কলেবর বেড়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভার। নতুন করে মন্ত্রিসভায় যুক্ত হয়েছেন ৫ জন।
এর মধ্যে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ও বান্দরবান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাচিং প্রু জেরি। এদের মধ্যে রশিদুজ্জামান মিল্লাত আগে থেকেই প্রতিমন্ত্রী হিসেবে যুক্ত ছিলেন মন্ত্রিসভায়।
এছাড়া, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ও গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শামীম কায়সার।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে তাদের শপথ পাঠ করান নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর আগে সন্ধ্যা ৭টায় ৩৭ মিনিটে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের কাছে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
নতুন ছয় সদস্য যুক্ত হওয়ায় বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৩। এর মধ্যে ২৮ জন মন্ত্রী ও ২৫ জন প্রতিমন্ত্রী। নতুন দায়িত্ব পাওয়া ছয় সদস্যের মধ্যে কে কোন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দায়িত্ব পাচ্ছেন, এখন তা নিয়ে চলছে জোর গুঞ্জন।
জানা গেছে, নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন করে শিগগির মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। একইসঙ্গে পুনর্বণ্টন করা হতে পারে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর।
এর মধ্যে আবদুল মঈন খানকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত পেতে পারেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। সেক্ষেত্রে বর্তমান মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতাকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এছাড়া, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সাচিং প্রু জেরীকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করার কথা রয়েছে।
সেইসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং হুমায়ুন কবিরকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে বিএনপি। শুরুতে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার আকার ছিল ৫০ সদস্যের। এর মধ্যে ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। এরপর ১২ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী কায়সার কামাল মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। একই দিনে হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পিকার এবং কায়সার কামাল ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন।
হাফিজ উদ্দিনের পদত্যাগের দিনই মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পান আহমেদ আযম খান। অন্যদিকে, ভূমি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।
গত ১ জুন পদত্যাগ করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। সর্বশেষ শুক্রবার সন্ধ্যায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। এতে এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী পদ শূন্য হয়।