হাইকোটের নির্দেশনা অমান্য করে বাংলাদেশ জুট করপোরেশন (বিজেসি)র আওতাধীন চট্টগ্রাম অঞ্চলিক অফিসের কর্মকতার বিরুদ্ধে নগরীর মাঝিঘাট এলাকায় খালি  জায়গা ইজারা থাকা অবস্থায় অন্য একজনকে ইজারা দেওয়ার অভিযোগ।

বিজেসির চেয়ারম্যান এইসব বিষয়ে অবগত না থাকলেও চট্টগ্রাম আঞ্চলিক অফিসের ম্যানেজার হাসান মুরাদ এইসব অপকর্মে  জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

 

এই নিয়ে আদালতে মামলা চলছে।এর মধ্যে আদালত থেকে দু্ই মাসের মধ্যে  আবেদনকারীর আবেদন নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেন। নিষ্পত্তি তো করে নাই।বরং হাইর্কোটে বিচারাধীন মামলার সতর্কীকরণ সাইন র্বোডটি তুলে পেলে দেয়।

এর মধ্যে  বিজেসির নিতিমালা তোয়াক্ষা না করে শতভাগ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। ইজারা বহাল রাখতে আঞ্চলিক অফিসের চাহিদামত ভাড়া আদায় করে গেলে বড় ধরণের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ইজারা নেওয়া ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে না দিয়ে বাইরের ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দিয়ে দেয়।


বাংলাদেশ জুট করপোরেশন খালি জায়গা ইজারা নিয়ে বিভিন্ন  ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ভূমি উন্নয়ন করে।উন্নয়নে  লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে ভুমি ব্যবহারে উপযোগী করে তুলে,তাতে নজর পড়ে আঞ্চলিক অফিসে কর্মরর্ত ম্যানেজার ও কর্মচারী ও কিছু অসাধূ ব্যবসায়ীর। অসাধূ ব্যবসায়ীদের সাথে যোগসাজসে  ইজারাদারদের ইজারা বাতিলে বিজেসির তালবাহানা শুরু করে, তার পেক্ষিতে একবছরে মধ্যে দু্ইবার ভাড়া বাড়িয়ে দেই,তারপরও ইজারাদার ইজারা বহাল রাথতে তাদের চাহিদামত ভাড়া পরিশোধ করে।তাদের র্শত অনুযায়ী ইজারা নবায়ণ করতে হলে  তিনমাস আগে টাকা জমা দিতে হয়। তাদের শর্ত মেনে  মাঝিঘাট এলাকায় ৬/৭জন  ইজারাদার বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে পে-অডার ও আবেদন দিলে  চট্টগ্রাম অঞ্চলিক অফিসের ম্যানেজারের যোগসাজসে আগের ইজারাদার বহাল থাকা অবস্থায় ইজারা বাতিল না করে   অন্য আরেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান  নামে ইজারা প্রদান করা হয়। এরমধ্যে হ্যাপি কারগো সার্ভিস, সিরাজুল ইসলাম, সেলিম এন্ড ব্রাদার্স, পিয়াস শিপিং, কন্টিনেন্টাল এজেন্সি, ব্লু স্কাই এন্টারপ্রাইজ অন্যতম।

হ্যাপি কারগো সার্ভিস নামের একটি প্রতিষ্ঠান ২০২৪ সাল পর্যন্ত ইজারার টাকা ওয়ান ব্যাংকের মাধ্যমে পে-অডারে ভাড়া পরিশোধ করে, কোন কারণ দর্শানো নোটিশ না দিয়ে ঐ জায়গা আবু তৈয়্যব চৌধুরী কে ইজারা দেন।

মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ সিরাজ  ইসলাম নামে এক ব্যক্তি ২০১৭ সালে  প্রেস হাউস ইজারা নিতে আবেদন করে,  আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ পাট শিল্প কর্পোরেশন লিখিত ভাবেই জানান চিঠি প্রাপ্তির ১৫ দিনের মধ্যে পে- অর্ডারের মাধ্যমে টাকা জমা দিতে, সিরাজুল ইসলাম চিটি পেয়ে পে অর্ডার মাধ্যমে টাকা জমা দেন। ২০২১ সালে সিরাজুল ইসলাম কে না জানিয়ে অন্য জনকে ইজারা দিয়ে দেন। এ নিয়ে সিরাজুল ইসলাম কনডেম মামলা করেন, হাইকোর্ট দুই মাসের মধ্যে মামলার নিষ্পত্তি করতে বলা হলো আজও নিষ্পত্তি করা হয়নি।

 হ্যাপি কারগো সার্ভিস এর মালিক মোখলেস নেওয়াজ  পক্ষে মেহেদী হাসান রুমি  বলেন, ২০১৭ সালে মাঝিরঘাট এলাকায় ৬ হাজার স্কয়ার ফুটের জায়গায় ইজারা গ্রহণ করি।ইজারা নিয়ে ভুমি উন্নয়ন বাবদ  অনেক টাকা খরচ করি। ভাড়া পরিশোধ করে তাদের সব র্শত মেনে ব্যবসায় করে যাচ্ছি।  নিয়ম অনুযায়ী ৩ মাস আগে পরবর্তী বৎসরের জন্যে পে-অডারের মাধ্যমে ২০২৪ সাল পর্যন্ত  ইজারার টাকা জমা দিই ,কিন্তু আমাকে না জানিয়ে   আবু তৈয়ব চৌধুরি নামে এক ব্যক্তিকে ইজারা   দেই, আমি অনুপায় হয়ে হাইকোটে রিট করি , দু্ই মাসের মধ্যে আমার  আবেদন নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেন হাইকোট । কিন্তু নিষ্পত্তি তো করে নাই ,অন্য দিকে আমাকে উচ্ছেদের পায়তারা করছে। ভালভাবে ব্যবসা বাণিজ্য চালিয়ে যেতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাই।


মেহেদী হাসান রুমির ভাড়াটিয়া জাকির বলেন, আমি সেফ্র ভাড়াটিয়া,আমাকে চলে যেতে বললে চলে যাব।


 বীর মুক্তিযোদ্ধা আহমেদ উল্লাহ বলেন,২০১৬ সালে তৎকালীন বাংলাদেশ জুট করপোরেশনের চেয়ারম্যানের অনুরোধে ১২হাজার স্কয়ার ফুট জায়গা  ইজারা নিই । ইজারা নিয়ে জায়গার উপর জঙ্গল পরিস্কার করতে ১বৎসর চলে যায়।দ্বিতীয় বৎসরে ইজারা গ্রহণের জন্যে ৩মাস আগে পে-অডারের মাধ্যমে টাকা জমা দিই ও ফরওয়াডিং করি।পরবর্তীতে আমি অপেক্ষা করতে থাকি।আমাকে কিছু না জানিয়ে শৈল্পিক নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেয়।মন্ত্রীর থেকে শুরু করে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে ধণা দিই,কিন্তু কোন কাজের কিছু হয়নি।পরবর্তীতে আমি হাইকোটে রিট করি, এক মাসের মধ্যে শুনানী করতে বলে, কিন্তু তারা রিটে অংশ গ্রহণ করেন নাই।আমি কনডম কোট করি,কিন্তু কোটের সময় শেষ হয়েছে। আমার উপর অন্যায় হয়েছে,এই অন্যায়ের বিচার চাই।

আর্থিক লেনদেনের কথা অস্বীকার  করে প্রধান কার্যালয়ের উপর সব দোষ চাপিয়ে দিয়ে  চট্টগ্রাম বিজেসি’র আঞ্চলিক ম্যানেজার হাসান মুরাদ বলেন, ইজারা শেষ হওয়ার ৬মাস আগে প্রধান কার্যালয়কে জানিয়ে দিই, প্রধান কার্যালয়যে নির্দেশনা দেন ,তা  মেনে আমি কাজ করি,তার বাইরে আমার করার কিছু নাই।একটি মামলা হয়েছে,মামলার কপি প্রধান কার্যালয়ে  ফরওয়াডিং করেছি,আইনি শাখা লিখিতভাবে যে নির্দেশনা দেবে তা ইজারাদারকে চিটি মাধ্যমে জানিয়ে দেব।
 

ভাড়াটিয়া জাকির বক্তব্য নিতে গেলে উক্ত গ্যারেজের শ্রমিকরা গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে অশোভন  আচরণ করে।