দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র, বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ হালদা নদীতে মা মাছ গত শনিবার সকালে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত শুরু হলে ডিম সংগ্রহকারীরা ডিম ছাড়বে বলে মনে করেছিল। এই দিন সাড়ে বারোটার দিকে বৃষ্টিপাত বন্ধ হয়ে যায়। সকালে বৃষ্টিপাতের ফলে নদীতে ঢলের সৃষ্টি হয়। নদীতে ঢলের ফলে  রবিবার সকাল নয়টা,সাড়ে নয়টার দিকে জোয়ারের সময় মাছ নমুনা ডিম ছেড়েছে। নদীর উপরী ভাগে অংকুরীঘোনা,গড়দুয়ারা নয়াহাট, সিপাহির, পাতাইজ্জ্যার টেক, কাগতিয়াটেক প্রভুতি স্হানে প্রতিজন ডিম আহরনকারী একশ,দেড়শ এবং সর্বোচ্চ দুইশ গ্রাম ডিম  পেয়েছে। এদিকে জোয়ার পরিপূর্ণ হলে বারোটা, সাড়ে বারোটার দিকে মাছের নমুনা ডিম ছাড়া বন্ধ হয়ে যায়। পরে নদীতে ভাটা শুরু হলে তিনটা, সাড়ে তিনটার দিকে পুনরায় নমুনা ডিম ছাড়া শুরু হয়। একই ভাবে নদীর মাছুয়াঘোনা, আজিমারঘাট, নাপিতেরঘাট, কুমারখালী, ফারিরমুখ প্রভৃতি এলাকায় ও সকালে দিকে সামান্য পরিমাণ নমুনা ডিম পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। ইতিপূর্বে আমাবস্যা, পূর্ণিমার পাঁচটি জো/ তিথি চলে গেছে। এইসব জো/ তিথিতে ডিম আহরনকারীরা ডিম সংগ্রহের সরঞ্জাম নিয়ে নদীতে প্রস্তত থাকলে ও অনুকূল পরিবেশ না পাওয়ায় মাছ ডিম ছাড়েনি। জুন মাসের এই আমাবস্যার শেষ  জো  ডিম ছাড়ার এই বছরের শেষ জো/ তিথি। সর্বশেষ এই জোর অপেক্ষায় ছিল ডিম আহরনকারীরা। গতকাল রবিবার সকালে নদীতে নমুনা ডিমের আলামত দেখে বিকালে ভাটার সময়ে জন্য অপেক্ষা করেছিল। কিন্তু বিকালে ভাটার সময় ও কিন্তু মাছ ডিম ছাড়েনি।ভাটার সময় নদীর নীচের দিকে ডিম ছাড়ার খবর পেয়ে ডিম সংগ্রহকারীরা নৌকা নিয়ে দ্রুত নীচের দিকে চলে যায়। তবে তেমন ফল হয়নি। ডিম ছাড়েনি মাছ।  গতকাল রবিবার দিবাগত রাতে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হলে মাছ ডিম ছাড়তে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ডিম আহরনকারী ও হালদা গবেষকেরা। গড়দুয়ারা নয়াহাট এলাকার ডিম সংগ্রহকারী কামাল সওদাগর জানান, তার পাঁচটি নৌকা রয়েছে। গতকাল রবিবার তার নৌকায় সকাল থেকে দেড়শ, দুইশ গ্রাম ডিম পাওয়া গেছে। এদিকে মাছুয়াঘোনা এলাকার ডিম সংগ্রহকারী মোঃ লোকমান জানান, তার ছয়টি নৌকা রয়েছে। গতকাল তিনি ও  গতকাল সারা দিনে একশ, দেড়শ গ্রাম ডিম আহরন করতে পেড়েছে বলে গনমাধ্যমকে জানান।
মধ্যম মার্দাশা এলাকার ডিম সংগ্রহকারী আশু বড়ুয়া জানান, তিনি ডিম আহরনের জন্য চারটি নৌকা নিয়ে নদীতে ছিল, তিনি ও দেড়শ, দুই গ্রামের মত ডিম সংগ্রহ করতে পেড়েছে বলে জানান।
হালদা গবেষক ড,শফিকুল ইসলাম জানান,
হালদায় কার্পজাতীয় মা মাছের ডিম ছাড়ার সর্বশেষ জোঁ অর্থাৎ অমাবস্যার জোঁ চলছে। ১৫ জুন থেকে শুরু হওয়া এই জোঁ চলবে ২০ জুন পর্যন্ত। গত শনিবার সকালে বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের ফলে হালদায় পাহাড়ি ঢ়ল নেমে আসে অনুকুল পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় হালদার বিভিন্ন স্পনিং গ্রাউন্ডে গতকাল রবিবার অল্প পরিমানে নমুনা ডিম পাওয়া গেছে । রাতে বৃষ্টি হলে ও পাহাড়ি ঢ়ল নামলে কার্পজাতীয়  মাছ পূরোদমে ডিম ছেড়ে দেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিচার্স ল্যাবরেটরির সমন্বয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রানীবিদ্যা বিভাগের সভাপতি ও হালদা গবেষক অধ্যাপক ডঃ মনজুরুল কিবরিয়া জানান, হালদা নদীতে মা মাছ গতকাল রবিবার নমুনা ডিম ছেড়েছে। শনিবার সকালে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হলে নদীতে ঢলের সৃষ্টি হয়। কিন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত ছিল না। ফলে এই শেষ  তিথিতে মাছ গতকাল রবিবার সকালে নমুনা ডিম ছেড়েছে। রাতে বৃষ্টিপাত হলে নদীতে পর্যাপ্ত ঢলের সৃষ্টি হলে ডিম ছাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যাক্ত করেছেন।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারহানা লাভলী সকালে নদীতে নমুনা ডিম ছেড়েছে বলে গনমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।