৩১ ‘চট্টল গৌরবের’ তালিকায় জহুর আহমেদ চৌধুরী ও এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরীর ঠাঁই না হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। ক্ষোভ ঝাড়েন অনেকেই। পরবর্তীতে ৩১ ‘চট্টল গৌরবে’ মহসিন কলেজ ও চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের নেতাদের উদ্যোগে মহসিন স্কুলের দেয়ালে নির্মিত সেই ‘চট্টলগৌরবে’ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরীর ছবি ঠাই পায় । তা আবার কাঠের ফ্রেম ও ফেস্টুনে । অন্যদের মুর‌্যালে লাইট দিয়ে আলোকিত করলেও চট্টলবীর ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র এ বিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছবির উপর লাইট না দেওয়ায় ছবিটি অন্ধকারে । বর্তমানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ,প্যানেল মেয়র ও সংখ্যাগরিষ্ঠ কাউন্সিলর মহিউদ্দীন চৌধুরী অনুসারী।কিন্ত তারা আজ পর্যন্ত মহিউদ্দীন চৌধুরীর মুর‌্যাল নির্মাণে কোন উদ্যেগ গ্রহণ করেন নাই।

সোহেল নামে এক যুবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,মহিউদ্দিন চৌধুরীর কৃপায় অনেকে রাজনৈতিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত,অনেকে শতকোটি টাকার মালিক । সামান্য একটা মুর‌্যাল নির্মাণে কেউ উদ্যেগ নেয়নি এটা খুবই দু:খ্জনক । দেখা যায় অনেকে মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যু বার্ষিকীতে স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে বাহবা নিতে ব্যস্ত ।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘চট্টগ্রামে বঙ্গবন্ধুর বিশ্বস্ত সৈনিক ও আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা জহুর আহমদ চৌধুরীর নাম চট্টলগৌরবের তালিকায় নেই। চট্টগ্রামকে সারা বিশ্বে পরিচিত করিয়েছেন যিনি, সেই এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরীর নাম নেই। বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রথম প্রতিবাদকারী বরেণ্য রাজনীতিবিদ মৌলভী সৈয়দও নেই। এ ধরনের ব্যক্তিত্বকে বাদ দিয়ে বরেণ্য ব্যক্তির তালিকা কিভাবে হয়? শত বছরের রাজনৈতিক-ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে এদের বাদ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। চট্টগ্রামের এরা ভূমিপুত্র। অথচ চট্টগ্রামের সঙ্গে সম্পর্ক নেই, এমন কেউ কেউও ম্যুরালে স্থান পেয়েছেন।’ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই উপাচার্য আরও বলেন, ‘যারা এই কাজটা করেছেন, তারা যেন আবার চিন্তা করে ঢেলে সাজায় এই প্রত্যাশা থাকবে আমার।

এ বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের(চসিক মেয়র) মেয়র মো রেজাউল করিম চৌ চৌধুরীকে ফোন দিলে উনি ফোন ধরেননি।

৩১ ‘চট্টল গৌরবের’ তালিকায় এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরীর ঠাঁই না হওয়া প্রসংগে প্যানেল মেয়র(১) কাউন্সিলর আবদুস সবুর লিটন বলেন, জামালখান ওয়ার্ড আমার আওতাধীন পড়ে না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী দেশমাতা শেখ হাসিনার পরে আমার কাছে মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্থান। আমি চট্টলবীর এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিয়ে গর্ববোধ করি। আমার রামপুরা ওয়ার্ডে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবেন চট্টলবীর জননেতা মরহুম এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর।