বিলাসবহুল সমুদ্রগামী পর্যটকবাহী জাহাজ ‘এমভি বে ওয়ান’ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে নতুন উদ্যমে যাত্রা শুরু করবে আগামী ৮ ডিসেম্বর থেকে। কর্ণফুলী ক্রুজলাইনের পাঁচতারকা মানের ৭তলা এই প্রমোদতরী নগরের পতেঙ্গা থেকে সপ্তাহের প্রতি বৃস্পতিবার রাত ১০টায় ছেড়ে যাবে।

শুক্রবার ভোরে সেন্টমার্টিন পৌঁছাবে এবং ১দিন ১রাত অবস্থান করে শনিবার সকাল ১০টায় সেন্টমার্টিন থেকে রওনা দিয়ে সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম ফিরবে। পর্যটকদের সুবিধার্থে এবার ভাড়াও কমানো হয়েছে।

চট্টগ্রাম না ফিরে যারা কক্সবাজার যাবেন, তারা যেকোনো দিন এই কোম্পানির এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ও নতুন এমভি বার আউলিয়ায় করে যেতে পারবেন। ‘সেন্টমার্টিন ক্রুজে চেপে সাগরের বুকে থেকে প্রবালদ্বীপ, ছেঁড়াদ্বীপ ও নয়নাভিরাম সূর্যাস্ত দেখারও ব্যবস্থা রয়েছে।

বুধবার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা ওয়াটার বাস টার্মিনালে অবস্থানরত এমভি বে ওয়ানে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে কর্ণফুলী ক্রুজলাইনের কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানান।

কর্ণফুলী শিপবিল্ডার্সের এমডি এমএ রশিদ বলেন, কোম্পানিটি জাহাজটি আনার অনুমোদন পেলে, এটি আটদিনে চট্টগ্রাম থেকে সৌদি আরব যাত্রী নিয়ে যাবে। আগে সমুদ্রপথে সৌদি আরব যেতেও এক মাসের মতো লাগলেও, এখন অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ জাহাজগুলি উচ্চ গতিতে চলাচল করতে পারে।

বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রীদের জন্য সাশ্রয়ী খরচে ২০২৪ সাল থেকে ৩২ তলাবিশিষ্ট জাহাজ চলাচল শুরু হবে চট্টগ্রাম-জেদ্দা নৌরুটে। দেশের জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান- কর্ণফুলী শিপবিল্ডার্স লিমিটেড এই রুট চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। জাহাজটির পরিচালনায় একটি নীতিমালা নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ে প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ইঞ্জিনিয়ার এমএ রশিদ।


তিনি আরও জানান, সাগরপথে যাত্রাকালে কোনো অসুবিধা ছাড়াই জাহাজে নামাজ আদায় করতে পারবেন হজযাত্রীরা। বিমান ভ্রমণের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময়ই যা করা যায় না।

কর্ণফুলী শিপবিল্ডার্সের এমডি বলেন, 'হজযাত্রী বহনে জাহাজ চালুর বিষয়ে আমরা নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়সহ ১১টি মন্ত্রণালয়ের সাথে বৈঠক করেছি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি বৈঠকের সার-সংক্ষেপ পাঠানো হয়েছে। সারা বিশ্বে ১০টি ক্লাসিফিকেশন সোসাইটি রয়েছে- যারা জাহাজের ফিটনেস, রিপেয়ার, পরিচালনাসহ সবকিছু দেখে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়ে থাকে। ক্লাসিফিকেশন সোসাইটি অনুমোদিত ৩২ তলাবিশিষ্ট একটি পুরাতন জাহাজ আমদানি করব। এতে একসঙ্গে ৩ হাজার হজযাত্রী বহন করা যাবে। জাহাজে বিশাল একটি মিলনায়তন থাকবে, যেখানে একসঙ্গে ২ হাজার হজযাত্রী বসতে পারবেন। ১৪-১৫ তলা বিশিষ্ট একটি নতুন জাহাজ নির্মাণ করতে ৫ হাজার কোটি টাকা লাগে। আমরা ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি জাহাজ আমদানি করবো। হজে বিমান ভাড়াসহ অন্যান্য খরচে জনপ্রতি ৫ লাখ টাকার মতো ব্যয় হয়। জাহাজে যাত্রী আনতে কমপক্ষে দেড় লাখ টাকা ছাড় দিতে হবে'।

'সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ক্লাসিফিকেশন সোসাইটির অনুমোদন থাকা সাপেক্ষে ক্রুজ জাহাজ আমদানি করা যাবে। আমাদের প্রস্তাব, বছরে দুমাস হজযাত্রী বহন করবে জাহাজটি। বাকি ১০ মাস এশিয়ার বিভিন্ন রুটে যাত্রী নিয়ে চলবে। হজ মৌসুমে ভালো সাড়া পেলে জাহাজ ভাড়া করে আনা হবে। হজ শুরুর সাত দিন আগে জাহাজ যাত্রা করলে সৌদি আরব গিয়ে ৭-৮ দিন হোটেল ভাড়া করে থাকতে হবে না। এখানেও হজযাত্রীদের এক-দেড় লাখ টাকা বাঁচবে'- বলেন প্রকৌশলী রশিদ।

কর্ণফুলী শিপবিল্ডার্স এশিয়ার অন্যতম ড্রেজার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। এপর্যন্ত বাংলাদেশের জন্য পাঁচ হাজার কোটি বেশি মূল্যের ড্রেজার তৈরি করেছে। সম্প্রতি কোম্পানিটি কর্ণফুলী ড্রাই ডক লিমিটেড নামক চট্টগ্রামে দেশের প্রথম প্রাইভেট জেটি নির্মাণ করেছে।