দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পর দেশে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে প্রতিহিংসার পরিবর্তে দায়িত্বশীলতা, সংঘাতের পরিবর্তে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের কল্যাণকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। 

তিনি বলেছেন, নির্বাচনের আগে স্লোগান ছিল সবার আগে বাংলাদেশ এখন হোক সবার জন্য বাংলাদেশ।

জনগণের অধিকার, মর্যাদা ও ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করাই নতুন বাংলাদেশের রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির নসিমন ভবন কার্যালয় প্রাঙ্গণে মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


এ্যানি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম অত্যন্ত কঠিন ও প্রতিকূল ছিল। জুলুম-নির্যাতন, মামলা-হামলা, গুম ও হত্যার মতো নানা পরিস্থিতির মধ্যেও বিএনপির নেতাকর্মীরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন থেকে সরে যাননি।


এখন গণতান্ত্রিক পরিবেশ ধরে রাখতে প্রতিহিংসা, সংঘাত ও উসকানির রাজনীতি পরিহার করে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে। দীর্ঘ ১৭ বছরে ফ্যাসিবাদীরা আমাদের সঙ্গে যেভাবে মোকাবিলা করেছে, আমরা তাদের সঙ্গে সেভাবে মোকাবিলা করতে চাই না।

আমাদের রাজনীতি প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়। রাজনৈতিকভাবেই সব ধরনের ষড়যন্ত্র ও অপচেষ্টার মোকাবিলা করতে চাই।
দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টার অভিযোগ তুলে এ্যানি বলেন, তাদের নতুন কোনো পরিকল্পনা সফল হতে দেওয়া হবে না। তবে যেকোনো পরিস্থিতি রাজনৈতিক কর্মসূচি, জনসম্পৃক্ততা ও আদর্শিক অবস্থানের মধ্য দিয়ে মোকাবিলার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানাই। কেউ যেন কোনো ধরনের উসকানিতে পা না দেন। ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা বজায় রেখে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। নিয়মিত সভা,গণসংযোগ ও রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষের কাছে যেতে হবে এবং তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। দীর্ঘদিন দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করা নেতাকর্মীদের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানো রাজনৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব।

সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবের রহমান শামীম বলেন, নির্বাচনের পর দেশের রাজনীতিতে একটি নতুন প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। এই নতুন বাস্তবতায় গণতন্ত্রের সৌন্দর্য ও রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখতে হলে যেকোনো ধরনের সন্ত্রাস, সহিংসতা ও গণতন্ত্রবিরোধী অপতৎপরতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে অবস্থান নিতে হবে। অতীতের অপকর্মের পুনরাবৃত্তি যাতে কোনোভাবেই না ঘটে, সে বিষয়ে জনগণ ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি ওয়ার্ড ও থানায় নিয়মিত সভা, সমাবেশ ও গণসংযোগের মাধ্যমে জনগণের কাছে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। একই সঙ্গে যেসব অপকর্ম বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে, সেগুলোর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও আইনসম্মতভাবে জনমত গড়ে তুলতে হবে। নেতাকর্মীদের রাজপথে দায়িত্বশীল ও শৃঙ্খলাবদ্ধ ভূমিকা পালন করতে হবে। কোনো মহল যেন রাজনৈতিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে জনমনে আতঙ্ক বা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ এমপি সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব নাজিমুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক (এনাম), চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন আহমেদ, সংরক্ষিত নারী  সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন এবং দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব লায়ন হেলাল। এ ছাড়া চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।