- দেশের বিশুদ্ধ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যপণ্যের দাবিদার ‘ওয়েল ফুড লিমিটেড’ নামকরা এই ব্র্যান্ডের আড়ালে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক এক অন্ধকার চিত্র। ২০০১ সালে চট্টগ্রাম থেকে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি অল্প সময়েই জনপ্রিয়তা পেলেও সাম্প্রতিক সময়ে তাদের বিরুদ্ধে উঠেছে ভেজাল খাদ্য উৎপাদন, ভ্যাট ফাঁকি ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ।
- তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রিমিয়াম মিষ্টি, বেকারি ও ফাস্ট ফুড পণ্যের আড়ালে প্রতিষ্ঠানটি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন করছে। শুধু তাই নয়, ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার করে খাদ্য তৈরি ও বাজারজাত করার অভিযোগও রয়েছে।
- ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগে চাঞ্চল্য
- কর সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ‘ওয়েল ফুড’ ডাবল হিসাব, ক্যাশ সেল গোপন এবং পস মেশিন এড়িয়ে ম্যানুয়াল রসিদের মাধ্যমে ভ্যাট আদায় করে সরকারের বিপুল রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর নির্দেশনা অমান্য করে ডিজিটাল ইনভয়েসের পরিবর্তে কাগজের রসিদ ব্যবহারও করা হচ্ছে নিয়মিত।
- কর বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব কর্মকাণ্ড সরাসরি শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং যথাযথ তদন্ত হলে সহজেই প্রমাণিত হতে পারে।
- অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন
- অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, উৎপাদন কেন্দ্রে নেই পর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা, শ্রমিকদের স্বাস্থ্যবিধি মানারও তেমন নজরদারি নেই। ফলে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
- গত ১১ এপ্রিল কালুরঘাট বিসিক এলাকায় পরিচালিত অভিযানে মিষ্টি ও দইয়ে তেলাপোকার উপস্থিতি, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ এবং কাঁচামালের বৈধ রসিদ না থাকায় প্রতিষ্ঠানটিকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
- বারবার জরিমানা, তবুও সংশোধন নেই
- গত কয়েক বছরে একাধিকবার বিভিন্ন অপরাধে জরিমানার মুখে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
- এর মধ্যে রয়েছে ..
- ১)বিএসটিআই অনুমোদনহীন পণ্য বিক্রি
- ২)মেয়াদোত্তীর্ণ ও লেবেলবিহীন খাদ্যপণ্য
- ৩)অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদন
- ৪)নিবন্ধন ছাড়া খাদ্যপণ্য বাজারজাত
- ২০১৬ সাল থেকে ২০২৫ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে চট্টগ্রাম ও ঢাকায় পরিচালিত অভিযানে বারবার জরিমানা গুনলেও কার্যত কোনো পরিবর্তন আসেনি।
- স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা
- চিকিৎসকদের মতে, প্রতিষ্ঠানটির কিছু পণ্যে ব্যবহৃত কৃত্রিম রং ও কেমিক্যাল মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভেজাল খাদ্য ডায়রিয়া থেকে ক্যানসার পর্যন্ত নানা রোগের কারণ হতে পারে।
- কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
- বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বিএসটিআই ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে—অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
- অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ‘ওয়েল ফুড’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
- পরবর্তী পর্বে থাকছে:
- ভ্যাট ফাঁকিতে ‘ওয়েল ফুড’-এর বিস্তারিত কারসাজির নথিপত্র ও গোপন হিসাবের চিত্র
ব্র্যান্ডের আড়ালে ভয়ংকর চিত্র! ‘ওয়েল ফুড’-এর সাফল্যের পেছনে ভেজাল ও ভ্যাট জালিয়াতির অভিযোগ (১ম পর্ব)
অস্বাস্থ্যকর উৎপাদন, ডাবল হিসাব, বছরের পর বছর জরিমানা,তবুও থামছে না অনিয়ম