হাজী আছন আলী চৌধুরী ওয়াকফ এস্টেটের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগের প্রতিবাদে আজ সোমবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন এস্টেটের মোতওয়াল্লীগণ। 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মসজিদের যুগ্ম মোতওয়াল্লি সেলিম চৌধুরী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আব্দুল হামিদ চৌধুরী ও হুমায়ুন চৌধুরী।

সেলিম চৌধুরী জানান, গত ১৯ এপ্রিল হানিফ ও শুভ গং-এর নেতৃত্বে একটি মিথ্যাচারপূর্ণ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তারা এষ্টেট সম্পর্কে বানোয়াট ও ভিত্তিহীন তথ্য উপস্থাপন করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালায়। এ সকল অপপ্রচারের জবাবে আজকের এই প্রতিবাদ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

 

তিনি বলেন, "আমরা সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী ওয়াকফ কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত বৈধ মোতওয়াল্লী। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে সর্ম্পূণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এস্টেট পরিচালনা করে আসছি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মসজিদের সামনে মোতওয়াল্লীদের বিরুদ্ধে ব্যানার টানিয়ে অরাজকতা সৃষ্টি, মার্কেট দখলের চেষ্টা এবং চাঁদাবাজির মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে হানিফ ও তার সহযোগীরা। এমনকি গত শুক্রবার শাহ আমানত ব্রীজের নীচে মোতওয়াল্লী আব্দুল হামিদ মিয়া চৌধুরীর উপর লাঠি কিরিচ নিয়ে শারীরিক হামলারও চেষ্টা করা হয়। এছাড়া মসজিদের শত বছরের পুরনো পরিত্যক্ত অবকাঠামো ভেঙে ৪ তলা বিশিষ্ট আধুনিক মসজিদ নির্মাণের তথ্য তুলে ধরে মোতওয়াল্লীগণ জানান, "এখন সেখানে একসাথে ৩,০০০ মুসল্লী নামাজ আদায় করতে পারেন।"ওয়াকফ এস্টেট পরিচালনার স্বচ্ছতা সম্পর্কে তারা জানান, নিয়মিত ওয়াকফ চাঁদা প্রদান, হিসাব-নিকাশ ও বার্ষিক অডিট করা হয়।মসজিদের জন্য বিক্রিত জমির অর্থ দিয়ে ওয়াকফ এষ্টেটের নামে মার্কেট ও জমি কেনা হয়৷ যা বর্তমানে দাম বেড়ে কেনা দামের প্রায় দ্বিগুণের ও বেশী  হয়েছে।  এস্টেটের সকল আয় নির্ধারিত ব্যাংক একাউন্টে জমা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অতীতের কিছু ভুয়া দলিলের বিষয়েও অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। আব্দুল হামিদ মিয়া চৌধুরী জানান, "জনাব আলী যিনি

মতোওয়াল্লী দাবিদার তিনি পুর্বে জাল দলিল সৃষ্টি করেছেন। তিনি  জাল দলিল তৈরি করে ৩৭.৫ লাখ টাকা রেজিস্টার্ড বায়না দলিলর মাধ্যমে  আত্মসাতের চেষ্টা চালিয়েছেন, যার দলিল নম্বর ১৪৩৩৬, তারিখ ১০/০৯/২০০৯।”

আব্দুল হামিদ মিয়া অভিযোগ করেন, এই দলিলে যাঁদের নাম ব্যবহার করা হয়েছে, দাতা গ্রহীতা দলিল সম্পাদনের তারিখের অনেক আগেই মৃত্যুবরণ করেছেন, যা প্রমাণ করে দলিলটি জাল। ১০০ বছরের আগে ওয়াকিফ ২১৪ কানি জমি ওয়াকফ এস্টেটে দান করলেও অধিকাংশই ব্রিটিশ আমলে প্রজাবিলি,হুকুম দখল  ও নদী ভাঙ্গনে বিলীন হয়েছে। মতোওয়াল্লীগণ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অপপ্রচার কল্পনা'কেও  হার মানাবে।মুলত,হানিফ, শুভ গং জনাব আলীকে সাথে নিয়ে প্রভাব খাটিয়ে ওয়াকফ সম্পত্তি আত্মসাৎ এর চেষ্টায় লিপ্ত।

তিনি জানান, হানিফ ব্যাংকের পিয়নের চাকরি হারিয়ে এখন দখলবাজ, ভুমি দস্যুর খাতায় নাম লিখিয়েছে। নামে বেনামে সোশাল মিডিয়াতে ঘৃণিত অপপ্রচার চালিয়ে মতোওয়াল্লী গণের সন্মান হানি করছেন। এ ব্যাপারে গ্রাম বাসীকে সতর্ক থাকার আহবান জানান।

সেলিম চৌধুরী জানান,আমরা দালিলিক ডকুমেন্টস হাজির করে তথ্য প্রমানাদি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসেছি, অপরদিকে প্রতিপক্ষ গ্রুপ সাংবাদিক সম্মেলনে মনগড়া, ভিত্তিহীন মুখরোচক গল্প ছাড়া তথ্য উপাত্ত কিছুই উপস্থাপন করতে পারেন নাই।