বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য, সংসদীয় দলের সাবেক হুইপ, চট্টগ্রাম মহানগরী আমীর ও সাবেক এমপি আলহাজ¦ শাহজাহান চৌধুরী বলেন, বিজাতীয় আগ্রাসন থেকে মুসলমানদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য শাহ সৈয়দ আহমদ শহীদ বেরলভীর নেতৃত্বে বালাকোট আন্দোলন ছিল এক আপসহীন সংগ্রাম। ১৮৩১ সালের ৬ মে বালাকোটের এই ঘটনার মধ্য দিয়েই ভারতে মুসলমানগণ আজাদী আন্দোলনের মাধ্যমে পৃথক আবাসভূমি লাভে উজ্জীবিত হন। বালাকোটের সেই যুদ্ধ স্বাধীনতা প্রিয় মানুষের জন্য প্রেরণার উৎস, চেতনার স্মারক। তাই ঐতিহাসিক বালাকোটের প্রেরণায় উজ্জীবিত হয়ে হক ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা এবং বাতিল শক্তির মোকাবিলায় আমাদের সংগ্রামী প্রয়াস চালিয়ে যেতে হবে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর দেওয়ানবাজারস্থ বাংলাদেশ ইসলামিক একাডেমি (বিআইএ) মিলনায়তনে ঐতিহাসিক বালাকোট দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরী আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরী এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহর সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর নায়েবে আমীর ড. আ জ ম ওবায়েদুল্লাহ ও পরিবেশবিদ মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম মহানগরী সেক্রেটারি ও চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, নগর সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বশর, ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস ও মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী, নগর সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-৯ ( বাকলিয়া ও কোতোয়ালি) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ডা.  এ কে এম ফজলুল হক, নগর কর্মপরিষদ সদস্য ডা. ছিদ্দিকুর রহমান, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, আমির হোছাইন, খুলশী থানা আমীর অধ্যাপক আলমগীর ভূঁইয়া প্রমুখ।

এই সময় আরও উপস্থিত ছিলেন নগর কর্মপরিষদ সদস্য হামেদ হাসান ইলাহী, বাকলিয়া থানা আমীর সুলতান আহমদ, কোতোয়ালী থানা নায়েবে আমীর অধ্যাপক আব্দুজ জাহের, চকবাজার থানা নায়েবে আমীর আব্দুল হান্নান, কোতোয়ালী থানা সেক্রেটারি মোস্তাক আহমদ প্রমুখ।

নগর জামায়াতের নায়েবে আমির ড. আ জ ম ওবায়েদুল্লাহ বলেন, বালাকোটের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে আমাদেরকে বাংলাদেশে দ্বীন কায়েমের সংগ্রামে নেতৃত্ব দিতে হবে। এটা ছিল ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলন। এটা নব প্রজন্মের মাঝে চর্চা করতে হবে। শাহাদাতের তামান্না ছাড়া ঈমানকে মজবুত রাখা সম্ভব নয়।


মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা সকলে আখিরাতে নাজাত পেতে চাই, আর দুনিয়াতে বিজয় অর্জন করতে চাই। ইসলামী আন্দোলনের সঠিক রূপ প্রতিষ্ঠা করতে হলে দুনিয়াতে বিজয় অপরিহার্য। আমাদের মূল লক্ষ্য, আমরা হয় শাহাদাত বরণ করবো, নয়তো বিজয়ী হবো। উভয় অবস্থায় আমাদের উদ্দেশ্য আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা। যদি তা করতে পারি, তবে আমরা অবশ্যই সফল হবো। কোরআনে দুটি চমৎকার দিক রয়েছে, একটি হলো শহীদ হওয়া, অন্যটি হলো বিজয় অর্জন। বালাকোট আন্দোলন এই দুই সৌন্দর্যই অর্জন করেছিল। আমাদের উচিত বালাকোট আন্দোলনের চেতনা ধারণ করা এবং তা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া।