চট্টগ্রামের আবাসন খাতের অন্যতম সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)-এর সদস্য হওয়ার প্রধান শর্ত হলো সরকারি নীতিমালা মেনে সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা। অথচ সেই সংগঠনের নেতৃত্বেই আসতে চান এমন এক ব্যক্তি, যার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ।
আলোচিত এই ব্যক্তি অ্যামিটি অ্যাপার্টমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুর উদ্দিন আহমেদ। তিনি আসন্ন রিহ্যাব নির্বাচনে ‘প্রগতিশীল আবাসন ব্যবসায়ী পরিষদ’ প্যানেল থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট (চট্টগ্রাম) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার ব্যালট নম্বর ২২।

অনুমোদনের বাইরে ভবন নির্মাণের অভিযোগ
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নুর উদ্দিন আহমেদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)-এর অনুমোদিত নকশা অমান্য করে নগরীর আবেদিন কলোনিতে ১১ তলা ভবন নির্মাণ করেছে। সিডিএ সূত্রে জানা যায়, ভবনটির অনুমোদন ছিল ৮ তলা পর্যন্ত। কিন্তু নিয়ম ভেঙে অতিরিক্ত ৩ তলা নির্মাণ করা হয়েছে, যা বর্তমানে অবৈধ স্থাপনা হিসেবে বিবেচিত।
ইতোমধ্যে ভবনটির ফ্ল্যাট বিক্রি করে ক্রেতাদের কাছে হস্তান্তরও করা হয়েছে এবং সেখানে বসবাস শুরু হয়েছে। ফলে ক্রেতাদের নিরাপত্তা ও আইনি ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

উচ্ছেদের মুখে ভবন
সিডিএ’র অথরাইজেশন অফিসার-২ তানজিব হোসাইন জানান, বিষয়টি নজরে আসার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “এটি অনুমোদনবিহীন ভবন। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে উচ্ছেদের জন্য চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হবে।”

আরেক প্রকল্পেও একই অভিযোগ
এদিকে নগরীর এমএম আলী রোডে ‘অ্যামিটি রওশন’ নামে আরেকটি প্রকল্পে অনুমোদন ছাড়াই ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। ৯ তলা ভবনের অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হলেও অনুমোদন পাওয়ার আগেই নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তিনতলা পর্যন্ত কাজ শেষ হয়েছে বলে সরেজমিনে দেখা গেছে।

সিডিএ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটিও বেআইনি এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইন লঙ্ঘনের শাস্তির বিধান
অনুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণ ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২ ও ইমারত নির্মাণ বিধিমালা, ১৯৯৬-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ অপরাধে সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে। এছাড়া রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী প্রকল্প শুরু করার আগে অনুমোদন বাধ্যতামূলক।

গ্রাহক অভিযোগ ও মামলার তথ্য
নুর উদ্দিন আহমেদের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতারিত গ্রাহকদের একাধিক মামলাও রয়েছে বলে জানা গেছে। তবুও তিনি নির্বাচনে অংশ নিয়ে স্বচ্ছতা ও সুশাসনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

নির্বাচন সামনে
উল্লেখ্য, আগামী ১৮ এপ্রিল রিহ্যাবের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে স্বচ্ছ, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে বক্তব্য
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নুর উদ্দিন আহমেদ সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আমি মিটিংয়ে আছি, এখন কথা বলতে পারছি না।”

নিজ প্রতিষ্ঠানে নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সংগঠনের নেতৃত্বে আসার চেষ্টা এ বিষয়টি আবাসন খাতে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এতে রিহ্যাবের ভাবমূর্তি ও সুশাসন প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।