বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিক মুসলমান হলেও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীগণ যুগ যুগ ধরে সকল নাগরিকদের সাথে সমঅধিকার নিয়ে নিরাপদে বসবাস করে আসছেন। দেশের প্রত্যেক নাগরিক ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্মকর্ম পালনসহ  মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা ভোগ করছে।আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিকগণ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সর্বদায় সচেতন। অতীতেও এর উল্লেখযোগ্য নজীর রয়েছে।
     প্রায়শই দেখা যায় দেশের স্বার্থান্বেষী মহল রাজনৈতিক স্বার্থ সিদ্ধির জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে সংখ্যালঘু নির্যাতন ও নিপীড়নের অতিরঞ্জিত ভুয়া ও ভিত্তিহীন খবর প্রচারপূর্বক শান্তি শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করে জনমনে আতংক সৃষ্টিসহ বহি বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি ও সুনাম ক্ষুন্ন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকে।বিগত ০৫ আগষ্ট ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পরপরই ছাত্র,জনতা এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা বিধানে চমৎকার ও প্রশংসনীয় ভুমিকা পালন করেছে।এবছর সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ এবং আনন্দোৎসবের সাথে পালিত হয়েছে।দেশের সকল সম্প্রদায় ভাতৃত্বের বন্ধনে শান্তিপূর্ণভাবে পাশাপাশি বসবাস করছে।
      ইসকন-এর  নেতা বাবু চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে কিছু গোষ্ঠী কর্তৃক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট,দাঙ্গাহাঙ্গামা ও অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির অপপ্রয়াস চালানো হয়েছে।চিন্ময় দাস কোন অপরাধে সাথে সম্পৃক্ত থাকলে তাঁকে গ্রেফতার ও আইনের আওতায় আনার অধিকার আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর রয়েছে।তিনি অপরাধী কিংবা দোষী কিনা তা আদালত নির্ধারণ করবে।এক্ষেত্রে ভাঙ্গচূর,জননিরাপত্তা বিঘ্নিতকরণ ও নিরীহ মানুষের প্রাণহানির অধিকার কারো নেই। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসকনের জঙ্গীদের হাতে  একজন নিরীহ মুসলমান আইনজীবীকে নির্মম ও নৃশংসভাবে প্রাণ দিতে হলো,তাদের হিংসাত্মক কার্যকলাপের কারনে জানমালের ক্ষয়ক্ষতিসহ শান্তি শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয়েছে যা কোন অবস্থাতেই সমর্থনযোগ্য নয়।ইসকন বিজ্ঞাপ্তি দিয়ে চিন্ময় দাসের এখতিয়ার বহির্ভূত কার্যকলাপের সাথে তাদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে।চিন্ময় দাসের গ্রেফতারের বিষয়টিকে উপলক্ষ করে ভারতের গণমাধ্যম বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নির্যাতন এবং নিপীড়নের খবর অতিরঞ্জিত ও ব্যাপকভাবে প্রচার করে বহি বিশ্বে ছড়িয়ে দেয় এবং সরকারি পর্যায়েও বিষয়টির গুরুত্বারোপ করে তাঁর মুক্তি দাবী করে।কিন্তু এঘটনাকে কেন্দ্র করে একজন নিরীহ  মুসলমানকে নৃশংসভাবে হত্যার বিষয়টি তারা সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে যায়।ভারতে বসবাসকারী  সংখ্যালঘু মুসলমানদের উপর প্রতিনিয়তই অত্যাচার ও নির্যাতন অব্যাহত আছে। সেখানকার মুসলমানগণ বাক স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত।প্রতিনিয়তই মুসলমানদের পবিত্র মসজিদের গেটের সামনে ঢাক বাজিয়ে কীর্তন করে প্রার্থনায় ব্যাঘাতসহ ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত করা হয়। এ ব্যাপারে তাদের মিডিয়া কিংবা সরকারের কোন কার্যকর ভুমিকা নেই। এসব আপত্তিকর কার্যকলাপের জন্য বাংলাদেশ থেকে কখনো জোরালোভাবে নিন্দা বা বক্তব্য প্রদান করা হয়নি।বাংলাদেশ কখনো তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে কোন প্রকার হস্তক্ষেপ কিংবা  মন্তব্য করতে ইচ্ছুক নয়।আমারাও প্রত্যাশা করি ভারত আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানো পরিহার করবে।আমরা ভারতকে ভালো প্রতিবেশী ও বন্ধু রাষ্ট্র  হিসেব দেখতে চাই। 
(লেখক একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা ও কলামিস্ট)।