চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) মাস্টার প্ল্যান ইউনিটের মাধ্যমে মেট্রোপলিটন মাস্টার প্ল্যান (২০২০–২০৪১) প্রণয়ন প্রকল্পে টেন্ডার প্রকৃয়ায় স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। যোগ্যতার ভিত্তিতে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়ার কথা থাকলে সিডিএর এক উর্ধতন কর্মকর্তার ইশারায় 'সার্কেল কমিউনিকেশন' নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়া হয়েছে। এতে করে অন্যান্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিকদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। 

জানা গেছে, এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে 'চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টার প্ল্যান প্রজেক্ট’ প্রস্তুতের অংশ হিসেবে ওয়ার্কশপ, সেমিনার, সম্মেলন, টাউন ম্যানেজমেন্ট কমিটি (টিএমসি) সভা, অংশগ্রহণমূলক দ্রুত মূল্যায়ন (পিআরএ), গণশুনানি ও জনসম্পৃক্ততা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য টেন্ডার (নং-২৫.৪৭.১৫০০.০৭১.৭৬.০৭৬.২৫) আহ্বান করা হয়েছে। ওপেন টেন্ডারিং মেথড (ওটিএম) এর মাধ্যমে সরকারি ই-জিপি সিস্টেমে উক্ত কাজের অনুকূলে ৮টি প্রতিষ্ঠানের দরপত্র বিক্রি হলেও জমা পড়ে ৬টি। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে, আর্শিনগর মিডিয়া, রুবরিক কমিউনিকেশন, এড অন কমিউনিকেশন লিমিটেড, দ্যা সার্কেল কমিউনিকেশন, বর্ণমালা কমিউনিকেশন এবং পাওয়ার লাইন কম্পিউটার। 
 রুবরিক কমিউনিকেশনের স্বত্বাধিকারী মঞ্জুর আহমেদ রাজ জানান, ই-জিপি ব্যবস্থায় পুরো টেন্ডার প্রক্রিয়া সিডিএর সকল শর্ত মেনে অংশগ্রহণ করি। সেখানে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা হিসাবে আমার প্রতিষ্ঠান রুবরিক কমিউনিকেশন ১ কোটি ৩৯ লাখ ৮৮ হাজার ১৯৩ টাকায় বিট করে। অথচ চতুর্থ বিটকারী দ্যা সার্কেল কমিউনিকেশনকে টেন্ডার আইডি: ১২৪৩৭১২) ১ কোটি ৫৮ লাখ টাকায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর নোটিফিকেশন অফ এ্যাওয়ার্ড (নোয়া) প্রদান করেন। এই রহস্যজনক প্রকৃয়ার বিষয়ে জানতে নোয়া প্রদানকারী সিডিএর উপ-প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মোহাম্মদ আবু ইসা আনসারীর মোবাইলে  কল করার পর যা বলেন, আগামীকাল শুক্রবার সকাল ১০ টায়  সকালের চট্টগ্রাম এর পেইজে ভিডিও নিউজে  দেখবেন  । 

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিযোগ টেন্ডার প্রকৃয়ায় সকল শর্ত ও নিয়মাবলি অনুসরণ করেই ই-জিপি সাবমিট করা হয়েছে এবং সর্বনিম্ন দরদাতা হিসাবে ক্রমান্বয়ে আর্শিনগর মিডিয়া, রুবরিক কমিউনিকেশন এবং এড অন কমিউনিকেশন লিমিটেড প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় হয়। কিন্তু উপরোক্ত তিনটা প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে চতুর্থ নম্বরের দ্যা সার্কেল কমিউনিকেশনকে নোয়া প্রদান করা হয়েছে। এটি অবশ্যই স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে দেয়া হয়েছে। বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর খতিয়ে দেখা দরকার বলে দাবি করছেন অভিযোগকারী ঠিকাদাররা।