চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে জাহাজ ক্রয় প্রকল্পসহ একাধিক খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), যা নিয়ে সংস্থাটি আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) বহর শক্তিশালী করতে চীন থেকে ৬টি জাহাজ কেনার জন্য প্রায় ২ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। তবে বাস্তবে ৬টির পরিবর্তে ৪টি জাহাজ কেনা হয়। অভিযোগ রয়েছে, অবশিষ্ট ২টি জাহাজের জন্য বরাদ্দ প্রায় ৪৮৬ কোটি টাকার অর্থ ব্যবহারে অনিয়ম হয়েছে।
এছাড়া অপরিশোধিত তেল পরিবহনের ক্ষেত্রে বাজারমূল্যের তুলনায় প্রতি মেট্রিক টনে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের অভিযোগও উঠেছে, যার ফলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেল সংরক্ষণ ড্রেজিং প্রকল্পে প্রায় ১ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকার বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে কাজ বণ্টন, চুক্তি ও আর্থিক লেনদেনে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে বলে দাবি দুদকের।
এই ঘটনায় সাবেক বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র এ কে আবদুল্লাহ খোকন (খোকন সেরনিয়াবাত) এবং খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা জাহাঙ্গীর হোসেনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের বিভিন্ন কার্যক্রমে আধিপত্য বিস্তার করেছেন।
দুদক ইতোমধ্যে উপপরিচালক মো. নাজমুচ্ছায়াদাতকে প্রধান করে একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিভিন্ন নথিপত্র, টেন্ডার ডকুমেন্ট, বিল-ভাউচার এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব পর্যালোচনা শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বন্দর চেয়ারম্যানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন থাকায় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা সম্ভব নয়।