সীতাকুণ্ডে সীমা অক্সিকো লিমিটেডে রক্ষিত গ্যাস সিলিন্ডার রিফুয়েলিং করার সময় হঠাৎ বিস্ফোরণে নিহতদের বাড়িতে ও এলাকায় এখন শোকের মাতম বয়ে যাচ্ছে।
জানা যায়,গত শনিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় ৯নং ভাটিয়ারী ইউনিয়নের কদম রসুল এলাকায় অবস্হিত সীমা অক্সিকো লিমিটেডের ভিতরে শ্রমিকরা কর্মরত অবস্হায় এক শ্রমিক একটি গ্যাস সিলিন্ডার রিফুয়েলিং করার সময় হটাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণে আগুন লেগে আগুনের লেলিহান দাউ দাউ জ্বলতে থাকে।এতে কানাখানার ভিতরে সব কিছু আগুনের লেলিহানে লন্ড ভন্ড হয়ে যায়।বিস্ফোরণের ফলে কারখানার ভিতরে থাকা লোহার পাত এবং গ্যাস সিলিন্ডার গুলো টুকরো টুকরো হয়ে মানুষের ঘর বাড়ি এবং লোকজনের গায়ের উপর পড়ে অনেকে নিহত আহত হয়।যা এক বিভৎতস অন্ধকার মৃতপূরীতে পরিণত হয়।এমন কি কারখানার ভিতরেও অনেক আহত নিহত হয়।এতে কারখনার গাড়ির চালকের সহকারী ফরিদ উদ্দিন নিহত হয়ে হাসপাতাল মর্গে পড়ে থাকে। তার স্ত্রী রাশেদা আক্তার খবর পেয়ে হাসপাতালের মর্গে গিয়ে ফরিদেরের লাশ সনাক্ত করে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে কান্নার আহাজারিতে আকাশ বাতাস কম্পিত হয়ে উঠে।আজ রবিবার তার বাড়িতে গেলে সে তার ছোট ছোট ৩ শিশু কন্যাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে মূর্ছা যাচ্ছে।তার কান্নায় কারো বাককন্ঠ ও সাহস নেই তাকে শান্তনা দেয়ার।কদম রসুল এলাকার নিহত শামসুল আলমের ছোট মেয়ে মালেকা সিদ্দিকা কান্নার চোখের পানিতে নিজেকে ভাসিয়ে বলেন,আমি দুপুরে বাবাকে ভাত দেই। আসরের নামাজের আগে বাবা বের হয়।এরপর একটা বিকট শব্দ শুনি আমরা।কিছুক্ষণ পর মামার ফোন আসে,শুনি বাবা আহত। সবাই ছুটে যাই। কিন্তু দেখি রক্ত আর রক্ত। এ খবর শুনে মা অজ্ঞান হয়ে পড়েন।শামসুল আলমের স্ত্রী রেহেনা বেগম বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। ৬৫ বছর বয়সি শামসুল আলম একটি দোকানে বসে ছিল।বিস্ফোরণে একটি লোহার টুকরো তার মাথায় পড়ে মাথা থেঁতলে গিয়ে ছিল।তিনি গুরুতর আহত হয়ে একটু একটু জ্ঞান ছিল তখনো।পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
এদিকে দ্বিতীয় দিনের মত ফায়ার সার্ভিস বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত কারখানায় হতাহতদের খোঁজে আবার উদ্ধার কাজ শুরু করেছে।
জানা যায়, আজ রবিবার সকাল ৭টায় ফায়ার সার্ভিসের কুমিরা স্টেশনের সদস্যরা উদ্ধার কাজ চালানো অবস্হায় সকাল ৯টার সময় ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রামের উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) আবদুল হামিদ মিয়ার নেতৃত্বে আগ্রাবাদ স্টেশনের আরও একটি দল উদ্ধার অভিযানে এসে যোগ দেন। সীমা অক্সিজেন লিমিটেড কারখানায় হতাহত ব্যক্তিদের স্হানীয়রাও কারখানার বাহিরে আশে পাশেও খোঁজ করে।যেন এক বিধ্বস্ত জনগদ, শুধু আহাকার আর আহাকার।
দ্বিতীয়বার উদ্ধার অভিযান পরিচালনাকারী কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন কর্মকর্তা সুলতান মাহমদ জানান, আমরা আবার উদ্ধার কাজে নেমে কোন হতহতের কাউকে পাইনি এবং সকল কার্যক্রম এখন থেকে সমাপ্ত করা হয়।