চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানির পর খালাস পর্যায়ে কর্ণফুলীতে তলিয়ে যাওয়া বার্জ থেকে প্রায় ৬০০ টন পচা গম উদ্ধার নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। পচা গম রোদে শুকিয়ে বাজারজাত করা নিয়ে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান খাতুনগঞ্জের এন মোহাম্মদ ট্রেডিং বিষয়টি নিয়ে লুকোচুরি খেলছে। বন্দর কতৃপক্ষের চোখ ফাঁকি দিয়ে ডুবে যাওয়া বার্জ থেকে গমগুলো তুলে পতেঙ্গা এলাকায় দুইদিন রোদে শুকানোর পর তড়িঘড়ি করে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এখন জনমনে প্রশ্ন- আমদানি করা ৬০০ টন পচা গম গেলো কোথায়! তাদের মতে, নষ্ট হয়ে যাওয়া এসব গম জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ৭ নভেম্বর এমভি সিদ্দিক আহমদ–২ নামের একটি বার্জে করে গমের একটি চালান পরিবহন করা হচ্ছিলো। অতিরিক্ত গম বোঝাইয়ের কারণে বার্জটি কর্ণফুলী নদীতে ডুবে যায়। এতে বার্জে থাকা বিপুল পরিমাণ গম পানিতে তলিয়ে যায়। বার্জে করে ভোগ্য পণ্য খালাসের কোনো সুযোগ না থাকলেও আমদানিকারক খাতুনগঞ্জের এন মোহাম্মদ ট্রেডিং খরচ সাশ্রয়ের জন্য বার্জে গম বোঝাই করেছিলো। আমদানিকারক, শিপিং এজেন্ট, শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর, সিএন্ডএফ সব একই বৃত্তের হওয়ায় গম খালাসে কোনো ধরনের নিয়ম কানুন মানা হয়নি। প্রসঙ্গত: খাতুনগঞ্জের মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম নামের এক ব্যবসায়ী আমদানিকারক এন মোহাম্মদ ট্রেডিং এবং বার্জের মালিক এসএস শিপিংয়ের মালিক।
জানা যায়, বার্জটি কর্ণফুলীতে বন্দরের ৬ নম্বর জেটির বিপরীতে ডুবে যায়। এসএস শিপিং লাইন্স বার্জটি তখন না সরিয়ে গ্রেভের সাহায্যে নষ্ট গমগুলো খালাস শুরু করে এবং সেগুলো পতেঙ্গার ইনকনট্রেড কন্টেনার ডিপোর পেছনে নদীর পাড়ে রোদে শুকানো হয়। কিন্তু দুইদিন শুকানোর পর হটাৎ গমগুলো উধাও হয়ে গেছে।
এসএস শিপিংয়ের ম্যানেজার সোহেল সাত্তার জানান, বন্দরের জায়গায় নদী থেকে তুলে আনা গম শুকানোর মৌখিক অনুমোদনও নেয়া হয়েছে।
পচা গম উদ্ধার করে বাজার থেকে প্রত্যাহার করার দাবী জানিয়েছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। ক্যাবের সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন জানান, অসাধু ব্যবসায়ী মুনাফার জন্য মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলে। পচা গম রোদে শুকিয়ে বিক্রির পাঁয়তারায় বন্ধ করতে হবে। অতি শিগগির গমগুলো উদ্ধার করে ধ্বংস করার জোর দাবি জানান তিনি।
আমদানিকারক এন মোহাম্মদ ট্রেডিং এবং বার্জের মালিক সাইফুল ইসলামকে ফোন দিলে তিনি ধরেননি।