চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মো: মেহেদী হাসান মানিককে দুর্নীতির দায়ে ১৬ জুলাই ক্লোজ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ-আল-মামুন "সকালের চট্টগ্রাম"কে বলেন,রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মো: মেহেদী হাসান মানিকের দুর্নীতির বিষয়ে বিভাগীয় তদন্ত চলছে তাই মানিককে ক্লোজ করে সদরে নিয়ে আসা হয়েছে।
মেহেদী হাসান মানিকের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়:
মানিক দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পার্বত্য রাঙ্গুনিয়ার পাহাড়ি বনাঞ্চলে গাছ নিধনের মাধ্যমে কোটি টাকার কাঠ পাচার শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবেশবাদী সংগঠন ও বন বিভাগের একাধিক কর্মকর্তার। অভিযোগ রয়েছে, নিয়মিতভাবে রাঙ্গুনিয়া এভিয়ারি ও ইকো পার্কসহ আশপাশের সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে রাতের আঁধারে কাঠ কেটে তা পাচারে সহযোগিতা করার। পাচারের এই সিন্ডিকেটে জড়িত রয়েছে একাধিক স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী, প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের অনুসারীরা এবং বন বিভাগেরই কিছু অসাধু কর্মকর্তা। এপ্রিল থেকে জুলাই— এই চার মাসে পার্ক এলাকা থেকে অন্তত ২৫টি মূল্যবান সেগুন গাছ কেটে বিক্রি করা হয় । প্রতি গাছের মূল্য গড়ে ৪০ হাজার টাকা হিসেব করলে এর আর্থিক মূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা। ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর ২৫০ ঘনফুট কাঠ জব্দ দেখিয়ে বন অফিসে জমা দেই, কিন্তু পরে ২০০ ঘনফুট কাঠ গোপনে এক ব্যবসায়ীর কাছে চার লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়, যেখানে সহযোগিতা করেন সহকারী বন কর্মকর্তা মোতালেব আল আমিন। বিষয়টি জানাজানি হলে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
সরাসরি কাঠ পাচার সিন্ডিকেট পরিচালনা করে মানিক। প্রতিদিন অন্তত ১৫ থেকে ২০টি কাভার্ডভ্যান, পিকআপ, ট্রাক কোদালা বিট থেকে পার্ক এলাকা হয়ে কাঠ পরিবহন করে। মহাসড়ক ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছে দেয়। এসব গাড়ির জন্য জনপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা করে ঘুষ আদায় করা হয়। কর্ণফুলী নদীপথও পাচারের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। পোমরা, ইছামতি, ইসলামপুর এবং খুরুশিয়া রেঞ্জের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ট্রলার ও নৌকা করে কাঠ পাচার হচ্ছে রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন ঘাটে, যেখানে পরে গাড়িতে তুলে তা পাঠানো হয় শহর অভিমুখে। সম্প্রতি রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ একটি কাঠবোঝাই ট্রাক আটক করলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী খোকন ফরেস্ট রেঞ্জার মানিকের নাম বলেন। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, মানিক পার্ক এলাকার ভেতর থেকে ভোজ্য ও বনজ মিলিয়ে প্রায় ৫০০টি গাছ বিক্রি করেছেন মাহবুব নামে এক রাজনৈতিক নেতার কাছে ১৫ লাখ টাকায়। কর্তনের গোড়া দেখে এই অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে। অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সুপারিশে বন বিভাগে নিয়োগ পেয়েছেন। বন বিভাগের অভ্যন্তরে সরকারবিরোধী প্রচারণাও করছেন, যা প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুতর অপরাধ। পাহাড় ধসে মানুষের জীবন হুমকির মুখে , জলবায়ু ও পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট হচ্ছে, নদীর গতিপথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়ে যাচ্ছে।
রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মো: মেহেদী হাসান মানিক সকালের চট্টগ্রামকে বলেন, কোথা থেকে কি হলো বুঝতে পারছি না, যা হয়েছে আমি একা কিছু করিনি।