1. চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাংগঠনিক তৎপরতা ও অর্থায়ন নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, সংগঠনটির কার্যক্রমে অর্থ জোগানদাতা হিসেবে অন্তত ১৫ জন ব্যবসায়ী বর্তমানে নজরদারিতে রয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম কর্ণফুলী থানা আওয়ামী লীগের নেতা ও সমতা শিপিংয়ের কর্ণধার ব্যবসায়ী আজিজুর রহমান আজিজ।
  2. গোয়েন্দা সূত্র জানায়, বিদেশে অবস্থানরত সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদ, হাসান মাহমুদ, সাবেক সংসদ সদস্য নওপেল এবং মহিউদ্দিন বাচ্চুর নির্দেশনায় অর্থ সংগ্রহ ও বিতরণের একটি নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, মাঠপর্যায়ে অর্থ সরবরাহে কয়েকজন নারী কর্মীও ভূমিকা পালন করছেন। এমনকি কারাবন্দি নেতাকর্মীদের পিসি কার্ডে নিয়মিত অর্থ জমা দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
  3. সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল ও অস্থিরতা সৃষ্টির ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
  4. গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে, চট্টগ্রাম মহানগরকে দুই ভাগে ভাগ করে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাদমান ও জনি নামে দুই ক্যাডার। আর বিদেশে অবস্থানরত কয়েকজন সাবেক রাজনৈতিক নেতার তদারকিতে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
  5. পুলিশ সূত্র জানায়, ঝটিকা মিছিলের আগে কয়েকদিন ধরে স্থান নির্বাচন, জনসমাগম, পুলিশের উপস্থিতি এবং ট্রাফিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়। এরপর হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে সমন্বয় করে স্বল্প সময়ের জন্য মিছিল আয়োজন করা হয়। কর্মসূচি শেষে সংশ্লিষ্ট গ্রুপগুলো ডিঅ্যাকটিভ করে দেওয়া হয়।
  6. সম্প্রতি জিইসি মোড় ও অক্সিজেন এলাকায় বড় দুটি ঝটিকা মিছিলের পর ব্যাপক অভিযান চালিয়ে ৬৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, গ্রেপ্তারদের মধ্যে কয়েকজন পার্শ্ববর্তী জেলা ও উপজেলা থেকে এসেছিলেন।
  7. সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) আমিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। কারা মিছিল সংগঠিত করছে এবং কারা অর্থের জোগান দিচ্ছে, তাদের পরিচয় চিহ্নিত করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
  8. গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, অর্থ সরবরাহের নেটওয়ার্ক এখনো সক্রিয় থাকায় নিষিদ্ধ সংগঠনটির সাংগঠনিক সক্ষমতা পুরোপুরি ভাঙা সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে সাধারণ মানুষের ভিড়ে মিশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
  9. তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
  10. এদিকে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন— ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগের পক্ষে অস্ত্র ও অর্থ সরবরাহের অভিযোগে অভিযুক্ত কর্ণফুলী থানা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ব্যবসায়ী আজিজুর রহমান আজিজ এখনো কেন ধরা-ছোঁয়ার বাইরে? কার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে তিনি এখনো নিরাপদে রয়েছেন?
  11. চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর অর্থায়ন ও সাংগঠনিক তৎপরতা নিয়ে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, নেপথ্যের অর্থদাতা ও সমন্বয়কারীদের বিরুদ্ধে শিগগিরই দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হবে।