1. চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)-এর ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে আবারও অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। নগরীর হালিশহর ছোট পুল এলাকার একটি বহুতল ভবনের অনুমোদনকে কেন্দ্র করে কোটি টাকার ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগের তীর সিডিএর কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং পারফে অ্যাসোসিয়েট লিমিটেড নামের একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের দিকে।
  2. অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফাইল নং-১৩৪/২৪-এর আওতায় নুরুল্লাহ গং-এর মালিকানাধীন একটি প্লটের জন্য প্রথমে ১০ তলা ভবনের অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে প্রকল্প মালিক ১৩ তলা ভবনের অনুমোদন চাইলে সেটিকে কেন্দ্র করেই কথিত ঘুষ বাণিজ্যের সূত্রপাত ঘটে।
  3. অভিযোগ রয়েছে, পারফে অ্যাসোসিয়েট লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী ইউসুফ শাহ সাজু (৪৫) নিজেকে সিডিএর প্রকৌশলী হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রথম দফায় প্রায় ৭১ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। পরে আরও কয়েক দফায় অর্থ লেনদেন হয় বলে অভিযোগকারীদের দাবি। সব মিলিয়ে লেনদেনের পরিমাণ কোটি টাকায় পৌঁছেছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ।
  4. অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ওই অর্থের একটি অংশ তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) মো. হোসেন, প্রকৌশলী নোবেল মিত্র, কর্মচারী নইম উদ্দিনসহ আরও কয়েকজনের কাছে পৌঁছায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ-সংক্রান্ত কথোপকথনের কল রেকর্ড প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানা গেছে।
  5. অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউসুফ শাহ সাজু অর্থ নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে তাঁর দাবি, ওই অর্থ এককভাবে তিনি গ্রহণ করেননি। তাঁর ভাষ্য, “প্রকৌশলী নোবেল মিত্র, কর্মচারী নইম উদ্দিন এবং প্রধান প্রকৌশলীর পিএ হোসেনও এ ঘটনায় জড়িত। ১৩ তলার অনুমোদনের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে সুপারিশ ও তদবির করা হয়েছে।”
  6. এ বিষয়ে কর্মচারী নইম উদ্দিন বলেন, “ঘটনাটি ২০২৪ সালের। কে কত টাকা নিয়েছে তা আমি জানি না। তবে ইউসুফ শাহ সাজু ও পিএ হোসেন পুরো বিষয়টি পরিচালনা করেছে।”
  7. অন্যদিকে প্রধান প্রকৌশলীর তৎকালীন পিএ মো. হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “টাকা নেওয়ার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমি শুধু ইমারত নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যানের কাছে ১৩ তলার অনুমোদনের বিষয়ে সুপারিশ করেছিলাম।”
  8. এ বিষয়ে প্রকৌশলী নোবেল মিত্রের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।
  9. সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই দালালচক্র ও অসাধু কর্মকর্তাদের প্রভাব নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাবে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
  10. এদিকে, অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত সিডিএ কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট কোনো তদন্ত সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তের ফল প্রকাশ করেনি। ফলে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি উঠেছে।