আওয়ামী লীগের সহযোগী পরিচয়ে, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে তদবিরকারী হিসেবে পরিচিত জেসমিন আক্তার জুঁই বর্তমানে বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন—এমনই অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। সচিবালয় থেকে শুরু করে পুলিশ হেডকোয়ার্টার পর্যন্ত অনেকেই তাকে চেনেন 'জুঁই আপা' নামে। তার বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক পরিচয়পত্র গ্রহণ, প্রশাসনের প্রভাব খাটিয়ে মিথ্যা মামলা দেওয়া এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের হেনস্তা করার অভিযোগ।
জানা গেছে, রাজধানীর উত্তরা ও গাজীপুরে তার দুটি আস্তানা থাকলেও তিনি নিজেকে আমেরিকার জ্যাকসন হাইটসে বসবাসকারী বলে পরিচয় দেন। চলাফেরা করেন দামি স্পোর্টস কারে, আর তার কথামতো কাজ না হলে মিথ্যা মামলা দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের বিপদে ফেলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তিনটি জাতীয় পরিচয়পত্র, তিন জেলার পরিচয়!
জুঁইয়ের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো, তিনি ভিন্ন ভিন্ন নাম, জন্মস্থান এবং পারিবারিক পরিচয় ব্যবহার করে তিনটি জাতীয় পরিচয়পত্র গ্রহণ করেছেন।
উম্মে হাবিবা আক্তার শিখা ,স্বামী: ওবায়দুর মোহাম্মদ রহমান, মা: শাহেদা খাতুন ,জন্মস্থান: শরীয়তপুর।
জেসমিন আক্তার জুঁই (গাজীপুর ঠিকানা) স্বামী: মো. আমিনুল ইসলাম, মা: মো. সায়েদা খাতুন, শিক্ষাগত যোগ্যতা: উচ্চ মাধ্যমিক।
জেসমিন আক্তার (মানিকগঞ্জ ঠিকানা) মা: নুরজাহান বেগম
নির্বাচন কমিশনের মন্তব্য
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব গণমাধ্যমকে জানান, "একজন নাগরিকের একাধিক পরিচয়পত্র গ্রহণ করা দণ্ডনীয় অপরাধ। দোষী প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড হতে পারে।"
প্রশাসনে প্রভাব ও তদবির রাজনীতি
জুঁইয়ের বিরুদ্ধে একাধিক জেলার পুলিশের উচ্চ ও নিম্নপদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের এবং প্রভাব খাটিয়ে তদবির করার অভিযোগ রয়েছে। গাজীপুরের একজন সাব-ইন্সপেক্টর বলেন, “আমিসহ পুলিশ সুপার, সার্কেল এসপি এবং আরও কয়েকজন কর্মকর্তা তার অপতৎপরতার শিকার হয়েছি ।” জুঁই নিজেকে এক সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সেতুমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে পরিচিত করাতেন। বর্তমানে তিনি নিজের ছেলেকে সমন্বয়ক বন্ধু’ দাবি করেন।
ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ
গাজীপুরের স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, জুঁই ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। তারা বলেন, “ওনার মতো একজন নারী যদি প্রশাসনের ছত্রছায়ায় এভাবে দাপিয়ে বেড়ান, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?”
জ্যাকসন হাইটে বসবাসের কথা স্বীকার করে জুঁই দোষ চাপিয়েছেন তার স্বামীর উপর। তবে ভিন্ন ভিন্ন পরিচয়, একাধিক বিয়ে, মিথ্যা তথ্য, ও প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের পেছনে কারা আছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের একাংশের সহযোগিতায় জুঁই যেভাবে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগীদের একটাই প্রশ্ন: “জুঁইদের বিচার কি আদৌ হবে ?”
তাদের দাবি, রাষ্ট্রকে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এসব প্রভাবশালী অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচন করে বিচারের আওতায় আনা হোক।