চট্টগ্রাম মহানগরীতে গত ১২ বছর ধরে ঝুলে আছে নতুন ৪ হাজার সিএনজি অটোরিকশার অনুমোদন। প্রযাপ্ত সিএনজি না থাকায় দূরের যাত্রী নিদিষ্ট সময়ের গন্তব্যে পৌছতে বিলম্বের কারণে বিমান , ট্রেন , গাড়ী টিকেট মিস করার কারণে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে । একই কারণে অফিসগামীসহ সাধারণ মানুষের দূভোগ ও হয়রানী বেড়েছে। বেড়েছে গাড়িভাড়া ।
চাহিদা, জনসংখ্যা ও চালকের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার পরও গত দুই দশকে নতুন করে কোনো সিএনজি নিবন্ধনের অনুমতি দেয়নি কর্তৃপক্ষ। এতে একদিকে চট্টগ্রামে পরিবহণ ব্যবস্থা ভেংগে পড়েছে অন্যদিগে সিএনজিচালকদের জন্য সংকট সৃষ্টি হয়েছে, পুরনো বৈধ নম্বর কালোবাজারে বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২১ লাখ টাকায়।তা গ্রাম সিএনজি বিক্রি ৩/৫ লক্ষ টাকায় ।
শ্রমিকদের স্মারকলিপি
গত ২৮ আগস্ট ঢাকা ও চট্টগ্রাম জেলা সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ব্যানারে একটি শ্রমিক সংগঠন, বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালকের (ইঞ্জিনিয়ার) মাধ্যমে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে। এতে চট্টগ্রামে আগে বরাদ্দ পাওয়া ৪ হাজার সিএনজির পাশাপাশি আরও ১০ হাজার সিএনজির নিবন্ধন দ্রুত দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
চট্টগ্রাম অটোরিকশা-অটোটেম্পো শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনুর রশীদ গণমাধ্যমকে জানান, “চট্টগ্রাম মহানগরীতে বর্তমানে অনুমোদিত সিএনজি অটোরিকশার সংখ্যা ১৩ হাজার। তবে চালকের সংখ্যা ৩৫ হাজারের বেশি। ফলে একেকটি সিএনজি দিনে দুটি শিফটে চালাতে হচ্ছে। মালিকরা নির্ধারিত ৯০০ টাকার চেয়ে বেশি ভাড়া আদায় করছেন, যা শ্রমিকদের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
২০১৩ সালের নীতিগত সিদ্ধান্ত আজও বাস্তবায়ন হয়নি
২০১৩ সালের ১৩ এপ্রিল, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে চট্টগ্রামে অতিরিক্ত ৪ হাজার সিএনজি বরাদ্দের নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। একইসঙ্গে খসড়া নীতিমালাও তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু এক দশক পেরিয়ে গেলেও এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়নি।
এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল সংশ্লিষ্ট সংগঠন। আদালত ২০১৮ সালে নির্দেশনাও দেয়, কিন্তু তা এখনো কার্যকর হয়নি।
নম্বর বিক্রি ২০ লাখে, গ্রামে মিলছে ৫ লাখে
বর্তমানে চট্টগ্রাম মেট্রো এলাকার পুরনো বৈধ সিএনজির একটি নম্বর বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২১ লাখ টাকায়। অথচ গ্রামের এলাকায় নতুন সিএনজি পাওয়া যাচ্ছে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার মধ্যেই। চাহিদা বেশি থাকায় বৈধ নম্বরের ওপর এই অস্বাভাবিক বাজার তৈরি হয়েছে।
২৪ বছরে আর কোনো নিবন্ধন নয়
বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালে চট্টগ্রামে ১৩ হাজার সিএনজি নিবন্ধনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। এসব গাড়ির মেয়াদ ১৫ বছর ছিল। মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়িগুলো স্ক্র্যাপ করে নতুন গাড়ি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, তবে নতুন করে আর কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরীর জনসংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। বেড়েছে সিএনজি চাহিদা ও চালকের সংখ্যাও। কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতায় চাহিদার সঙ্গে সরবরাহের কোনো সামঞ্জস্য আসেনি।
ইপিজেড এলাকায় কর্মরত এক গার্মেন্টস কর্মকতা বলেন, অফিস আটটায় হলেও বাসার থেকে দেড়ঘন্টা আগে বের হতে হয়, ১টি সিএনজি আসলে সাথে সাথে কয়েকজন যাত্রী কাড়াকাড়ি শুরু করে এই সুযোগে সিএনজি চালক অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। আমাদের বেতন তো বাড়ছে না কিন্ত পরিবহণ খরচ বাড়ছে। এই ভাবে চলতে থাকলে দেশে বিশৃংখলা সৃস্টি হবে এবং সরকার নানা মুখী চাপে পড়বে এই সুযোগে পরাজিত শক্তি মাথা ছাড়া দিয়ে উঠবে।প্রশাসনের উচিত সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া একই সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কাছে আমার দাবী শহরে পযাপ্ত সিএনজির গাড়ি ও লাইসেন্স সহজতর করা হোক ।