১৬২১ নং রেজিস্ট্রািকৃত বায়না দলিলের তফসীলে বি.এস  দাগ ভুলের অজুহাত দেখিয়ে উল্লেখিত এজাহার ভুক্ত আসামিগন সৎসঙ্গ বিহার বাকলিয়া চট্টগ্রামের স্টেট অফিসার সংখ্যালঘু পলক ধরকে অপহরণ করে ।

 

অপহরণকারী  মোহাম্মদ আলী মিয়া ,সাং মাদার্সা হাটহাজারী মোহাম্মদ সেলিম সাং বাকলিয়া মোঃ শওকত সাং বাকলিয়া, মোঃ লাভু সাবেক কাউন্সিলর ৩৩ নং ওয়ার্ড আলকরন অপহৃত পলক ধরের কাছ থেকে  তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ছয়টি নন জুডিশিয়াল  খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর  নিয়ে সোনালী ব্যাংক লালদীঘি শাখার দুইখানা বত্রিশ লাখ টাকার চেক নেন এবং নগদ   এক লক্ষ টাকা  মুক্তিপণ নিয়ে অপহরণকারীদের জিম্মি দশা থেকে পলকধরের স্ত্রীর সহযোগিতায় ঘটনার দিন রাত ৭টা ৫০ মিনিটে মুক্তি পান ।


গত  ৫ ই জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় নগরীর কোতোয়ালি থানাধীন কবি নজরুল ইসলাম সড়কের রাজ হোটেল সংলগ্ন কথিত আলি  বিল্ডিং নামীয় বিল্ডিংয়ের নিচ তলার একটি রুমে এই ঘটনা ঘটে।

মোহাম্মদ আলী মিয়া , মোহাম্মদ সেলিম মোঃ শওকত মোঃ লাভু এই ৪জনের  নাম উল্লেখ করে আরো অজ্ঞাত নামা ব্যক্তিগনের বিরুদ্ধে অপহৃত  পলক ধর মামলা দায়ের করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমলী ও বিচারিক আদালত -(১ ) সি. আর মামলা নং ১৩৭১/২০২৪ (কোতোয়ালি থানা) ।

বিজ্ঞ আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)কে এক মাসের মধ্যে তদন্তের প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন ।

মামলা সূত্রে জানা যায়,  এজাহারে উল্লেখিত বায়নায় বর্নিত বাকলিয়ার স্থায়ী বাসিন্দা এজাহার মিয়া আর এস পিএস এবং বি এস খতিয়ানের রেকর্ডিয় মালিক ছিলেন, তাহার জীবদ্দশায় তার পাঁচ পুত্রের নামে প্রায় তেত্রিশ কানি ভূমি রেজিস্ট্রিকৃত দান পত্র দলিল মুলে হস্তান্তর করেন। পরবর্তীতে তাহার পাঁচ পুত্র তাহাদের নামে নামজারি খতিয়ান নং ১৭২০ সৃজন করিয়া ভোগ দখলে থাকা অবস্থায় তাহাদের অপর ভাই নুরুল হুদার টাকার বিশেষ প্রয়োজনে জনৈক জাবেদ  বিন মাহমুদ
হইতে সাত কোটি টাকার চেক  জমা রেখে রেজিস্ট্রিকৃত ১৪১০২ নল আমমোক্তার নামা দলিল মূলে  তাহার প্রাপ্য অংশ  হস্তান্তর করেন।

মামলার বাদীর খরিদা মালিকানাধীন জায়গা বিক্রয় করার জন্য বিভিন্ন ব্যক্তির বরাবরে জায়গার কাগজের ফটোকপি প্রদান করেন। অনুরূপভাবে এজাহারভুক্ত দুই নং আসামী মোহাম্মদ সেলিম ও  ৩ নং আসামি মোহাম্মদ শওকতের   মারফৎ  ১নং আসামী মোহাম্মদ আলী মিয়ার বরাবরে বাদী তাহার জায়গার কাগজ পত্র প্রদান করেন। একপর্যায়ে গত ৫ই জুন  সন্ধ্যায়   বাদীকে জায়গার মূল কাগজপত্র নিয়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য বলিলে বাদী ১-৪নং আসামীগণের কথামত ১নং আসামীর বর্তমান ঠিকানায় উপস্থিত হন। একপর্যায়ে ১-৪নং আসামীগণ  বাদীর মূল কাগজপত্র দেখে জায়গার দরদাম নির্ধারণ করার জন্য বলে।  বাদী জায়গার পূর্ব নির্ধারিত দাম ব্যতিত বিক্রী করিবে না বলিলে ১-৪নং আসামীগণ পূর্বক নির্ধারিত দাম ব্যতিত তাহাদের নির্ধারিত নামমাত্র মূল্যে সম্পত্তি বিক্রী করিবার জন্য বাদীর খরিদা বিগত ২৮শে মার্চ  ২০২৪ ইং তারিখ ১৬২১ নং বায়না দলিলের বায়া বিগত ৬ই  আগস্ট ২০১২ইং তারিখে রেজিষ্ট্রীকৃত ১৪১০২ নং দলিলের তপশীলের বি. এস. দাগ ভুলের বেআইনি অজুহাত সৃষ্টি করে ১নং আসামী বাদীর প্রতি অমানসিক নির্যাতন ও চাপ প্রয়োগ করেন এবং খালি নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর দিতে বাঁদিকে বাধ্য করেন।
এমতাবস্থায়  বাদী ১-৪নং আসামীগণের নিকট সম্পত্তি বিক্রী করিবে না বলিয়া জায়গার মূল কাগজপত্র ১নং আসামীর নিকট ফেরত চাহিলে উপরোক্ত ১-৪নং আসামীগণ বাদীকে অমানসিক নির্যাতন করা সহ বেআইনীভাবে আটক রাখিয়া ৩৩,০০,০০০/- (তেত্রিশ লক্ষ) টাকা চাঁদা সকল আসামীগণকে প্রদান করার জন্য মামলার বাদীকে চাপ প্রয়োগ করিয়া এক পর্যায়ে বাদীর স্ত্রীকে ফোন করিতে বাধ্য করেন। বাদী নিরুপায় হইয়া বাদীর নিজ ব্যবহৃত ০১৮১৮৯৯১১০৭ মোবাইল নাম্বার হইতে তাহার স্ত্রীর ব্যবহৃত ০১৮২৪৯২২৪৪৪ নং মোবাইল নাম্বারে ফোন করিয়া বাদী তাহার স্ত্রীকে চেক বই ও নগদ ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকা নিয়ে ঘটনাস্থলে আসিতে বলেন।

একপর্যায়ে ১-৪নং আসামীগণ  বাদীর ব্যবহৃত মোবাইল সহ জায়গা জমির অপরাপর সকল কাগজপত্র জোরপূর্বক চিনিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম গ্রহণ করেন। ১নং আসামী ধারালো একখানা ছুরি বাদীর গলা বরাবর তাক করিয়া বাদীর নিকট রক্ষিত দুইটি বাদীর নামীয় সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, লালদিঘী শাখা, চট্টগ্রাম এর হিসাব নং- ১০০৯০২৪০০০৪৭৯ এর চেক নং- ১) CE 509917956, ২) CE 509917957 নম্বরের ২টি চেক অধীন বাদীকে প্রাণে হত্যার হুমকি দেখাইয়া জোরপূর্বক  স্বাক্ষর নেন। একপর্যায়ে ১ ও ২নং আসামীগণ তাহাদের নিকট রক্ষিত ৬টি নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্প যাহার প্রতিটি ১০০/- টাকা মূল্যমানের, তাহা ২নং আসামী বাহির করিয়া লয় এবং ১নং আসামী পুনরায় ধারালো ছুরি বাদীর গলায় চাপিয়া ধরিয়া উক্ত ৬টি ১০০/- টাকার নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে বাদীকে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করেন এবং ১নং আসামী বলিতে থাকেন যে, যদি ষ্ট্যাম্পে বাদী স্বাক্ষর প্রদান না করে তাহলে ১নং আসামী বাদীর শিরচ্ছেদ করিবে মর্মে হুমকি প্রদান করায় বাদী বাধ্য হয়ে প্রাণ ভয়ে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য হন।
এবং নগদ টাকা চেক নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিয়ে  অপহৃত সংখ্যালঘু পুলকধর অবশেষে মুক্ত হন।