চট্টগ্রাম প্রতিনিধি 
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিদ্যুৎ বিভাগের বিভিন্ন সাবস্টেশন, এসি ও যন্ত্রপাতি সরবরাহ প্রকল্পে বহুমাত্রিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এএম ইঞ্জিনিয়ারিং–এর মালিক মো. শফি আলমের বিরুদ্ধে।


অভিযোগ অনুযায়ী,  রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং সাবেক নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রীর সহযোগিতায় শফি আলম চট্টগ্রাম বন্দরের একাধিক প্রকল্পের কাজ পেয়েছেন এবং নিম্নমানের যন্ত্রাংশ সরবরাহ করে শত কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন।

 বালুর টালে ২৮ কোটি টাকার ‘অহেতুক’ সাবস্টেশন

চট্টগ্রাম বে-টার্মিনাল নির্মাণের আগেই বালুর টানে প্রায় ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন নির্মাণ করা হয়। বিদ্যুৎ বিভাগ উক্ত প্রকল্পটির প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করলেও, রাজনৈতিক চাপের মাধ্যমে কাজটি এএম ইঞ্জিনিয়ারিংকে দেওয়া হয়।

নির্মাণের সময় নিম্নমানের ট্রান্সফরমার ও প্যানেল সরবরাহের ফলে বছর না যেতেই সাবস্টেশনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ অকেজো হয়ে পড়ে। বর্তমানে উক্ত সাবস্টেশনের জন্য প্রতি মাসে পিডিবিকে ১০ লাখ টাকা ডিমান্ড চার্জ দিতে হচ্ছে, যার ফলে বন্দরের কোটি কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে।

 

 চিলার এসির ৩ কোটি টাকার কাজ ১০ কোটিতে!

অভিযোগ রয়েছে, বন্দরের ওয়ানস্টপ বিল্ডিংয়ের চিলার এসি প্রকল্প ৩ কোটি টাকায় হওয়ার কথা থাকলেও রাজনৈতিক প্রভাবে তা ১০ কোটি টাকায় সম্পন্ন করা হয়। বৈদেশিক ম্যাটেরিয়াল ব্যবহারের কথা থাকলেও দেশীয় নিম্নমানের পণ্য ব্যবহারের কারণে এসিগুলো চালুর আগেই নষ্ট হয়ে যায়।

 

 বিদ্যুৎ বিভাগের অন্যান্য সাবস্টেশনেও অনিয়ম

সাবস্টেশন নং ৩, ৫, ৬ ও ওভারফ্লো ইয়ার্ডসহ বিভিন্ন স্থানে জার্মান যন্ত্রাংশ দেওয়ার কথা থাকলেও দেশীয় নিম্নমানের যন্ত্রাংশ সংযোজন করা হয়, ফলে সেগুলো প্রায় অচল অবস্থায় রয়েছে।

এছাড়া ৭নং খাল এলাকায় স্থাপন করা এলইডি বাতিগুলো তিন মাসের মধ্যেই নষ্ট হয়ে পড়ে, পরে বিদ্যুৎ বিভাগের চাপে বাতিগুলো ফেরত নিতে হয়।


 পিসিটি সাবস্টেশনে বিস্ফোরণ

অভিযোগে আরও বলা হয়, এএম ইঞ্জিনিয়ারিং  পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালের (পিসিটি) একটি সাবস্টেশন নির্মাণে ২৬ কোটি টাকা ব্যয় করে নিম্নমানের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে। চালু করার সময় বিস্ফোরণ ঘটে, যা প্রকল্পের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলে।


 ভেরিয়েশন করে দ্বিগুণ টাকা লুটের অভিযোগ

প্রতিটি টেন্ডারে নির্ধারিত চুক্তিমূল্যের বাইরে ভেরিয়েশন দেখিয়ে দ্বিগুণ অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে শফি আলমের বিরুদ্ধে। গত কয়েক বছরে তিনি বন্দরের প্রায় ৩০০ কোটি টাকার কাজ নিয়েছেন বলে সূত্র জানায়।


 বিদেশে সম্পদ, দেশে বিলাসবহুল জীবন

অভিযোগে বলা হয়, এসব দুর্নীতির টাকায় শফি আলম ওমানে সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন, পাশাপাশি ঢাকা ও চট্টগ্রামে একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি, ফ্ল্যাট ও নতুন মডেলের গাড়ির মালিক হয়েছেন।

 

 তদন্ত ও সম্পদ বাজেয়াপ্তের দাবি

বন্দরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শফি আলমের অনিয়মের কারণে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই তার প্রতিষ্ঠান এএম ইঞ্জিনিয়ারিংকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে।

অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, চট্টগ্রাম বন্দরের গত পাঁচ বছরের সকল কাজের নথি পর্যালোচনা, অনিয়মের তদন্ত এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক।

চট্টগ্রাম বন্দর বিদ্যুৎ বিভাগের পরিচালক এস এম সাইফুল ইসলাম এর মোবাইলে ফোন করলে প্রথমে এক নারী ফোন রিসিভ করে  রং নাম্বার বলে লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরবর্তীতে বারবার তার মুঠোফোনে ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই।