কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের এসপি (সুপারনিউমারারি এডিশনাল ডিআইজি) আপেল মাহমুদকে ছুটিতে থাকা অবস্থায় সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গত ৬ মার্চ ‘কয়লা ধুলে ময়লা যায় না এসপি আপেলের’ শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিকে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পরদিন ৭ মার্চ তাকে ট্যুরিস্ট পুলিশের সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। ওই প্রতিবেদনের সাংবাদিককেও তদন্তে সাক্ষী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এদিকে সম্প্রতি ফাঁস হওয়া দুটি অডিও রেকর্ডকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কে জড়িয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। অডিওতে তাকে কক্সবাজার জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি জাবেদ ইকবালকে ‘ইয়াবা কারবারি’ আখ্যা দিতে এবং তাকে শেষ করতে ১০০ কোটি টাকা খরচ করার হুমকি দিতে শোনা গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কক্সবাজার জেলা যুবদলের কমিটি বন্ধ করে দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
অডিওতে শোনা যায়, আপেল মাহমুদ এক পর্যায়ে বলেন, এই বাচ্চা (জাবেদ ইকবাল) জানে না আমি কোন প্যানেলের কোন জিনিস। ফেসবুকে আমাকে ট্রল করছে। কালকের মধ্যে তাকে যদি ঠান্ডা করতে না পারো, আমি তার সব ইয়াবা ব্যবসা বন্ধ করে দেব।’ তিনি আরও বলেন, ‘৫০ কোটি টাকা দিয়ে যদি পোস্টিং টিকিয়ে রাখতে পারি, তাহলে ১০০ কোটি টাকা খরচ করে তার জীবনও শেষ করতে পারি।’
আরেক কথোপকথনে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সরওয়ার রোমনের সঙ্গেও কথা বলতে শোনা যায় তাকে। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, জাবেদ ইকবাল ফেসবুকে তার বিরুদ্ধে পোস্ট দিয়ে দাবি করেছেন যে ৫০ কোটি টাকা খরচ করে তিনি নিজের পোস্টিং ধরে রেখেছেন।
এ প্রসঙ্গে যুবদল নেতা জাবেদ ইকবাল বলেন, আপেল মাহমুদের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করায় তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার ও মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে। তাকে ‘ইয়াবা ব্যবসায়ী’ আখ্যা দিয়ে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং এমনকি তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আছেন এবং বর্তমানে কক্সবাজার জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি জেলা রেস্টুরেন্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গেও সম্পৃক্ত।
বর্তমানে তিনি পবিত্র ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। দেশে ফিরে তার বিরুদ্ধে চালানো অপপ্রচার ও হুমকির বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে আপেল মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বিবৃতিতে দাবি করেন, তাকে জড়িয়ে যে রেকর্ডিং প্রচার করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই আগাম সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রবণতা রয়েছে এই কর্মকর্তার। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, কথায় কথায় জিডি করা আপেল মাহমুদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে এবং সাংবাদিকসহ বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে তিনি একাধিক জিডি করেছেন।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, বিভিন্ন সময় অন্তত ১২ তরুণীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগেও আলোচনায় আসেন তিনি। এ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু হলে ২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর সৈকত এলাকায় উচ্ছেদ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে নারীঘটিত বিষয় সামনে আসতে পারে এমন আশঙ্কা উল্লেখ করে ট্যুরিস্ট পুলিশের প্রধানের কাছে আগাম একটি জিডি করেন আপেল মাহমুদ।
তদন্তের পাওয়া ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি বিধান ত্রিপুরা জানিয়েছেন, রোববার (১৫ মার্চ) তিনি কক্সবাজারে এসে আপেল মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্ত করবেন।