চ পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  পলোগ্রাউন্ডে নৌকার আদলে তৈরি হচ্ছে ১৬০ ফুট দৈর্ঘের মঞ্চ। যেখানে একসাথে ২০০ অতিথি বসতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ প্রচারে পলোগ্রাউন্ড ও আশপাশের এলাকায় লাগানো হবে ঢাকা থেকে আনা ‘কলরেডি’র ১৫০ মাইক।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন জানান, ইতিমধ্যে পলোগ্রাউন্ডের জনসভার প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। আমাদের প্রত্যেক এমপি এবং নেতারা নিজ নিজ এলাকা থেকে লোকজন আনার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন। মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ থেকে প্রচুর লোকজন আসবে। প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে জনসভায় আসার ইচ্ছে ব্যক্ত করেছেন। গত ১৪ বছরে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে প্রচুর উন্নয়ন করেছেন। এই উন্নয়নের জন্য কৃতজ্ঞতা জানাতেই জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে জনসভায় আসবেন। ৪ ডিসেম্বর পলোগ্রাউন্ড মাঠে প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় মাঠ পরিপূর্ণ হয়ে যাবে। মাঠের বাইরে আরও ১০ দশ গুণ লোকের সমাগম হবে। 

প্রধানমন্ত্রীর জনসভাস্থল পলোগ্রাউন্ড মাঠ পরিদর্শনের সময় শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল  বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের উন্নয়নের বিষয়ে সবসময় আন্তরিক। তাই তিনি দেশের প্রথম টানেল চট্টগ্রামে নির্মাণ করেছেন। অতীতে যখন চট্টগ্রামে জননেত্রী শেখ হাসিনার জনসভা হয়েছে সকল সমাবেশে জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। এইবারেও তার ব্যতিক্রম হবে না। বিগত দিনের চেয়ে এইবারে জমায়েত অনেক বেশী হবে।

মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে চট্টগ্রামের উন্নয়নে সবসময় অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন। এরই মধ্যে দেশের একমাত্র বঙ্গবন্ধু টানেলের একপাশের কাজ শেষ হয়েছে। যা প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেছেন। পাশাপাশি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনের কাজ শেষ হতে যাচ্ছে। চট্টগ্রামে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হচ্ছে। কালুরঘাটে কর্ণফুলী নদীতে আরেকটি সেতু করার পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী ৪ ডিসেম্বর এসব উন্নয়নের কথা নিজমুখে চট্টগ্রামবাসীর সামনে তুলে ধরবেন তিনি।

মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা,চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র-১ রামপুর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবদুস সবুর লিটন বলেন, চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর স্মরণকালের বৃহত্তম জনসভা করতে আমরা তৎপরতা চালাচ্ছি। আওয়ামী লীগ ছাড়াও অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন পৃথক পৃথক  প্রস্তুতি সভা করে জনসভা সফল করতে কাজ করছে। জনসভাস্থল ও আশপাশের এলাকায় ঢাকার বিখ্যাত মাইক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ১৫০টি মাইক লাগানো হবে। মঞ্চ তৈরি হচ্ছে নৌকার আদলে। ২০১২ সালের ২৮ মার্চ পলোগ্রাউন্ড মাঠে সর্বশেষ আওয়ামী লীগের জনসভায় ভাষণ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দীর্ঘ ১০ বছর পর একই মাঠে আবারও ভাষণ দিবেন প্রধানমন্ত্রী। স্বাভাবিকভাবেই এ জনসভা সফল করতে প্রাণপণ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এক্ষেত্রে মহানগর ও উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগের নেতারা জনসভা ঘিরে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন।

দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের নেতা ও চট্টগ্রামের বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা: আ. ম. ম. মিনহাজুর রহমান বলেন, ‘মহানগর-উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হবে এ জনসভা। এছাড়া যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, কৃষক লীগ, মৎস্যজীবী লীগ, তাঁতী লীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সমর্থকরা যোগ দিবেন জনসভায়।পলোগ্রাউন্ডের বাইরে কয়েক বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে লাগানো হবে মাইক।

চকবাজার ওয়ার্ড কাউন্সিল র ও মহানগর নেতা  নূর মোস্তফা টিনু বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রামের গৌরবময় ভূমিকা আছে। চট্টগ্রামের উন্নয়নের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী নিজের কাঁধে নিয়ে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এবারও হয়তো চট্টগ্রামবাসীকে নিরাশ করবেন না। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে স্বাগত জানাতে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে বেশকিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’

উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এনায়েত হোসেন নয়ন চেয়ারম্যান  বলেন, পলোগ্রাউন্ড মাঠে জনসভা হলেও প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রীকে স্বাগত জানিয়ে জেলা ও নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত ব্যানার-ফেস্টুনে ছেঁয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় প্রবেশস্থানে বাঁশের ফ্রেম বানিয়ে বিশালাকার বিলবোর্ড তুলেছেন নেতারা।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সন্দ্বীপ উপজেলার মাইটভাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান  মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মিজান বলেন, ৪ ডিসেম্বর পলোগ্রাউন্ড মাঠে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা সফল করতে যুবলীগ দিন-রাত প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন লিফলেট বিতরণ, পথসভা, মিছিল হচ্ছে। সন্দ্বীপে প্রতিটি পাড়া-মহল্লার বাসাবাড়িতে জনসভায় যোগ দেওয়ার জন্য দাওয়াত দেওয়া হচ্ছে। জনসভা ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। যুবলীগের নেতা-কর্মীরা আগের যেকোনও সময়ের চেয়ে ঐক্যবদ্ধ।

মঞ্চ তৈরির কাজে নিয়োজিত সাহাবুদ্দিন ডেকোরেটার্সের স্বত্ত্বাধিকারী মো. সাহাবউদ্দিন বলেন, নৌকার আদলে ১৬০ ফুট দীর্ঘ মঞ্চটি তৈরির কাজ চলছে। মঞ্চের মাঝখানের ৪০-৮০ ফুটের মধ্যে ২০০ অতিথি বসবেন। মঞ্চের উচ্চতা হবে সাত ফুট। এছাড়াও মঞ্চের সামনে মুক্তিযোদ্ধা, ভিআইপি ও মহিলাদের বসার জন্য পৃথক প্যান্ডেল তৈরি করা হচ্ছে।