দূর্নীতি ও অনিয়ম সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে।দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখা এবং হয়রানিমুক্ত নাগরিক সেবা নিশ্চত করতে হলে এর লাগাম টেনে ধরা অত্যাবশ্যক।দূর্নীতি প্রতিরোধ ও নির্মূল করার লক্ষে বিগত ২০০৪ সালে জাতীয় সংসদে দূর্নীতি দমন কমিশন আইন পাসের মাধ্যমে দূর্নীতি দমন কমিশন(দূদক) গঠিত হয়। গঠিত হওয়ার পর থেকে অদ্যাবধি কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেনি। ইতোমধ্যে এটি একটি বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।বড় বড় দূর্নীতি ও লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের ঘটনায় দূদক কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেনি। প্রচার আছে যে, দূদকের অনুসন্ধানকারী/তদন্ত কর্মকর্তাগণ তুচ্ছ, সাধারণ অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে অযথা হয়রানি এবং অনুসন্ধান বা তদন্তের নামে বছরের পর বছর সময় ক্ষেপন করেন।এতে অনেক সহজ সরল,নিরীহ, নির্দোষ কর্মচারী দীর্ঘ দিন সাময়িকভাবে বরখাস্ত থেকে পদোন্নতি ও অবসর ভাতা থেকে বঞ্চিত হয়ে পরিবার তথা সমাজের কাছে নিগৃহীত হয়ে থাকেন।উপরন্তু দূদকের দায়ের করা বেশিরভাগ মামলা আদালত কর্তৃক খারিজ হয়ে যেতেও দেখা যায়।এর অন্যতম কারন হলো- বড় বড় প্রভাবশালীকে বাঁচানোর বা তাঁদের দূর্নীতি গোপন/আড়াল করার লক্ষে সাধারণ কর্মচারীদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত ছোটখাট অভিযোগ এবং মিথ্যা অভিযোগকে সাজিয়ে মামলায় রুপান্তর এবং দূর্নীতি প্রতিরোধে বিপুল সংখ্যক মামলা দায়ের দেখিয়ে কমিশনের সাফল্য প্রচার করা হয়। কমিশনকে স্বচ্ছ,স্বাধীন ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রুপান্তরের জন্য সরকার কর্তৃক ইতোমধ্যে একটি সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছে। গঠিত কমিশন এ ব্যাপারে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানা যায়।দূদকের প্রয়োজনীয় সংস্কার ও দূর্নীতি প্রতিরোধে এটিকে একটি স্বাধীন ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষে নিম্নোক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে:-
ক। দূদকের সংস্কার :-
(১) দূদকে গৃহীত কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে প্রমানক ভিত্তিক দূর্নীতির অভিযোগ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া বা যে কোন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত প্রমানক ভিত্তিক দূর্নীতির অভিযোগ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দূদকের গোচরীভূত হওয়ার সাথে সাথে কমিশনের অনুমতিক্রমে দ্রুত প্রাথমিক অনুসন্ধানের কাজ শুরু করতে হবে।যদি প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয় যে, এতে বড় ধরনের দূর্নীতির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের সম্পত্তি হস্তান্তর,ব্যাংক হিসাব জব্দ বা স্থগিত ও বিদেশ গমণের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে;
(মন্তব্য: ইতোপূর্বে দৈনিক পত্রিকায় সাবেক আইজিপি বেনজির আহমদের বিরুদ্ধে প্রমানকসহ শতাধিক কোটি টাকার দূর্নীতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রচার হওয়া সত্বেও দূদক লিখিত অভিযোগ না পাওয়ার অজুহাতে অনুসন্ধান করেনি। পর্যাপ্ত সময় পাওয়ার কারনে বেনজির আহমেদ সম্পত্তি হস্তান্তর ও ব্যাংক থেকে টাকা উঠিয়ে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ গ্রহণ করেন।এরকম অনেকেই অনুরূপ সুযোগ গ্রহণ করেছে)।
(২) প্রাপ্ত অভিযোগ/অভিযোগসমূহের সত্যতা নিশ্চিত করনে প্রাথমিক অনুসন্ধান রেকর্ডস/প্রমানকের ভিত্তিতে সম্পন্ন করতে হবে এবং অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার সুপারিশসমূহ সম্পূর্ণ রেকর্ড ও তথ্য ভিত্তিক হতে হবে। অনুমান ভিত্তিক বা মনগড়া প্রতিবেদন দাখিল করা যাবে না। কোন অবস্থাতে ইচ্ছাকৃত,বিদ্বেষ প্রসূত বা কাল্পনিক ধারনার ভিত্তিতে কারো বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা প্রতিষ্ঠিত করা যাবে না;
(৩) অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা/কমিটির দাখিলকৃত প্রতিবেদনের সুপারিশসমূহ পরবর্তী তিনটি পর্যায়ে অর্থাৎ পরিচালক,আইন কর্মকর্তা ও মহাপরিচালক নিবিড় ও পুন্খাপুন্খভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে প্রতিটি অভিযোগ ভিত্তিক প্রদত্ত সুপারিশের উপর তাঁদেরকে পৃথক মতামত প্রদান করতে হবে;
(মন্তব্য:অনেকক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃত,বিদ্বেষ প্রসূত বা আর্থিক সুবিধাদি প্রাপ্তির জন্য মিথ্যা অভিযোগকে সত্যে রুপান্তর করে অভিযুক্তকে অযথা হয়রানির সম্মুখীন করা হয়।এতে নির্দোষ ব্যক্তিকে চরম সমস্যা ও আইনী জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়)।
(৪) এফআইআর অনুমোদনের জন্য কমিশনের আহবা্নকৃত সভায় উপস্থাপিত প্রতিবেদনের সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা/কমিটির সদস্য এবং প্রতিবেদন পরীক্ষা-নিরীক্ষাকারী কর্মকর্তাগণ উপস্থিত থেকে তাঁদের প্রদত্ত মতামতের স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় যৌক্তিকতা উপস্থাপন করবে। অত:পর সভায় উপস্থিত কর্মকর্তাদের মতামত, সংশ্লিষ্ট সুপারিশ সম্বলিত প্রতিবেদনের সার্বিক বিষয় বিচার বিশ্লেষণ ও গুরুত্ব বিবেচনা করে কমিশন এফআইআর কিংবা নথিভুক্ত করার অনুমোদন প্রদান করবে।সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা ইচ্ছাকৃতভাবে,বিদ্বেষ প্রসূত বা আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে মিথ্যা অভিযোগকে সত্য এবং সত্য অভিযোগকে মিথ্যা অভিযোগ হিসেবে প্রমান করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং এতে উক্ত কর্মকর্তার দুর্নীতির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে দূদক আইনের আওতায় দুর্নীতির অভিযোগে আইনানুগ পদক্ষেপ গৃহীত হবে;
(মন্তব্য: উদ্দশ্যেমূলকভাবে মিথ্যাকে সত্যে এবং টাকার বিনিময়ে সত্যকে মিথ্যায় পরিণত করার অভিযোগ হয়ে থাকে।উক্ত রুপ ব্যবস্থা চালু হলে সেটা হ্রাস পাবে এবং নিরীহ মানুষ হয়রানি মুক্ত হবে)।
(৫) কমিশনের সভায় উপস্থাপিত অনুসন্ধান প্রতিবেদন পর্যালোচনান্তে কমিশনের নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে, অভিযুক্ত/অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ গুরুতর নয় এবং মামলা করলে আদালত কর্তৃক গুরুতর শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা কম, তাহলে সংশ্লিষ্ট অভিযুক্ত/অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করার জন্য কমিশনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানাতে হবে;
(৬) এফআইআর করার পর তদন্ত কর্মকর্তা/তদন্ত কমিটি আনীত প্রতিটি অভিযোগ সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে প্রমানক ও গ্রহণযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত কাজ সম্পন্ন করবে।অভিযুক্তকে সকল প্রকার প্রচলিত আইনী সুবিধা ও ন্যায্য অধিকার প্রদান নিশ্চিত করতে হবে;
(৭) তদন্ত প্রতিবেদন প্রমানক ও তথ্য ভিত্তিক হতে হবে।দাখিলকৃত প্রতিবেদনটি অনুসন্ধান প্রতিবেদনের ন্যায় তিনটি পর্যায়ে পরিচালক,আইন কর্মকর্তা ও মহাপরিচালক নিবিড়ভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে তাঁদের মতামত প্রদান করবেন।অত:পর কমিশনের সভায় উপস্থাপন করা হলে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য গ্রহণ ও সার্বিকভাবে সকল বিষয়াদি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করে কমিশন আদালতে চার্জশীট দাখিলের অনুমোদন প্রদান করবে;
(৮) তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ উত্থাপিত হলে কমিশন তাৎক্ষনিকভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। মিথ্যা,মনগড়া,অবাস্তব,
অযৌক্তিক ও প্রমানকহীন তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।এধরণের প্রতিবেদন দাখিল করা হলে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষে বিভাগীয় মামলা/দূর্নীতির মামলা রুজু করতে হবে;
(৯)দূর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধানকারী/ তদন্ত কর্মকর্তা ও তত্বাবধানকারী কর্মকর্তাদের স্বচ্ছতা,ন্যায় নিষ্ঠতা,নিরপেক্ষতা ও দক্ষতা দুনীতি প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য ভুমিকা রাখে। উক্ত কর্মকর্তাগণ প্রচুর ক্ষমতার অধিকারী হওয়ায় তাঁদের পক্ষে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নানাভাবে হয়রানি করার সুযোগ থাকে যেমন-একই বিষয়ে বারবার বক্তব্য গ্রহনের নোটিশ প্রদান,স্বীকারোক্তি আদায়ের অপচেষ্টা,তদন্ত কর্মকর্তা নিজেরমতো বক্তব্য লিখে অভিযুক্তের স্বাক্ষর গ্রহণ, চাহিদাকৃত মোটাংকের অর্থ না দিলে অপরাধী বা দোষী করার জন্য হুমকি বা চাপ প্রদান ইত্যাদি। মামলার ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের অর্থ আদায়ের অপচেষ্টা ও হয়রানি রোধে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে;
(১০) দুদকের কোন কর্মকর্তা/কর্মচারী দুর্নীতির সাথে জড়িত হয়ে অপরাধ করলে বা সংশ্লিষ্ট থাকলে তাদের বিরুদ্ধে সাধারণ ব্যক্তিবর্গের ন্যায় তদন্ত করে দূদক আইনের আওতায় পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে;
(১১) দূদকের সকল গ্রেডের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগসমূহ বাইরের অন্য কোন সংস্থা দিয়ে যথা-সিআইডি/পিবিআই এর মাধ্যমে তদন্ত করা যেতে পারে।দূদকের জবাবদিহিতা না থাকায় ক্ষমতার অপব্যবহারের সম্ভাবনা থেকে থাকে।দেশের সরকার প্রধানকেও জবাবদিহি করতে হয় কিন্তু দূদকের জবাবদিহির ব্যবস্থা না থাকায় একজন সাবেক চেয়ারম্যান বলেছিলেন তাঁরা বিবেকের নিকট জবাবদিহি করেন।কমিশনকে মাননীয় প্রধান বিচারপতির নিকট জবাবদিহির বিধান রাখা যেতে পারে;
(১২) কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ উত্থাপিত হলে নির্দিষ্ট সময় সীমার মধ্যে অনুসন্ধান ও তদন্ত কাজ সম্পন্ন করার লক্ষে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া সমীচীন হবে।নির্দিষ্ট সময় সীমার মধ্যে অনুসন্ধান বা তদন্ত কাজ সম্পন্ন করতে না পারলে অভিযোগ অকার্যকর করে ব্যর্থতার জন্য সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধানকারী/তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পদ্ধতি চালু করা যেতে পারে।এতে বছরের পর বছর সময় ক্ষেপন দূর হবে এবং অভিযুক্তরা হয়রানি মুক্ত হবে;
(১৩) কোন ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত বক্তব্য গ্রহণের সময় থেকে তাকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন এবং যে কোন প্রকার খারাপ আচরণ,
ভয়-ভীতি প্রদর্শন, হয়রানি ও বিষয়টির মিডিয়ায় প্রচার বন্ধ করতে হবে। অতীতে অনেক নিরপরাধ লোকের দূর্নীতি সংক্রান্ত খবর মিডিয়ায় প্রচার করে সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্ন করা হয়েছে;
(১৪) প্রচার আছে যে,দূদকের নীচের পর্যায়ের বিশেষ করে অনুসন্ধান/তদন্ত কাজে নিয়োজিত উপ সহকারী পরিচালক,সহকারী পরিচালক,উপ পরিচালক ও পরিচালক পর্যায়ের বেশিরভাগ কর্মকর্তা/কর্মচারী বিপুল অর্থ সম্পদের মালিক।কমিশনের স্বচ্ছতার স্বার্থে তাঁদের নিকট থেকে সম্পদের হিসাব গ্রহণ করে যাচাই-বাচাইপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ।তাঁদের বিরুদ্ধে দূর্নীতি এবং হয়রানির অভিযোগ উত্থাপিত হলে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ।মিথ্যা অভিযোগ কিংবা বিদ্বেষ প্রসূত সাজানো অভিযোগ অনুসন্ধানের নামে হয়রানির প্রমান পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে দুর্নীতি দমন আইনের আওতায় আনয়ন।বর্তমানে দূদকের দূর্নীতিবাজ কর্মচারী বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমান হলে লঘু দন্ড এবং সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে চাকরিচ্যূত করা হয়।কিন্তু দুর্নীতির অপরাধের জন্য তাদেরকে দূর্নীতি দমন আইনের আওতায় আনা হয় না বলে অনেকেই মনে করে;
(১৫) দূদকের উচ্চতর পদে বিশেষ করে মহাপরিচালক পদে প্রেষণে নিয়োগ সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।উক্ত পদে ৪০% পদ পরিচালক বা সমমান পদ থেকে পদোন্নতির মাধ্যমে এবং ৬০% পদ বিচার বিভাগ, সামরিক বাহিনী থেকে প্রেষণে কিংবা সুনামধন্য সৎ, নিষ্ঠাবান ব্যক্তিকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা যেতে পারে;
(১৬) চেয়ারম্যান, কমিশনার নিয়োগে অধিকতর স্বচ্ছতা,নিরপেক্ষতা, দক্ষতাকে প্রাধান্য দিতে হবে।তাঁরা যোগদানের সাথে তাঁদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের হিসাব মন্ত্রী পরিষদ বিভাগে জমা দেবেন।
খ। দূর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধে নিন্মোক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে:-
১। (১)জমি,প্লট,ফ্ল্যাট,দোকান,কমার্শিয়াল স্পেস, বাড়ির মালিকানা স্থানান্তরে নিবন্ধনের কার্যক্রম সাব রেজিস্ট্রার এবং নামজারীর কার্যাবলী সহকারী কমিশনার (ভুমি) সম্পন্ন করেন। উক্ত দু'টি অফিসের ডাটাবেইজ সার্ভারের সাথে দূদক এবং এনবিআর-এর আন্ত:সংযোগ স্থাপন করা যেতে পারে;
(২) এক্ষেত্রে স্থাবর সম্পত্তি ক্রয় বা অন্য কোনভাবে মালিকানা অর্জন/স্থানান্তরের তথ্যাবলী তাৎক্ষনিকভাবে দূদক এবং এনবিআর- এর সার্ভারের জমা হবে।এতে উক্ত দুটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে আলোচ্য সম্পত্তির ক্রয়- বিক্রয়ের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পরিবীক্ষন করা সম্ভব হবে;
(৩) আলোচ্য সম্পত্তি ক্রয়ে ব্যয়িত অর্থ বৈধ, অবৈধ কিংবা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত কিনা তা দূদকের নিকট যাচাই করা প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হলে, কমিশনের অনুমতিক্রমে দূদক সংশ্লিষ্ট ক্রেতার নিকট অর্থের উৎস চাইতে পারবে এবং বিষয়টি আইনী প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হবে;
(৪) অপরদিকে ক্রেতা/বিক্রেতার টিআইএন নম্বর আছে কিনা,তাঁরা পূর্ববর্তী অর্থ বছরে ক্রয়কৃত সম্পত্তি বা বিক্রয়লব্ধ অর্থ স্ব-স্ব রিটার্নে প্রদর্শন করছেন কিনা তা আয়কর অফিস পরিবীক্ষন করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে;
(৫) তাছাড়া নিবন্ধনের সময় সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি ক্রয়ে ব্যয়িত অর্থের উৎস সংক্রান্ত ক্রেতার একটি ঘোষণাপত্রও দলিলের সাথে সংযোজনের নিয়ম করা যেতে পারে।এতে দূর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বিনিয়োগে ভয়-ভীতি তৈরি এবং দূর্নীতিতে নিরুৎসাহিত হবে।উল্লখিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে দূর্নীতি ও অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ বিনিয়োগে জবাবদিহির আওতায় আসবে।ফলে দূর্নীতিবাজ, চোরাকারবারি ও অবৈধ পথে অর্থ উপার্জনকারীগণ কিছুটা হলেও ভয়ভীতির মধ্যে থাকবে।
২। সরকারী/আধা-সরকারী, স্বায়ত্তশাসিত ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব সংরক্ষণের লক্ষে প্রতিটি দপ্তরের জন্য: -
(১)একটি ডাটাবেইস/সফটওয়ার তৈরি করা যেতে পারে।প্রতিটি প্রধান দপ্তর বাধ্যতামূলকভাবে এটা সংরক্ষণ করবে এবং পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োজিত করবে ;
(২) চাকরিতে যোগদানের সময়কালে সকল গ্রেডের কর্মচারী(স্ত্রী,ছেলে-মেয়ে,নির্ভরশীল পোষ্যসহ)জাতীয়
পরিচয়পত্রের বিপরীতে নির্ধারিত ফরম্যাটে তাদের যাবতীয় স্থাবর,অস্থাবর সম্পত্তি ও দায়- দেনা সংক্রান্ত ঘোষণাপত্র(প্রমানকসহ) প্রদান করবে।উক্ত ফরমেটে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর গ্রেড,বেতনক্রম,মূল বেতনসহ মাসিক প্রাপ্ত সর্বমোট বেতন উল্লেখ থাকবে সঞ্চয় পত্রের ন্যায় অনুরূপভাবে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ডাউনলোড করলে যাতে(একটি ছাতার মধ্যে) সকল তথ্য পাওয়া যায় সে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে;
(৩) কর্মরত সকল গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও অনুরুপ ঘোষণাপত্র নিয়ে উক্ত ডাটাবেইজে আপলোড করে রাখতে হবে;
(৪) প্রতি অর্থ বছর শেষে আগস্ট মাসের মধ্যে সকল গ্রেডের কর্মচারী তাদের বিগত অর্থ বছরের সম্পদের হ্রাস বৃদ্ধি সংক্রান্ত ঘোষণাপত্র
(প্রমানকসহ) নিজ নিজ অফিসে দাখিল করবে। সংশ্লিষ্ট অফিস উহা যাচাই-বাচাই করে ডাটাবেইজ আপডেট করবে;
(৫) কোন কর্মচারীর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উত্তাপিত হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ডাটাবেজে সংরক্ষিত তথ্যাদির ভিত্তিতে বিষয়টি পরীক্ষা নিরীক্ষা করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে;
(৬) উক্ত সার্ভারের সাথে দূর্নীতি দমন কমিশনের আন্ত: সংযোগ থাকবে।কোন কর্মচারী বিরুদ্ধে দূদক- এর নিকট কোন অভিযোগ উত্থাপিত হলে দূদক তাৎক্ষণিকভাবে এনআইডি'র বিপরীতে লিপিবদ্ধকৃত সম্পদের হিসাব বের করে যাচাই বাছাই ও পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে পারবে।একইসাথে সাব রেজিস্ট্রার ও এসি ল্যান্ডের সার্ভার থেকে তথ্য সংগ্রহ করে ক্রস যাচাইপূর্বক বাস্তবসম্মত তথ্যাদি জেনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।
বি:দ্র:-উল্লিখিত প্রস্তাবসমূহ বাস্তবায়নের জন্য বিবেচিত হলে বিদ্যমান দূদক আইন/বিধিমালার সংশ্লিষ্ট ধারা/বিধি সংশোধন,সংযোজন ও পরিমার্জনের প্রয়োজন হতে পারে।
(লেখক একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা ও কলামিস্ট)