- রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়ার পর তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখন কেবল সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা বাকি। জাতীয় সংসদের স্পিকার দেশে ফিরলেই তার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন রাষ্ট্রপতি। ফলে আজ বা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বঙ্গভবনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
- তবে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি এখনো পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেননি। পদত্যাগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
- স্পিকারের ফেরার অপেক্ষা
- সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে অবস্থানরত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ দেশে ফিরলেই পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরিত পত্র পাঠিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
- পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে?
- রাষ্ট্রপতি হিসেবে কার নাম চূড়ান্ত হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সম্ভাব্যদের তালিকায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন—
- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন
- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
- বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি
- যদিও সরকার কিংবা বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। দলীয় নেতারা বলছেন, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
- কী বলছেন নেতারা?
- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন তিনি শুনেছেন। তবে নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
- অন্যদিকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে প্রথমে স্পিকার দায়িত্ব পালন করবেন, এরপর সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।
- বিশেষজ্ঞদের মত
- সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে তিন মাসের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। ততদিন স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
- রাজনৈতিক গুরুত্ব
- বিশ্লেষকদের মতে, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শুধু সাংবিধানিক বিষয় নয়, বরং আগামী জাতীয় নির্বাচন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয় এবং রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ফলে শেষ পর্যন্ত কাকে রাষ্ট্রপতি করা হবে, সেটিই এখন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
- দ্রষ্টব্য: রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ এবং সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে এখনো সরকারিভাবে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
কে হচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি?
সাহাবুদ্দিনের বিদায় যেকোনো সময়, জোরালো আলোচনায় একাধিক নাম