ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের একাধিক সাধারণ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা বিএনপির নেত্রীরা। তবে দলীয় সিদ্ধান্তে তারা মনোনয়ন পাননি এবং দলের সিদ্ধান্ত মেনে নির্বাচনে অংশও নেননি। এবার সংরক্ষিত নারী আসনকে সামনে রেখে সংসদ-সদস্য হওয়ার লক্ষ্যে নতুন করে তৎপর হয়েছেন তারা।
দলীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের অন্তত একডজন নেত্রী সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পাওয়ার আশায় দলীয় হাইকমান্ডের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। লবিং-তদবিরে অনেকে ইতোমধ্যে ঢাকায় অবস্থান করছেন।
ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা আলোচনার শীর্ষে

আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা। আওয়ামী সরকারের আমলে প্রতিহিংসার শিকার হয়ে জঙ্গি মামলায় তিনি ১০ মাস ৮ দিন কারাবন্দি ছিলেন বলে দলীয় সূত্র দাবি করেছে। তার বাবা, বিএনপির সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম, চট্টগ্রামের হাটহাজারী আসন থেকে টানা চারবার সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী-বায়েজিদ) আসন থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন ফারজানা। সংশ্লিষ্টদের মতে, তাকে সংরক্ষিত নারী আসনে বিবেচনায় রাখার পরিকল্পনা থাকায় সাধারণ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি।
এ প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার ফারজানা বলেন, “দলের জন্য কাজ করি। দল যদি সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত করে, আমি কাজ করব। দলের সিদ্ধান্তই আমার সিদ্ধান্ত।”

আরও যাদের নাম আলোচনায়:-
সংরক্ষিত নারী আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় আরও রয়েছেন বিএনপি নেতা মরহুম নাজিম উদ্দিন চৌধুরীর সহধর্মিণী অধ্যাপিকা আমাতুল আজিজ তারা

জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক ফাতেমা বাদশা,
চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি,
মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক জেলী চৌধুরী,
উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতি মেহেরুন নেছা নার্গিস 
দক্ষিণ জেলা মহিলা দলের সভাপতি জান্নাতুল নাঈম রিকু,
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সাবেক কাউন্সিলর জেসমিনা খানম 
জাসাসের কেন্দ্রীয় নেত্রী নাজমা সাঈদ,ফটিকছড়ির গুম হওয়া বিএনপি নেতা শহিদুল আলম সিরাজ চেয়ারম্যানের সহধর্মিণী সুলতানা পারভীন 

দলীয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম নগরীতে বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে সামনের সারিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন মনোয়ারা বেগম মনি ও ফাতেমা বাদশা। জেলী চৌধুরীও রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।
আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা তুলে ধরছেন নেত্রীরা
চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনে মনোনয়ন চেয়েছিলেন ফাতেমা বাদশা। অন্যদিকে মেহেরুন নেছা নার্গিস সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক আমিনুর রহমান ভূঁইয়ার কন্যা। তিনি ১৯৮২ সাল থেকে রাজনীতিতে সক্রিয়। ১৯৯৪ সালে জেলা মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০২১ সালে উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতির দায়িত্ব পান।
জেলী চৌধুরী বলেন, “স্কুলজীবন থেকে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ২০১১ সাল থেকে মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। আন্দোলন-সংগ্রামে নারীদের ঐক্যবদ্ধ করে রাজপথে নেমেছি। আশা করি মামলা-হামলা ও ত্যাগের বিষয়টি দল মূল্যায়ন করবে।”
চসিকের সংরক্ষিত ১১ নম্বর দক্ষিণ কাট্টলী, ২৫ নম্বর রামপুর ও ২৬ নম্বর উত্তর হালিশহর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জেসমিনা খানমও সংরক্ষিত আসনে প্রত্যাশী। তিনি বলেন, “প্রতিকূলতার মধ্যেও ২০১৫ সালে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ী হয়েছি। দল যদি নারীদের যথাযথ মূল্যায়ন করে, চট্টগ্রামে আরও শক্তিশালী নারী নেতৃত্ব তৈরি হবে।”

গুম হওয়া নেতার পরিবারের প্রত্যাশা:-
ফটিকছড়ির বিএনপি নেতা শহীদুল আলম সিরাজ চেয়ারম্যান ‘চলো চলো ঢাকা চলো’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে গুম হন বলে দলীয়ভাবে দাবি করা হয়। তার পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পরিবারের প্রত্যাশা, গুমের শিকার পরিবারগুলোর প্রতিনিধি হিসেবে সিরাজ চেয়ারম্যানের স্ত্রী সুলতানা পারভীনকে সংরক্ষিত নারী আসনে সুযোগ দেওয়া হবে।
অন্যদিকে জাসাস নেত্রী নাজমা সাঈদ জানান, দলীয় রাজনীতি করতে গিয়ে তিনি চাকরি হারিয়েছেন। তবুও আদর্শ থেকে সরে যাননি। তার আশা, দল তার ত্যাগের মূল্যায়ন করবে।
সিদ্ধান্ত হাইকমান্ডের
দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, ত্যাগ ও সাংগঠনিক দক্ষতার ভিত্তিতেই সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেওয়া হবে। তবে শেষ পর্যন্ত কারা মনোনয়ন পাবেন, সে সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে দলীয় হাইকমান্ডের ওপর।
চট্টগ্রামে বিএনপির নারী নেতৃত্বের সক্রিয়তা এবার সংরক্ষিত আসনকে ঘিরে নতুন মাত্রা পেয়েছে। এখন দেখার বিষয় ত্যাগ ও আন্দোলনের রাজনীতিতে এগিয়ে থাকা নেত্রীদের মধ্য থেকে কাদের হাতে ওঠে সংসদের 
টিকিট।