ও মন রমদানের ঐ রোযার শেষে এলো খুশির ঈদ" বিখ্যাত এই গানের মাধ্যমেই শুরু হয় চট্টগ্রাম কালচারাল একাডেমি সিসিএ'র ঈদপূণর্মিলনী অনুষ্ঠান। এরপর শিল্পী রহমত উল্লাহর কন্ঠে কোরআন তেলোয়াত ও ইবনে ওয়াজেদের উদ্বোধনী বক্তব্য, তারপরই জমে উঠে ঈদ আড্ডা, তখন পর্যন্ত আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে অনুষ্ঠানে যোগদিয়ে ছিলেন, দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদের আহ্বায়ক জনাব ড. আ জ ম ওবায়দুল্লাহ, বিশিষ্ট কবি আশরাফ আল দ্বীন,কবি আসাদ বিন হাফিজ ও সঙ্গীতজ্ঞ আকবর খান একটু পরেই আড্ডায় এসে যোগ দেন আরেক বিশিষ্ট সঙ্গীতজ্ঞ অধ্যক্ষ চৌধুরী আব্দুল হালিম।
এরই মাঝে সঞ্চালকের ঘোষনায় স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে একের পর এক  সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী নুরুউদ্দিন শাহেদ, শিল্পী মুহাম্মদ আবু তারিক ও খুদে শিল্পী সাজিদুল করিম খান, অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করে আরেক শিশু শিল্পী আরশাদ মাহমুদ।

ঈদের দ্বিতীয় দিন( ২৩ শে এপ্রিল) রাত ৯ টায় ভার্চুয়াল মাধ্যম জুমে সিসিএ সভাপতি জনাব সেলিম জামানের সভাপতিত্ব এই অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। ঈদপূণর্মিলনী এই অনুষ্ঠানে ঈদের ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতি নিয়ে আলোচনা করেন অতিথিবৃন্দ,তারা বলেন, দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনার পর পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন শেষে আজ দ্বিতীয় দিনে ঈদপূণর্মিলনী অনুষ্ঠান উপভোগ করছি।
ঈদকে ঘিরে দেশ-বিদেশে অসংখ্য অনুষ্ঠান হচ্ছে আরো হবে, স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল, ইউটিউব সহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ঈদ উপলক্ষে আয়োজন করছে নানা অনুষ্ঠানমালা। আলোচকরা বলেন, এসব দেখলে সহজেই বুঝা যায় এদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সিংহভাগ এখোনো পশ্চিমা অপসংস্কৃতির দখলে।
ঈদের প্রকৃত সাংস্কৃতি আজ খুঁজে পাওয়া দুরূহ হয়ে পরেছে। তারা বলেন ঈদ আমাদের সাংস্কৃতিরই অংশ অথচ ঈদকে আমরা বানিয়ে ফেলেছি বিধবার শাড়ির মতো, ঈদে আলেম ওলামাদের ভুমিকা ছাড়া সুস্থ বিনোদনের জন্য আমাদের তরুণ তরুনীদের জন্য তেমন কোন জায়গা তৈরি করতে পারিনি আমরা।
একসময় ঈদে বিশাল আনন্দ মিছিল নজর কাড়ত আজ তাও হারিয়ে গেছে, অপর দিকে পহেলা বৈশাখে চালু হলো মঙ্গলশোভাযাত্রা। আলোচকবৃন্দ সিসিএর এই আয়োজনকে সময়োপযোগী আখ্যা দিয়ে আরো বলেন, আশার কথা ও বাস্তবতা হচ্ছে আজকে অপসাংস্কৃতীর মোকাবিলায় সুস্থ সাংস্কৃতির আন্দোলন পুর্বের চেয়ে অনকটা এগিয়ে, একদিন যেটাকে স্বপ্ন মনে করতাম আজ তা বাস্তবে পরিনত হচ্ছে।
সুস্থ সাংস্কৃতির চর্চা এখন এদেশের ঘরে-ঘরে দেখতে পাওয়া যায়। অতিথিবৃন্দ বলেন নতুন নতুন প্রজন্ম আসছে তাদের জন্য আমদের সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চাকে বিভিন্ন পন্তায় আরো বেগবান করতে হবে, নতুন প্রজন্মকে ঈদের নিজস্ব সাংস্কৃতি, ইতিহাস-ঐতিহ্য জানানোর পথকে সুগম করতে হবে। এজন্য সম্মিলিত উদ্যোগ এখন সময়ের অনিবার্য দাবি।