চট্টগ্রাম সড়ক ও জনপথ (সওজ) কার্যালয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হঠাৎ অভিযানে নানা অনিয়মের তথ্য বেরিয়ে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে—কিছু প্রকল্পের কাজ টেন্ডার আহ্বানের আগেই সম্পন্ন করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অন্য ঠিকাদারদের মাধ্যমে বিল প্রদানের জন্য চাপ প্রয়োগ করেছেন।

সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে দুদকের একটি দল সওজ চট্টগ্রাম কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন নথিপত্র পরীক্ষা করে। সেখানে দেখা যায়, বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্পে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই কাজ শেষ হয়েছে। অথচ পরবর্তীতে প্রভাবশালী ঠিকাদারদের নাম ব্যবহার করে বিল উত্তোলনের চেষ্টা করা হয়েছে।

দুদকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলেন, সরকারি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। টেন্ডার আহ্বান ও অনুমোদনের আগে কাজ সম্পন্ন করা আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। অভিযোগ অনুযায়ী, এই ধরনের অনিয়মের সঙ্গে কিছু কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী ঠিকাদার জড়িত থাকতে পারেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় ঠিকাদার সমিতির নেতারা জানান, অনেক সময় রাজনৈতিক প্রভাব ও কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ‘ভূয়া টেন্ডার’ দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হয়। এর ফলে প্রকৃত ঠিকাদাররা বঞ্চিত হন এবং সরকারি অর্থের অপচয় ঘটে।

এদিকে সাধারণ মানুষও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তারা বলেন, জনগণের টাকায় পরিচালিত উন্নয়ন কাজ যদি টেন্ডারের আগেই গোপনে শেষ হয়ে যায়, তবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা কোথায়? এভাবে চলতে থাকলে উন্নয়ন প্রকল্পের মান নিয়ন্ত্রণও প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।