- মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী -
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে অস্থায়ীদের স্থায়ীকরণ হাইকোর্টে চলমান মামলা ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে গত ১৫ থেকে ২০ বছর কোন স্থায়ী কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করা যাচ্ছিল না। গত দু’বছর আগে অর্থাৎ ২০২২ সালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে সহকারী প্রকৌশলী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এরপর প্রাপ্ত আবেদনের ভিত্তিতে লিখিত ও মৌখিক দু’পর্বে নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হয়। এই নিয়োগ পরীক্ষার লিখিত পরীক্ষা নেয়া,খাতা মূল্যায়ন ইত্যাদি কাজগুলো চুয়েট কর্তৃক করা হয়েছিল। চুয়েট কর্তৃক প্রেরিত রেজাল্টের ভিত্তিতে নিয়োগও পদোন্নতি কমিটি কর্তৃক মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হয় এবং ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
চসিক এর নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী উক্ত নিয়োগ ও পদোন্নতি কমিটির সভাপতি ছিলেন মেয়র। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ছিলেন সদস্য সচিব । এছাড়াও এ কমিটিতে সদস্য ছিলেন সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রাম, চুয়েটের প্রতিনিধি, চসিকের প্রধান প্রকৌশলী ও সচিব ।
সুত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন যাবত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের দুর্নীতিবাজ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ তৌহিদুল ইসলাম ও সাবেক সচিব( যিনি প্রায় এক বছর পূর্বে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন থেকে ঢাকায় বদলি হন) খালেদ মাহমুদের সাথে গ্রুপিং চলছিল। এক পর্যায়ে শেখ তৌহিদুল ইসলাম সুকৌশলে খালেদ মাহমুদ ছাত্র জীবনে শিবির করতো এবং এখন জামাত করে এই ধরনের তকমা লাগিয়ে তাকে ঢাকা বদলি করান এবং সাবেক মেয়র রেজাউল করিমের সহিত যোগসাজোশে দুই দিনের মাথায় তাকে রিলিজ করে দেন।
সম্প্রতি শেখ তৌহিদুল ইসলামের দুর্নীতি ও অপকর্মের কথা সারাদেশের বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হলে শেখ তৌহিদুল ইসলাম খালেদ মাহমুদকে সন্দেহ করে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য উঠে পড়ে লাগেন। এরই অংশ হিসেবে প্রথমে খালেদ মাহমুদের বিরুদ্ধে অস্থায়ীভাবে কাজ নাই মজুর নাই ভিত্তিতে লোক নিয়োগের অভিযোগ পত্রপত্রিকায় প্রকাশ করান। অথচ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সচিব পদটি নীতি নির্ধারণী পদ নয়। এই পদটি আদেশ বাস্তবায়ন কারী পদ। সচিব শুধুমাত্র মেয়র এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা যে আদেশ দেন তাই বাস্তবায়ন করতে পারেন। এর বাইরে একক সাক্ষরে একক ইচ্ছায় কিছুই করার ক্ষমতা সচিব চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নেই।
জানা যায়, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজেও এই ধরনের প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জনকে নিয়োগ দিয়েছেন।এমনকি গত পাঁচ আগস্ট ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের কিছুদিন আগেও এরকম চারজনকে তিনি নিজেই তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে নিয়োগ দিয়েছেন। এতেই তিনি ক্ষান্ত হননি। কারণ তিনি জানেন এই ধরনের নিয়োগের অপপ্রচার চালিয়ে খালেদ মাহমুদের কোন ক্ষতি করা যাবে না। কারণ এগুলো সচিব নিয়োগ দেয় নাই। মূলত নির্বাহী কর্মকর্তা, মেয়রের আদেশই সচিব বাস্তবায়ন করেছেন।
সূত্রে আরো জানা যায়, এজন্য তিনি নতুন কৌশল অবলম্বন করে গোপনে নিয়োগ সংক্রান্ত নথি থেকে কাগজপত্র সরিয়ে প্রাক্তন সচিব খালেদ মাহমুদকে নথিতে কাগজ পাওয়া যাচ্ছে না মর্মে চিঠি দেন। চিঠির নির্দেশনা মোতাবেক আজ বৃহস্পতিবার(১২ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত অপেক্ষা না করে বিভিন্ন কর্মচারী দিয়ে ফোন দিতে থাকেন। এখানেই ক্ষান্ত হননি তিনি খালেদ মাহমুদকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টায় চিঠি দেওয়ার বিষয়টি বিভিন্ন পত্রিকায় প্রচারও করেন।এতে প্রমাণিত হয় তিনি ইনটেনশনালি খালেদ মাহমুদের বিরুদ্ধে এই চিঠিটি দিয়েছেন।
এই কৌশলবাজ কর্মকর্তা আওয়ামী লীগ আমলে নিজেকে আওয়ামী লীগ, ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগ করতেন বলে প্রচার করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে রেজাউল- তৌহিদ সিন্ডিকেট সৃষ্টি করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। তিনি নিজেকে আওয়ামী লীগ দাবি করে সব সময় জনৈক উপজেলা চেয়ারম্যান (তার আপন খালাতো ভাই)এর ক্ষমতা দেখাতেন। তিনি গত নির্বাচনে হালিশহর এলাকার বাচ্চু সাহেবের চট্টগ্রাম ওয়াসার পাশে নির্বাচনী ক্যাম্পে সন্ধ্যার পর গিয়ে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার কাজও করেছেন। এছাড়া ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের সময় তিনি সড়ক বাতি নিভানো সহ লন্ডনে থেকে ছাত্রদের উপর আক্রমণের জন্য বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছেন বলে সূত্রে জানা যায়।