চন্দনাইশ:
চন্দনাইশ উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকায় পাহাড় কেটে সাবাড় করছে প্রভাবশালী মহল, প্রশাসন সম্পূর্ণ নিরব। রাতের আঁধারে চলে পাহাড় কাটার মহোৎসব।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার হাশিমপুর লাল পাহাড়ের পাশে প্রভাবশালী মহল পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করছে মাটি দস্যুরা। স্থানীয় জানান, বিগত ১ মাস ধরে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত চলে পাহাড় কাটার মহোৎসব। ৪০ থেকে ৫০টি ট্রাকে করে এ সকল মাটি বিক্রি করছে বিভিন্ন স্থাপনা ও ভরাট কাজে। স্থানীয়দের মতে, এ পাহাড় থেকে হাজার হাজার মাটি ভর্তি ট্রাকের মাটি বিক্রি করে অনেকেই অবৈধভাবে লক্ষ লক্ষ টাকার মালিক বনে গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছা শর্তে বলেছেন, মাটি ব্যবসায়ীদের মধ্যে জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতা রয়েছে বলে জানান। রাতভর মাটি ভর্তি ট্রাক চলাচলের কারণে এ সব এলাকায় বসবাসকারী মানুষের রাতে ঘুম ব্যাহত হচ্ছে। সে সাথে মাটি ভর্তি ট্রাক চলাচলের কারণে আভ্যন্তরীণ সড়কগুলো ক্ষত-বিক্ষত হয়ে পড়ছে। হাশিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান এড. খোরশেদ বিন ইছহাক বলেছেন, তিনি সেদিকে যান নাই। কারা পাহাড় কেটে মাটি চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে তা জানেন না বলে জানান। একইভাবে কাঞ্চননগর পাহাড়ী এলাকায়ও পাহাড়ের মাটি কেটে রাতে আঁধারে নিয়ে যাচ্ছে মাটি দস্যুরা এবং দোহাজারী পৌরসভাধীন জামিজুরী আদর্শগ্রামের সাতছড়িখালের পাশের পাহাড়গুলো কেটে রাতে ট্রাকে করে মাটি নিয়ে যেতে দেখা যায়। প্রশাসন
কি এক অজানা কারণে সম্পূর্ণ নিরব রয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাছরীন আক্তারের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করতে চাইলে তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। সহকারী কমিশনার (ভূমি) জিমরান মুহাম্মদ সায়েক বলেছেন, কারা পাহাড় কাটছে তিনি জানেন না। এ বিষয়ে তিনি নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে আলাপ করবেন বলে জানান। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেছেন, কোনভাবে পাহাড় কেটে পরিবেশ বিনষ্ট করা যাবে না। এ বিষয়ে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বলবেন বলে জানান।
পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের পরিচালক মফিদুল আলম বলেছেন, বিষয়টি তিনি সরেজমিনে তদন্ত করে দেখবেন।