---মোহাম্মদ কামরুল হাসান----
আমার স্মৃতিতে পীরে কামেল হযরত শাহ্সুফি নুরুল হক (রহঃ) প্রকাশ চিকদাইর সুফী সাহেব হুজুর (রহঃ)।
পীরে কামেল হযরত শাহ্সুফি নুরুল হক (রহঃ)'র সংক্ষিপ্ত পরিচিতি :-(পবিত্র বেলাদত দিবস : ১৩২০ হিজরী, ১৯০০ ইংরেজী, ১৩০৭ বাংলা, ০৩রা আষাঢ়, রোজ: সোমবার।)
চট্টগ্রাম জিলার অন্তর্গত রাউজান উপজেলার দরবারে চিকদাইর শরীফের প্রতিষ্ঠাতা পীরে কামেল হযরত শাহ্সুফি নুরুল হক (রহঃ) ছিলেন তাঁর উর্দ্ধতন পূর্ব-পুরুষ আরবের অধিবাসী হজরত সিরাজুদ্দীন বাগদাদী (রহঃ)'র বংশধর।সম্মানিত পিতার নাম জনাব আব্দুল মোহিত পেশকার (রহঃ), দাদাজান জনাব হযরত শাহ্সুফী নাজিম উদ্দীন মুন্সী (রহ:)।পবিত্র কোরআন এবং হাদীস দ্বারা ইসলামের যে বিধান আমাদের উপর বিধিবদ্ধ করা হয়েছে তাই শরীয়ত নামে অভিহিত। অর্থাৎ ‘মহান আল্লাহ বান্দার পার্থিব জীবন ও পরকালীন জীবনের কল্যাণের লক্ষ্যে, জীবন ও জগত পরিচালনার জন্য যে আক্বিদা, ইবাদত, আখলাক, লেনদেন ও জীবন ব্যবস্থা প্রদান করেছেন, তাই হল ইসলামী শরীয়ত।আল্লাহ প্রদত্ত যেসব বিধি বিধান সমূহ আমাদের প্রিয় নবীজি হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর মাধ্যমে মানব জাতির প্রতি নাজিল করে নির্ধারণ করে দিয়েছেন, একেই ইসলাম ধর্মে শরীয়ত বলা হয়। পীরে কামেল হযরত শাহ্সুফি নুরুল হক (রহঃ) হুজুর আপাদমস্তক শরীয়ত, সুন্নতের পাবন্ধী, সত্যবাদী, পরহেজগার, খোদা ভীরু ছিলেন, আপন শরীর আপাদমস্তক যেমন থাকত সুন্নাতি লেবাসে সজ্জিত, তেমনি চব্বিশ ঘণ্টার জীবনে সুন্নাতে নববি ছিল তাঁর সকল কাজের মাপকাঠি।সুন্নাতি লেবাসে এত সুন্দর আর কাউকে আমি দেখি নি।তাঁর চেহারা-সুরত, আচরণ-উচ্চারণ ও চাল-চলন সবকিছুই ছিল আকর্ষণীয়।উনার নূরানী চেহারা মোবারক নয়নযুগলকে পরিতৃপ্ত করে আর অন্তরকে মহানবী (সঃ) এর প্রেমভালবাসা ও আজমতের নূর দ্বারা কানায় কানায় ভরপুর করে দেয়।মানুষকে হেদায়াতের দিকে ডাকাই ছিল তাঁর জীবনের ব্রত এবং একাজেই তিনি সর্বদা ছুটে বেড়াতেন এক জনপদ থেকে আরেক জনপদে।আল্লাহ প্রদত্ত এমন এক ঐশী প্রেমের শক্তি থাকে অলি-আল্লাহদের কাছে, যা আপনার আমার কাছে নাই। যে শক্তির গুণে তাঁরা মানুষের অতি কঠিন অন্তরেও প্রেমের বারিধারা তৈরি করতে পারেন। মানুষের খাসলত (বদ অভ্যাস) পরিবর্তন করে দিতে পারেন। বেলায়েতে মাশায়েখগণের মধ্যে দয়াল নবীজির (সঃ) এই বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। কারণ সত্যিকার অর্থে তাঁরা রসুল (সঃ)-এর প্রেমে মশগুল।যেমন ছিলেন বিশেষ বিশেষ সাহাবিগণ, খোলাফায়ে রাশেদীনগণ, আসহাবে সূফ্ফাগণ। নবীজির এ সব আশেক-পাগলেরা নবীজিকে অন্তর দিয়ে ভক্তি ও মহব্বত ছাড়া অন্য কিছুই বুঝতেন না। দয়াল নবীজিকে তো আমরা দেখি নাই অথবা ওই আমলে জন্মগ্রহণও করি নাই, তাহলে আমাদের উপায় কী হবে? নবীজিকে কোথায় পাব? কিভাবে তাঁর সঙ্গে দেখা হবে? প্রেম হবে? আল্লাহতায়ালা অতি মহান তাঁর মহানুভবতার পরিচয় এখানেও বিদ্যমান, সে কারণেই পথ হারা মানুষদের পথ দেখাতে যুগে যুগে বেলায়েতে মাশায়েখ নায়েব-এ নবী এ দুনিয়াতে পাঠিয়ে থাকেন। ভাবুক বা চিন্তাশীল মানুষ মাত্রই এ কথা স্বীকার করবেন। আর তাই আপনার সময়ে যদি কামেল অলি-আল্লাহগণের দেখা পান তবে তাঁদের সঙ্গে প্রেম হলেই আস্তে আস্তে নবীজির (সঃ) প্রেম অন্তরে জন্মাবে।
আমার মরহুমা দাদির কল্যানে সর্বপ্রথম আমার আরবি বর্ণমালার হাতেখড়ি হয় সুফী সাহেব হুজুর বাবাজান (রহঃ)-এর হাতে।সুফী সাহেব হুজুর বাবাজান (রহঃ)-এর পুরাতন বাড়িই আমাদের বাড়ি।সুফী সাহেব হুজুর বাবাজান (রহঃ)-এর বড় নাতি আমার বন্ধু কুতুব উদ্দিন এর সাথে আমার শৈশব কৈশোরের দিনগুলি কেটেছিল।সেই সুবাদে হুজুরের পুরাতন বাড়ির হুজুরার পাশেই আমরা দু'জন প্রায়ই থাকতাম, দেখতাম সুফী সাহেব হুজুর বাবাজান (রহঃ)-এর কাছে প্রতিদিন মুসলিমগণ বহু দূর দূরান্ত থেকে হুজুরের হাতে বায়াতের জন্য আসতেন, হুজুর হাতের উপর হাত রেখে আবার কখনো লম্বা রুমাল দিয়ে তাঁর পবিত্র হাতে কাদেরিয়া-চিশতিয়া-নক্সবন্দিয়া-মোজাদ্দেদিয়া সহ বিভিন্ন ত্বরিকায় বায়আত করাতেন।আল্লাহর পক্ষ থেকে নবী ও রাসূল সা. গণের দরজা বন্ধ হলেও কেয়ামত পর্যন্ত ওলি আওলিয়াদের দরজা খোলা থাকবে এবং ওলিদের কাছ থেকে মানুষ আল্লাহ পাকের সন্ধান লাভ করবে যার কারনে সাধারণ মানুষের জন্য ওলি আওলিয়াদের মহব্বত গ্রহণ করা জরুরী।
হুজুরের কাছে প্রতিদিন ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে শত শত মানুষ মাত্র দুই টাকার হাদিয়ায় তাবিজ-পানিপড়া নিতে আসা-যাওয়া করতেন।বহুবছর পরেও হুজুরের আদর্শ মেনে এখনো সেই দুই টাকা হাদিয়াই জারি রেখেছেন দরবার শরীফের সম্মানিত সাজ্জাদানশীন আমার পীর ছাহেব পীরে ত্বরিকত হযরত শাহ্সুফী মুহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিকী (মা:জি:আ:) (পবিত্র বিলাদত শরীফ ১২ই মার্চ ১৯৪৬)।তিনি তাকওয়া – পরহেজগারীর মুর্তপ্রতিক তাঁর মেধা- মননশীলতা প্রসংসনীয়।মাজার শরীফ, মসজিদ, মাদ্রাসা সুশোভিত করে দরবারটিকে নান্দনিক রূপে সাজিয়েছেন।পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা:), 'পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম', খাজা গরীবে নেওয়াজ (র:)-এর ইছালে ছওয়াব মাহফিল, ০৯ই এপ্রিল হজরত শাহ সুফী ছদর উদ্দিন আহমেদ (রহঃ)'র বার্ষিক ঈছালে ছওয়াব মাহফিল, ৩রা ডিসেন্বর পীরে কামেল হযরত শাহ্সুফি নুরুল হক (রহঃ) বার্ষিক ঈছালে ছওয়াব মাহফিল সহ ধর্মীয় প্রতিটি মাহফিলের আঞ্জাম দিচ্ছেন। নিরলস পরিশ্রম করে ত্বরিকতের সবক, তালিম দিয়ে আসছেন।উনার রচিত "তাসাউফ দর্শন" বইটি ত্বরিকত পন্থী সকলের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় একটি অমূল্য গ্রন্থ, ত্বরীকার বিস্তারিত মূলনীতি ও দর্শন এই কিতাবে রহিয়াছে। আল্লাহ উনাকে সুস্থ রাখুন, হায়াতে তাইয়্যেবা দান করুন।
পীরে কামেল হযরত শাহ্সুফি নুরুল হক (রহঃ) হুজুরের পাক মোবারক জবানের অত্যন্ত তাছির ছিল যখন যেভাবে বলেছেন তা হয়েছে, উনার অগণিত কারামত সন্দেহাতীত ও তর্কাতীত ভাবে প্রতিষ্ঠিত, মৌলিক বিশ্বাসের অন্তর্গত একটি বিষয়।যা প্রকৃত অর্থে কুদরতে ইলাহীর বহিঃপ্রকাশ, কলেবর বৃদ্ধির কারণে উল্লেখ করছি না। তবুও একটি বিষয় জানা খুব প্রয়োজন তখনও চিকদাইর গ্রামটি চিকদাইর শরীফ নামে প্রতিষ্ঠিত হয়নি অথচ তার বহুপূর্বে সুফী সাহেব হুজুর বাবাজান (রহঃ)'র নাতি আমার চাচ্চু জনাব এহসানুল হক (মাসুদ)কে পরপর তিনবার চিকদাইর শরীফ নাম উচ্চারণ করতে বলেছিলেন।উনার পীর সাহেব হজরত শাহসুফী সদর উদ্দিন সাহেব (রহঃ) হুজুরকে বলেছিলেন বাবা আতরের মুখ বন্ধ রাখবেন যাতে সুগন্ধি বের না হয়। আল্লাহ কি অপার মহিমা, উনি না চাইলেও উনার বহু কারামত, মহামূল্যবান মলফুজাত দ্বীন ও ত্বরিকতের কল্যাণে গোপনে বাহ্যিকভাবে ঠিকই সুগন্ধীতে মোহিত করছে।হুজুরের বাণী সত্যি হয়েছে, আমার প্রিয় গ্রামটি এখন চিকদাইর শরীফ নামে পরিচিত।
পীরে কামেল হযরত শাহ্সুফি নুরুল হক (রহঃ)'র বায়াত গ্রহণ:-
আধ্যাত্মিকতার প্রাণপুরুষ, সর্বজন মান্য শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব পীরে কামেল হযরত শাহ্সুফি নুরুল হক (রহঃ) ছিলেন হজরত শাহ সুফী সদর উদ্দীন আহমদ (রহঃ)'র প্রধান খলিফা।নিজ সাধনা বলে স্বীয় পীর হইতে কাদেরিয়া-চিশতিয়া-নক্সবন্দিয়া-মোজাদ্দেদিয়া-মোহাম্মদীয়া ত্বরিকায় কামালিয়াত হাছেল করেন।মায়ানমার (বার্মা)'র রেঙ্গুনের মূল শহরের সুল প্যাগুদা রোড়ে অবস্থিত মুসলমানদের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে পরিচিত প্রার্থনার পবিত্র স্থান "বাঙালি সুন্নী জামে মসজিদ"। এটি তৎকালীন পূর্ব বাংলা তথা বর্তমান বাংলাদেশী অভিবাসীদের মাধ্যমে উনিশ শতকের দিকে নির্মিত হয়। যেখানে গাউসে দাঁওরা হযরত খাজা আব্দুর রহমান চৌহরভী (রাঃ), কুতুবুল আউলিয়া সৈয়্যদ আহমদ শাহ সিরিকোটি (রাঃ), হজরত শাহ সুফী সদর উদ্দীন আহমদ (রহঃ)'র মত বিখ্যাত বুজুর্গরা নিয়মিত নামাজ আদায় করতেন।সরকারি চাকুরীর কারণে পীরে কামেল হযরত শাহ্সুফি নুরুল হক (রহঃ) তখন মায়ানমার (বার্মা)'র রেঙ্গুনে অবস্থান করছিলেন এবং এমন একজন কামেল পীরের সন্ধান করছিলেন যাঁর আকর্ষণী শক্তির মাধ্যমে অন্তরচক্ষু খুলে দিতে পারেন। আল্লাহ যখন কাউকে তার প্রিয় বান্দা রূপে পেতে চায় তখন তাঁর হেফাযতের দায়িত্ব আল্লাহ নিজেই গ্রহণ করেন।হঠাৎ একদিন ঐ মসজিদে আসলেন হজরত শাহ সুফী সদর উদ্দীন আহমদ (রহঃ), পীরে কামেল হযরত শাহ্সুফি নুরুল হক (রহঃ) যেভাবে চেয়েছিলেন ঠিক সেভাবেই দু'জন মুখোমুখি হলেন চার চোখ এক হয়ে যায়, এক সাধক কবি বলেছেন, ‘আশেকের ভেদ মাশুক বোঝে, যে যার পীরিতে মজে’ তিনি সেদিনই হজরত শাহ সুফী সদর উদ্দীন আহমদ (রহঃ)'র পবিত্র হাতে বায়াত হয়ে যান, দিনটিকে আল্লাহ আশেক-মাসুকের এশকে হাকীকিতে পরিণত করে দিলেন।শুরু হল কঠোর ইবাদত ও রিয়াজতের, তিনি এমন কঠোর সাধনায় মগ্ন হলেন নিজেকে ফানা করে দিয়ে আপন দিলকে সমস্ত দিক হতে ফিরিয়ে আল্লাহর মহব্বতে ডুবে গেলেন।প্রেমময়কে পাইতে প্রেমাগ্নিতে আপনাকে আত্মাহুতি দিতে পীর সাহেবের নির্দেশনায় কঠিন রিয়াজত সাধনায় দীর্ঘদিন পাহাড়,পর্বত, বন, জঙ্গলে, বৃষ্টিজলে, রোদে পুড়েছেন।অবশেষে আল্লাহ সুফী সাহেব হুজুর বাবাজান (রহঃ) কে "জজবা ও সুলুক" "ফানা ও বাকা" উভয় পর্যায়ের মর্যদা দান করার পর পীরে কামেল হযরত শাহ্সুফি নুরুল হক (রহঃ)-এর পীর সাহেব ফুরফুরা শরীফের প্রধান খলিফা হযরত শাহ ছুফি ছদর উদ্দিন আহমদ আশ-শহীদ (রহ:) নিজে এসে সুফী সাহেব হুজুর বাবাজান (রহঃ) কে চিকদাইর শরীফে গদিনশীন করে আমাদের সৌভাগ্যের আলোয় প্রজ্জলিত করেছেন।
পীরে কামেল হযরত শাহ্সুফি নুরুল হক (রহঃ) তিনি চিকদাইর শরীফকে জিকিরের মারকাজ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন:-
অলিআল্লাহগণ হলেন আত্মার শিক্ষক। দুনিয়ার সব কাজ শিক্ষার জন্য যেমন শিক্ষকের নিকট যেতে হয়, তেমনি আত্মশুদ্ধির জন্যও আত্মিক শিক্ষক অলিআল্লাহর অনুসন্ধান করা ফরজ। মোমেনের জন্য সাধনার অর্জন হল ওহী, এলহাম, স্বপ্ন, কাশফ ও ফায়েজ। ওহীর দরজা বন্ধ। কিন্তু অবশিষ্ট চারটি কেয়ামত পর্যন্ত বহাল আছে। যে ওয়াজিফা আমল করে এ চারটির মর্তবা অর্জন করা যায় না, সে আমল নিষ্ফল। তাই যার সোহবতে গেলে এসব মর্তবা লাভ করা যায়, আত্মার পরিবর্তন হয়, মুর্দা দিল জিন্দা হয় এবং ফায়েজ বুঝা যায় সে রকম যোগ্যতার মোর্শেদের অনুস্মরণ করতে হবে। অন্তরের জ্বিকির আত্মাকে পরিষ্কার ও পবিত্র করে তোলে। হাদিসে আছে, “প্রত্যেক জিনিসকে পরিষ্কার করার বস্তু রয়েছে, দিলের ময়লা পরিষ্কার করার বস্তু হল জ্বিকির” (মেশকাত শরীফ)। সুতরাং কলবে জ্বিকির পয়দা করার মাধ্যমেই কলবকে পরিশুদ্ধ করা যায়। প্রত্যেক নামাজের শেষে সাধক মোরাকাবা অবস্থায় যার যে লতিফায় জ্বিকির বা ছবক তিনি তাতে খেয়াল করুন। গভীর ভাবে ডুবে যাবেন কলবের মধ্যে। আপন মোর্শেদের নূরানি চেহারা মোরাকাবায় সামনে নিয়ে গভীরভাবে আল্লাহকে স্বরণ করে তাঁর সাহায্য ভিক্ষা চাইতে হবে। এভাবে মোরাকাবা করতে করতে এমন একটা সময় আসবে যখন আপন মোর্শেদের নেক দৃষ্টি, দয়াল রসূল (স.)—এর মহব্বত ও আল্লাহপাকের অপার দয়ায় কলবে জ্বিকিরের ধ্বনি শোনা যাবে। এভাবে সাধনা ও এবাদত করতে করতে কলবে আল্লাহর জ্বিকিরের নকসা বসে যাবে। প্রত্যেক লতিফা থেকে জ্বিকির শোনা যাবে। এমনকি কখনও কখনও সর্বশরীরে জ্বিকির হবে। জ্বিকিরের কম্পন জাহেরিতেও বুঝা যায়।
পীরে কামেল হযরত শাহ্সুফি নুরুল হক (রহঃ) হুজুরের পবিত্র ওফাত দিবস :
(১৪১৭ হিজরী, ২০শে রজব, ১৪০৩ বাংলা, ১৯শে অগ্রহায়ণ, ৩রা ডিসেম্বর ১৯৯৬ইংরেজী, রোজ: সোমবার।)
পীরে কামেল হযরত শাহ্সুফি নুরুল হক (রহঃ) চট্টগ্রাম গোলপাহাড়স্থ ইউনুস ম্যানসনে জিকিররত অবস্থায় ৯৬ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।চিকদাইর শরীফ মাঠে স্থান সংকুলান না হওয়ায় পার্শ্ববর্তী চিকদাইর উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন বিশাল খালি ময়দানে যতদূর চোখ যায় হাজার হাজার মানুষ হুজুরের জানাজার নামাজে অংশগ্রহণ করেন এত বড় জানাজা আমি দ্বিতীয়টি আর দেখিনি।প্রতি বৎসর ০৩রা ডিসেম্বর, ১৯ অগ্রহায়ণ হুজুর কেবলার ওফাত দিবসটি ধর্মীয় ভাবগাম্ভির্য্য পরিবেশের মধ্য দিয়ে পালিত হয়। পবিত্র কোরআন মতে একজন কামেলঅলি কখনো মৃত নয় তাঁরা মহান আল্লাহর তরফ থেকে রিজিকপ্রাপ্ত হন। কারণ তাঁরা পুত:পবিত্র,তাঁদের সমাহিত স্থান আল্লাহর রহমত পাবার স্থান।পীরে কামেল মোকাম্মেল অলিআল্লাহর ওফাত দিবসে প্রতি বছর কোরআন-হাদিস মতে ইসলামী মাহফিল কোরআন তিলওয়াত ও দান সদকা ইত্যাদি বিষয়ের জন্য ছওয়াব হাসিল করা ও ইন্তেকাল প্রাপ্ত ব্যক্তির রূহে ছওয়াব পৌছানোকে ওরছ বলা হয়।ওরছের নিয়ম চালু করার উদ্দেশ্য ছিল বুযুর্গানেদ্বীনের রুহের প্রতি ইসালে সওয়াব করা, যা মহান আল্লাহর খুবই পছন্দনীয় কাজ। ওরছ শরীফ বা ফাতেহাখানি ও তাবারকের ব্যবস্থা করা হয়, বিশেষ এ তাবারক গ্রহণ করে মানুষের দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে মুক্তিলাভ করছে এবং রহমত ও বরকতপ্রাপ্ত হন। যে সব পূর্ণবুযুর্গ থেকে আমরা ফয়েয বরকত লাভ করেছি, এ ব্যাপারে আমাদের ওপর তাদের অধিক হক রয়েছে। এবং প্রতি বছরে ওরছ শরীফে পীর ভাইদের সাথে পরস্পর মিল মুহব্বত ও ভ্রাতৃত্ববোধ বৃৃদ্ধি পায় ও ইসলামের জযবা তৈরী হয়।
ফুরফুরা শরীফ এর সাথে চিকদাইর শরীফের সম্পর্ক :-
১) ফুরফুরা দরবার শরীফ এর প্রতিষ্ঠাতা মোজাদ্দেদে জামান হযরত শাহ্সুফী মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিকী আল কুরাইশী (রাহঃ)'র
প্রধান খলিফা
২) হজরত শাহ সুফী ছদর উদ্দিন আহমেদ (রহঃ)'র
প্রধান খলিফা
৩) পীরে কামেল হযরত শাহ্সুফি নুরুল হক (রহঃ)
ফুরফুরা দরবার শরিফ:-
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার একটি সুম্পূর্ন শিরিক বেদআত মুক্ত ফুরফুরা দরবার শরিফ।এই দরবার প্রতিষ্ঠা করেন মোজাদ্দেদে জামান হযরত শাহ্সুফী মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিকী আল কুরাইশী (রাহঃ) তিনিই মূলত তিনি সিলসিলা-ই-ফুরফুরা শরীফের প্রতিষ্ঠাতা।মোজাদ্দেদে জামান ও আমিরুস শরিয়ত হিসেবে সমগ্র বিশ্বে তিনি বিশেষ খ্যাতি লাভ করেছিলেন। তার পৃষ্ঠপোষকতায় বঙ্গদেশের নানা স্থানে প্রায় ৮০০ মাদ্রাসা ও ১১০০ মসজিদ স্থাপিত হয়েছিল।। তাঁকে হিজরী চতুর্দশ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ বলা হয়। মোজাদ্দেদে জামান হযরত শাহ্সুফী মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিকী আল কুরাইশী (রাহঃ) ১৮৪৫ সালে হুগলি জেলার ঐতিহাসিক গ্ৰাম ফুরফুরা শরিফে পিতা আব্দুল মুক্তাদির সিদ্দিকীর ঘরে জন্ম গ্ৰহণ করে, এবং ইসলামের প্রথম খলিফা হজরত আবু বকর সিদ্দিকি (রাদিয়াল্লাহু আনহু)'র সরাসরি বংশধর।কোন ব্যক্তিকে মহান আল্লাহ জজবা’ ও ‘সুলুক’ উভয় পর্যায়ের মর্যদা দান করে থাকেন। আল্লাহ পাকের বিশেষ কল্যাণহেতু হযরত শাহ পীর আবু বক্কার সিদ্দিকী (রহঃ) এই মর্যাদায় বিভূষিত হন।ছাত্রজীবনে হুগলি মাদ্রাসায় থাকাকালীন তাঁর আধ্যাত্মিক অবস্থা সম্পর্কে জানা যায় যে, অধিকাংশ রাত্রে তাঁর অন্তরের সাথে চার তরিকার নিসবত বা এক ধরনের যোগসুত্র ঘটতো। এই যোগসুত্র যখন যে তরিকার সাথে হতো তখন তিনি অধীর হয়ে ওই তরিকার জিকির করতেন।অনেক সময় একটি নূর বা জ্যোতি দ্বারা তাঁর আপাদ-মস্তক আচ্ছাদিত হয়ে পড়ত এবং তাঁর আত্মবিস্মৃত ঘটতাে। মোজাদ্দেদে জামান হযরত শাহ্সুফী মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিকী আল কুরাইশী (রাহঃ) প্রথম জীবনে, জনমানব শূণ্য ময়দানে যিকরে জলীর (উচ্চস্বরে যিকর) বহু বহু রাত্রি অতিবাহিত করেন। এককথায় ছাত্রজীবন থেকেই তার জাজবী অবস্থার সাথে সাথে কৃচ্ছ্র সাধনাও শুরু হয়েছিল।এরপরও তিনি সমকালীন শ্রেষ্ঠ সাধক শাহ সুফি ফতেহ আলী ওয়াইসী (রহঃ) এর নিকটে বায়'আত হন। তাঁর সান্নিধ্যে চার তরিকার নিয়ম নীতি অনুযায়ী অনুশীলন পূর্বক খিলাফত লাভ করেন। পীরের ভালোবাসায় তিনি ছিলেন নিবেদিত প্রাণ। তাঁর কোলে মাথা রেখেই শাহ সুফি ফতেহ আলী ওয়াইসী (রহঃ) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন।
ফুরফুরা শরীফের মোজাদ্দেদে জামান হযরত শাহ্সুফী মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিকী আল কুরাইশী (রাহঃ) এর হাজার হাজার খলিফা গনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য খলিফা হলেন :-
(১) হজরত শাহ সুফী ছদর উদ্দিন আহমেদ ((রহঃ), বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগের অন্তর্গত ফেনী জেলার দাগনভূঁঞা উপজেলার নিভৃত গজারিয়া গ্রামে সুফি ছদর উদ্দিন রহ. দরবার শরীফ অবস্থিত। (২) কুতুবুল ইরশাদ হাদীয়ে জামান আল্লামা হাতেম আলী সিদ্দিকী বাগদাদী আল কুরাইশী (র:) ।কুমিল্লা দারুল আমান দরবার শরীফ।৩) কুতুবুল ইরশাদ হাদীয়ে জামান আল্লামা হাফেজ আব্দুর রহমান হানাফী (র:) ।সোনাকান্দা দারুল হুদা দরবার শরীফ।(৪) কুতুবুল ইরশাদ হাদীয়ে জামান আল্লামা নেছার
উদ্দিন আহমদ (র:) । ছারছীনা দরবার শরীফ।(৫) কুতুবুল ইরশাদ হাদীয়ে জামান প্রফেসার আল্লামা খালেক সাহেব (র:) । ছতোরা দরবার শরীফ। (৬) আঠারো ভাষার পন্ডিত আল্লামা ড: মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ (র:)..ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
সুফী সাহেব হুজুর বাবাজান (রহঃ)-এর পীর সাহেব ছিলেন ফুরফুরা শরীফের প্রধান খলিফা হযরত শাহ ছুফি ছদর উদ্দিন আহমদ আশ-শহীদ (রহ:) :-
উপমহাদেশে ইসলাম প্রচার ও জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকলের কাছে ইসলামের মর্যাদাকে সমুচ্চ রাখার জন্য যাঁরা অবিস্মরণীয় অবদান রেখেছেন- কুতুবুল আকতাব, আশেকে রাসূল, মাশুকে এলাহি, হযরত শাহ্ ছুফি ছদর উদ্দিন আহমদ আশ-শহীদ র. তাঁদের মধ্যে অন্যতম। তিনি ছিলেন উনবিংশ শতাব্দীর বাংলা আসামের ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ। বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগের অন্তর্গত ফেনী জেলার দাগনভূঁঞা উপজেলার নিভৃত গজারিয়া গ্রামে হযরত শাহ ছুফি ছদর উদ্দিন আহমদ আশ-শহীদ (রহ:) দরবার শরীফ অবস্থিত। যিনি ১৮৬৪ সালে বাংলাদেশের খুলনা বিভাগের যশোর (বর্তমানে মাগুরা) জেলার শালিখা উপজেলার অন্তর্গত হরিতলা পোস্ট অফিসের আওতাধীন গঙ্গারামপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা-মাতার কাছেই তার শিক্ষার হাতেখড়ি। পরবর্তীতে যশোর জেলা স্কুল থেকে ১৮ বছর বয়সে এন্ট্রান্স (বর্তমানে এস.এস.সি) পাশ করে ২০ বছর বয়সে পুলিশের চাকরি গ্রহণ করেন, এবং ৩ বছর পর পদোন্নতি হয়ে অফিসার পদে নিযুক্ত হন।
এক আল্লাহর ওলির দোয়ার বদৌলতে তার জীবনের আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়। কিছুদিন পর চাকরি ছেড়ে চলে যান ইলমে দ্বীন অর্জনে তৎকালীন প্রসিদ্ধ কলকাতা আলীয়া মাদরাসায়। আলিয়া মাদরাসার সম্মানিত উস্তাদগণ ছুফি ছদর উদ্দিন (র.)-এর হাল হাকিকত দেখে তাঁকে মাদরাসায় ভর্তি না করে পাঠিয়ে দেন তৎকালীন যুগের মুজাদ্দিদ, ফুরফুরা শরীফের পীর, উলিল আমর, আমিরুশ শরীয়ত, হযরত শাহ্ ছুফি আবু বকর সিদ্দিকী আল কুরাইশী (র.)-এর নিকট। মুজাদ্দিদে জামান র. তাঁকে তরিকার তালিম প্রদান ও বাইয়াত গ্রহণ করালেন। দীর্ঘদিন কামেল মুর্শিদের দরবারে কঠোর রিয়াজত, ফয়েজ ও তাওয়াজ্জুহ মাধ্যমে প্রাপ্ত হলেন চার তরিকার কামালিয়াত ও খিলাফত ।
শাহ্ ছুফি ছদর উদ্দিন আহমদ র. ইংরেজি ১৯৪৪ সালের ৯ এপ্রিল, বাংলা ১৩৫০ সালের ২৬শে চৈত্র, হিজরি ১৩৬৩ সালের ১৫ রবিউস সানি, রোজ জুমাবার, বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগের অন্তর্গত ফেনী জেলার দাগনভূঁঞা উপজেলার নিভৃত গজারিয়া গ্রামে মাওলানা হাবিব উল্লাহ (র.)-এর বাড়িতে ইন্তেকাল করেন। তার বাড়ির সম্মুখেই সুফি ছদর উদ্দিন রহ. এর মাজার শরীফ অবস্থিত।সুফি সদরউদ্দিন আহমদ রহ. দরবার শরীফ সূচনালগ্ন থেকে অদ্যাবধি পরিপূর্ণ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অনুসারী। মাযহাবে হানাফীর ধারক ও বাহক। তরিকায়ে কাদেরীয়া, চিশতিয়া, নকশবন্দিয়া, মোজাদ্দেদীয়া, মুহাম্মদীয়ার প্রচার প্রসার, তালিম তাওয়াজ্জুহ, সবকাদি মশক করিয়ে থাকেন।
অত্যাচারী ব্রিটিশ বেনিয়া ও হিন্দু জমিধারী মারওয়ারী নিষ্পেষনে জর্জরিত নিপীড়িত বাংলার মানুষকে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে সঠিক অবস্থানে তুলে আনার ক্ষেত্রে উনবিংশ শতকের অন্যতম সংস্কার আন্দোলন ফুরফুরা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম একনিষ্ঠ সিপাহসালার ছিলেন সুফি ছদর উদ্দিন রহ.। সমাজের সর্বস্তরে নিকট ইসলামের সঠিক মর্মবাণী পৌঁছে দেওয়ার জন্য ছুফি ছদর উদ্দিন র. অসংখ্য মাদরাসা, মসজিদ, মক্তব ও খানকা প্রতিষ্ঠা করেন। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য, তুহা ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসা (১৯২৩), পাবনা; হাদল সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা (১৯০৯), ফরিদপুর, পাবনা, ঠনঠনিয়া নূরুন আলা নূর ফাজিল মাদরাসা (১৯৪২) বগুড়া; ছদরুল উলূম সিদ্দীকিয়া (বক্তারমুন্সী ফাজিল) মাদরাসা (১৯১০), সোনাগাজী, ফেনী, কাদলা এস. এস ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসা, কচুয়া। এছাড়াও হুজুরের ইন্তেকালের পরে তাঁর স্মৃতি স্মরণে গঙ্গারামপুর ছদরিয়া দাখিল মাদরাসা (১৯৯৩), মাগুরা; গজারিয়া শাহ্ ছুফি ছদর উদ্দিন আহমদ র, ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা (১৯৭৭), দাগনভূঁঞা, ফেনী।
শিরক, বিদয়াত ও কুসংস্কার রোধ এবং ভন্ড বেশরা পীরদের স্বরূপ উন্মোচনে সুফি ছদর উদ্দিন রহ. এর অবদান অপরিসীম। কখনো ওয়াজ নসীহতের মাধ্যমে, কখনো বাহাসের মাধ্যমে, কখনো কিতাব রচনা অথবা উলামা, খোলাফাদের মাধ্যমে প্রতিবাদ করে বাতিল আকিদার দর্প চূর্ণ করেছেন।
আধ্যাত্মিক শিক্ষা প্রচার ও প্রসার, আল্লাহ ভুলা মানুষদের সঠিক পথের সন্ধান দিতে তিনি হেদায়েতের দাওয়াত নিয়ে, বার্মা (মায়ানমার), রেঙ্গুন, আসাম, যশোর, পাবনা, বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর, খুলনা, বরিশাল, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী ও চট্টগ্রাম প্রভৃতি অঞ্চলে ছুটে যান। বার্মাতে অবস্থানকালে অসংখ্য মানুষ তাঁর হাতে কালিমা পড়ে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করেন।
এছাড়াও সারাদেশে অসংখ্য মাদরাসা, মসজিদ, হেফজখানা, এতিমখানা, খানকা ও দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন।
ফুরফুরা শরীফের প্রধান খলিফা হযরত শাহ ছুফি ছদর উদ্দিন আহমদ আশ-শহীদ (রহ:) উল্লেখযোগ্য খলিফা ও উলামায়ে কেরাম:-
১) পীরে কামেল হযরত শাহ্সুফি নুরুল হক (রহঃ) প্রকাশ চিকদাইর সুফী সাহেব হুজুর (রহঃ) ০২. কুতুবুল ইরশাদ প্রফেসর আল্লামা আব্দুল খালেক র.। ০৩. ছুফি জয়নাল আবেদীন র.।০৪. মাওলানা হাবিব উল্লাহ র:। ০৫. প্রফেসর নূরুল আফসার র.। ০৫. মাওলানা বজলুর রশীদ র:। ০৭. মৌলভী আশেক এলাহী র.। ০৮. মাওলানা আব্দুল গফুর বরিশালী র. ০৯. মাওলানা বজলুল করিম র. ১০. প্রফেসর কাজী জামালুল্লাহ র.। ১১. ছুফি আব্দুল অহীদ কালিমী র.। ১২. ছুফি আব্দুল বারী র. সহ প্রমুখ মহান সাধকগণ।
আমি ধর্মভীরু হলেও ধর্মান্ধতা আমাকে কখনো গ্রাস করে নিতে পারেনি।আমি সুস্থ্য চিন্তা আর মানবিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী।আমার শক্তি "আমার আবেগ", আবার সে আবেগ-ই আমার বিশেষ দুর্বলতা।আর সেই বিশেষ দুর্বলতার জায়গা হল চট্টগ্রাম জেলার রাউজান থানার অন্তর্গত চিকদাইর শরীফের প্রতিষ্ঠাতা আমার সুফী সাহেব হুজুর বাবাজান (রহঃ)।যাঁর অনুসরণ ও অনুকরণের মাধ্যমে জীবনে প্রত্যাশিত শান্তি ও সফলতার বাতিঘর প্রজ্বলিত রাখার জন্য আল্লাহর দরবারে প্রতিনিয়ত ফরিয়াদ করি।আল্লাহ আমার আর্জি ফরিয়াদ কবুল করুন।পীরে কামেল হযরত শাহ্সুফি নুরুল হক (রহঃ) প্রকাশ চিকদাইর সুফী সাহেব হুজুর (রহঃ)'র সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য উপাথ্য সংগ্রহ করে লেখা আমার মত অধমের পক্ষে দুঃসাহস ছাড়া আর কিছু নয়।প্রতি মূহুর্ত ভয়ে কাটে, মনে হয় কিছু ভুল হয়ে গেল।সম্মানিত সকলের প্রতি আমার অনুরোধ, আমার ভুল- ত্রুটি ক্ষমা করবেন।