চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বীর মুক্তিযোদ্ধা লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন আহমেদ বীর উত্তমের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বীর প্রতীক বলেন, দেশের মানুষ শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে চায়। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে মুক্তিযোদ্ধাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

তিনি বলেন, “বীর মুক্তিযোদ্ধারা এখন জীবনের শেষ প্রান্তে পৌঁছেছেন, তাদের কোনো ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া নেই। বরং সমাজের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত রেখে যেতে হবে, যেন নতুন প্রজন্ম গর্ব করে তাদের জীবনকথা তুলে ধরতে পারে।”

উপদেষ্টা আরও বলেন, “দেশে অবধারিতভাবে নির্বাচন হবে। মানুষ নিজের প্রতিনিধি বেছে নিতে চায়, দেশের মালিকানা প্রতিষ্ঠা করতে চায়। জাতির এ সংকটময় সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের নেতৃত্ব খুবই প্রয়োজন। নতুন প্রজন্মকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে হবে।”

সভায় বক্তারা লে. কর্নেল জিয়া উদ্দিন আহমেদকে স্মরণ করে বলেন, তিনি ছিলেন প্রচারবিমুখ কিন্তু দৃঢ়চেতা ব্যক্তি। মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ণ হলে তিনি একা ব্যানার হাতে রাস্তায় নেমেছেন, শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে তিনি তিনটি সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন এবং স্বাধীনতার পরও মানুষের মুক্তির আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনিট আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাবুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মিজানুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনীতিক ইকরামুল করিম, ডা. তালুকদার মাহফুজ, মো. ফাহিম, মহব্বত খান, শিক্ষাবিদ ইমাম হাসান রেজা, ফিরোজ আহমেদসহ পরিবারের সদস্যরা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।