চট্টগ্রামের খুলশী থানাধীন জাকির হোসেন রোডের হাবিব লেইনের শেষ মাথায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বিল্ডিং কোড অনুসরণ ব্যতিরেকে অবৈধভাবে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে ক্যাপ্টেন দেলোয়ার নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পাশ্ববর্তী ভবনের মালিক শামীম আরা নওশাদ সম্প্রতি চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগের সূত্র ধরে গত ২৬ আগস্ট ২০২৫ তারিখে সিডিএর অথরাইজড অফিসার-১  কাজী কাদের নেওয়াজ টিপু এবং সিডিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে উক্ত ভবনে অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানে ভবনের নিচতলা থেকে ৭ম তলা পর্যন্ত অবৈধ অংশ ভেঙে ফেলা হয় এবং নির্মাণ বিধি লঙ্ঘনের দায়ে দুই লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়।

তবে জানা গেছে, উচ্ছেদ অভিযান ও জরিমানা প্রদানের পরও থেমে নেই ক্যাপ্টেন দেলোয়ারের অবৈধ নির্মাণ কার্যক্রম। অভিযোগ উঠেছে, তিনি দিনের বেলাতেই প্রশাসন ও সিডিএর অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে কোনো প্রকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে আশপাশের ভবনের বাসিন্দারা প্রতিনিয়ত ঝুঁকিতে রয়েছেন।

পাশ্ববর্তী ভবনের এক বাসিন্দা জানান, “ওদের ভবন থেকে প্রায়ই লোহা, ইট, বালু নিচে পড়ে। শিশু বা বয়স্ক কেউ নিচ দিয়ে গেলে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি।”

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অথরাইজড অফিসার-১ কাজী কাদের নেওয়াজ টিপু বলেন “আমরা অভিযোগ পাওয়ার পর পরই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হয়ে অভিযান পরিচালনা করেছি এবং ভবনের অবৈধ অংশ ভেঙে দিয়েছি। আমি পুনরায় পর্যবেক্ষণের দায়িত্ত্ব দিয়েছি ,পর্যবেক্ষণ করে যদি কোন তারতম্য পায় বা  পুনরায়  নির্মাণ কাজ শুরু করে, তাহলে সিডিএ  আরও কঠোর ব্যবস্থা নেব। প্রয়োজনে ভবনটি সিলগালা করা হবে।”
ভুক্তভোগী পাশ্ববর্তী ভবনের মালিক শামীম আরা নওশাদ বলেন—“আমি সিডিএতে অভিযোগ দিয়েছি কারণ আমাদের ভবনের দেয়ালে ফাটল ধরেছে তাদের অবৈধ নির্মাণের কারণে। উচ্ছেদের পরও তারা আবার একইভাবে কাজ করছে। আমরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ চাই, যেন কোনো দুর্ঘটনার আগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।”

অন্যদিকে অভিযুক্ত ক্যাপ্টেন দেলোয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন— “আমি নিয়ম মেনেই ভবন নির্মাণ করছি। কিছু প্রতিবেশী ব্যক্তিগত কারণে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। সিডিএর নির্দেশ অনুযায়ী আমি কাজ করছি, আর সব কাগজপত্রও প্রক্রিয়াধীন।”